সমুদ্র ঘেরা গুজরাত মরুভূমি, পাহাড়-জঙ্গল-নদ-নদী-দ্বীপ-উপদ্বীপ সমন্বিত এক বিচিত্র ভূপ্রকৃতির অধিকারী। আকর্ষণীয় এখানকার জৈববৈচিত্রের ভাণ্ডার। তেমনই, প্রাগৈতিহাসিক আমল থেকে নানান জাতি-উপজাতি মানুষের আবির্ভাব এবং পারিপার্শ্বিকতার প্রভাবে গড়ে ওঠা বহুবর্ণী সংস্কৃতির অসংখ্য নিদর্শনে সমৃদ্ধ গুজরাত। এ সবই যে শুধু চমকপ্রদ তাই নয়, কোনও কোনওটি দুর্লভ, কোনওটি বা বিরল গোত্রীয়। পাশাপাশি, উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা, নামি-দামী হোটেল-রেস্তোরাঁ, সর্বোপরি মানুষজনের আতিথেয়তায় গুজরাত দেশি-বিদেশি পর্যটকের কাছে ভারতবর্ষের অন্যতম সেরা গন্তব্য হিসেবে বিবেচিত হয়। সেই অভি়জ্ঞতার স্বাদ নিতে চলুন এক বার ঘুরে দেখি রাজ্যটিকে। গুজরাত আয়তনে পশ্চিমবঙ্গের দ্বিগুণেরও বেশি। তাই, আমরা দু’টি পর্বে সম্পন্ন করব গুজরাত পরিক্রমা। প্রথমটি প্রধানত সৌরাষ্ট্র কেন্দ্রিক। দ্বিতীয়তে ঘুরে দেখব কচ্ছ ও অন্যান্য স্থান।

সিদি সৈয়দ মসজিদের জালির কাজ

আমদাবাদ

শুরু করব আমদাবাদ শহর থেকে ছ’শো বছরের প্রাচীন এই শহরে প্রাক মোগল স্থাপত্যের অনেকগুলো উল্লেখযোগ্য নিদর্শন বর্তমান। তার মধ্যে সিদি সৈয়দ মসজিদের পাথরের জালির কাজ, সিদি বসির মসজিদের ঝুলতা মিনার বা রানি সিপরি মসজিদের ভাস্কর্যের খ্যাতি ভুবনজোড়া। এ ছাড়াও রয়েছে প্রাচীনতম জামা মসজিদ, মরাঠা আমলের ভদ্রকালী মন্দির, হাতি সিংহ জৈন মন্দির প্রভৃতি। স্বাধীনতা আন্দোলনের স্মৃতি বিজড়িত মহাত্মা গাঁধীর সবরমতী আশ্রম এবং মোগল সম্রাট জাহাঙ্গিরের আমলে নির্মিত শাহি প্রাসাদে গড়ে ওঠা সর্দার বল্লভভাই পটেলের স্মারক সংগ্রহালয় দুটিও এ শহরের অহঙ্কার। তেমনই, অন্যান্য সংগ্রহশালার মধ্যে শ্রেয়স লোকশিল্পের জাদুঘর, ইনস্টিটিউট অব ইন্দোলজি, ক্যালিকো মিউজিয়াম অব টেক্সটাইল বিশেষ উল্লেখের দাবি রাখে। শেষেরটি ঈর্ষণীয় এ দেশের কয়েকশো বছরের প্রাচীন বস্ত্র সম্ভারের কারণে।

আরও পড়ুন: কোলভা-সেরনাবাতিম-আগোন্ডা-পালোলেম

গাঁধী-স্মৃতি, সবরমতী আশ্রম

অন্য দিকে, আধুনিক স্থাপত্যশৈলীতে নির্মিত রাজধানী শহর গাঁধীনগর। যেমন ঝাঁ চকচকে পথঘাট, তেমনই তাক লাগানো বাড়িঘর, বাজারহাট। আলাদা ভাবে উল্লেখ করতে হয় অক্ষরধাম মন্দিরটির কথা। গোলাপি বেলে পাথরে তৈরি স্থাপত্যটি গুজরাতের সুন্দর সৌধগুলির অন্যতম। সেটিকে দেখতে যাওয়ার পথেই পড়বে প্রায় পাঁচশো বছরের পুরনো পাতাল প্রাসাদ সমন্বিত আদালজ ভাও এবং সেক্টর-১-এর ইন্দ্রোদা প্রাকৃতিক উদ্যানটি। প্রথমটি আদতে একটি বিশাল আকৃতির কুয়ো তথা ইঁদারা যার বিস্ময়কর স্থাপত্যভাবনা দর্শককে মোহিত করে এবং দ্বিতীয়টির মুখ্য আকর্ষণ ডাইনোসরের ডিমের ফসিল। গুজরাতের নর্মদা অববাহিকা অঞ্চলটি কয়েক কোটি বছর আগে ডাইনোসরের অবাধ বিচরণ ক্ষেত্র ছিল।

লোথাল নগরীর ধ্বংসাবশেষ

স্থাপত্য-ভাস্কর্য কিংবা নানান ঐতিহাসিক উপাদানের পাশাপাশি আমদাবাদের উৎসবাদিও পর্যটক মহলে বিশেষ সমাদৃত। তার মধ্যে পৌষ সংক্রান্তিতে যেমন আসর বসে আন্তর্জাতিক ঘুড়ি উৎসবের, শারদ উৎসবে তেমনই নবরাত্রি পালা। সে সময় সাবেক পোশাক-অলঙ্কারে সুসজ্জিত নারী-পুরুষ দলবদ্ধ ভাবে মেতে ওঠে গরবা, ডান্ডিয়ার তালে তালে। আপনিও সামিল হতে পারেন সরকারি ব্যবস্থাপনায় বস্ত্রাপুরের গুজরাত পুর উন্নয়ন নিগমের (জি এম ডি সি) নবরাত্রির সান্ধ্যবাসরে। মানুষজনের আতিথেয়তা এবং স্বতস্ফূর্ততায় কখন যে রাত পেরিয়ে যাবে টেরও পাবেন না। তেমনই, আমদাবাদকে বিদায় জানানোর আগে একটা সন্ধ্যা কাটাতে ভুলবেন না কংকারিয়া সরোবরের সান্নিধ্যে। ঐতিহ্য ও আধুনিকতার মেলবন্ধনে সেজে ওঠা হজ-ই-কুতুব-এর নির্মল বাতাস এবং আনন্দোচ্ছ্বল পরিবেশ সঞ্জীবনী সুধার মতো আপনাকে উজ্জীবিত করবে আগামী দিনের পথ চলায়।

আরও পড়ুন: মেঘ-পাহাড়ের টানে শিলং আর মৌসিনরাম

আদালজ ভাও- এ পাথরের অলংকরণ

জুনাগড়

পরের গন্তব্য দুশো পঞ্চাশ কিমি দূরের জুনাগড়। পথ চলতে দেখে নেওয়া যাবে নল সরোবর পাখিরালয় এবং হরপ্পা সভ্যতার বন্দরনগরী লোথালের ধ্বংসাবশেষ। তবে নল সরোবর ঘুরে দেখতে গেলে বেরোতে হবে ভোরের আলো ফোটার আগে। শীতের দিনগুলোতে সেখানে দেশি-বিদেশি পাখির মেলা বসে। অন্য দিকে, লোথালে পৃথিবীর প্রাচীনতম নৌবন্দর, পাথরের পুতির মালা তৈরির চুল্লি, পয়ঃপ্রণালী যুক্ত পোড়া ইটের তৈরি বাড়িঘরের মাঝে দাঁড়িয়ে নিশ্চিত ভাবে আপনি গুলিয়ে ফেলবেন প্রাচীনতার সংজ্ঞা। সাড়ে চার হাজার বছর মনে হবে নিছকই গল্পকথা। জাদুঘরটির (শুক্রবার বন্ধ) ভেতরটা তেমনই মাছ ধরার বড়শি থেকে স্বর্ণালঙ্কারে সাজানো। তবে সেখানেও আলিঙ্গনাবদ্ধ নারী-পুরুষের কঙ্কাল দু’টি যারপরনাই বিস্মিত করবে আপনাকে।

অশোকের জুনাগড় লিপি

অন্য দিকে, জুনাগড় শহরটিও দুই থেকে আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন জনপদ গিরিনগরের স্মৃতি বিজড়িত। অশোকের শিলালিপি, পাহাড়চূড়ার বৌদ্ধ বিহারগুলিই তার সাক্ষ্য দেয়। এমনকী, অষ্টম-নবম শতকে গুর্জর-প্রতিহারদের তৈরি দুর্গটিও মনে করা হয় মৌর্য আমলের প্রাচীন কোনও গড়ের উপর নির্মিত। যার থেকে নতুন শহরের নাম জুনাগড় তথা পুরনো কেল্লা। দ্রষ্টব্যের তালিকায় বৌদ্ধ বিহারগুলি ছাড়াও দুর্গটিতে রয়েছে রাজপুত আমলের ভাও, মুসলিম আমলের মসজিদ। পাঁচশো বছরের পুরনো মিশরের তৈরি কামান দু’টিও উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি শহর জুড়ে ছড়িয়ে আছে ববি নবাবদের তৈরি প্রাসাদ, সমাধিসৌধ, বাগিচা, বাঁধ প্রভৃতি। তবু বিশেষ ভাবে উল্লেখ করতে হয় অশোকের লিপিসম্বলিত শিলাটির কথা। লেখটি যেমন আমাদের দেশের প্রাচীনতম দলিল হিসেবে বিবেচিত হয়, তেমনই, খ্রিস্টীয় দ্বিতীয় শতকে শকরাজা রুদ্রদামন এবং পঞ্চম শতকে স্কন্দগুপ্তও তাঁদের লেখগুলির জন্য বেছে নেন ওই শিলাটিকেই।

 

গির

জুনাগড় থেকে মাত্র পঞ্চাশ কিমি দূরে এশীয় সিংহের শেষ ঠিকানাটি নিঃসন্দেহে এই পর্বের সেরা গন্তব্য। বছরে দেশ-বিদেশের লক্ষাধিক পর্যটকের সমাগম হয় শুধু এক বার পশুরাজের দর্শন পেতে। বন দফতরের অনুমতিতে বনভ্রমণের ব্যবস্থাও হয় জঙ্গলের আটটি বিশেষ অঞ্চলে। সিংহ ছাড়াও চিতাবাঘ, হায়না, শিয়াল, নিলগাই, সম্বর, চিতল প্রভৃতির সঙ্গে অজস্র পাখিও রয়েছে গির জাতীয় উদ্যানের আশ্রয়ে। কমলেশ্বর বাঁধে রয়েছে অসংখ্য কুমির। এখানে দেবলিয়র ইন্টারপ্রিটেশন সেন্টারটির আকর্ষণও কম নয়। বুধবার বাদে সপ্তাহের অন্য দিনগুলোতে সারা বছরই সেখানে বন্যজন্তু দেখার সুযোগ মেলে ঘণ্টাখানেকের সাফারিতে।

গিরের জঙ্গলে

সোমনাথ

বনভ্রমণ সারা হলে সে দিনই পৌঁছে যাওয়া যায় চল্লিশ কিমি দূরের সোমনাথে। দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের অন্যতম এই তীর্থ বহু প্রাচীন। মহাভারতে উল্লেখ মেলে প্রভাস তীর্থ হিসেবে। তবে বর্তমান মন্দিরটি তৈরি হয়েছে স্বাধীনতার পরে। চালুক্য শৈলীর অনুসরণে নির্মিত দেবালয়টি অতীত ঐতিহ্য এবং সমৃদ্ধির এক উজ্জ্বল উদাহরণ। দিগ্বিজয় তোরণ পেরতেই নজরে পড়বে স্বর্ণাভ বেলেপাথরের মন্দিরটি ধাপে ধাপে মাথা তুলেছে মখমল সবুজ ঘাসের গালিচায়। পেছনে আরব সাগরের সুনীল জলরাশির অনন্ত বিস্তার। প্রথম দেখাতেই ভাল লেগে যায়। কিন্তু এটিই একমাত্র দর্শনীয় নয়। মন্দির চত্বরেই রয়েছে আঠারো শতকে তৈরি ইন্দোরের রানি অহল্যাবাঈয়ের পুরনো মন্দিরটিও। তবে বিগত হাজার বছরের ইতিহাসের মুখোমুখি দাঁড়াতে আপনাকে এক বার ঢুঁ মারতেই হবে প্রভাস পাটন সংগ্রহালয়ের দরজায়।

সোমনাথ মন্দির

সমুদ্রকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠলেও সোমনাথের সৈকত কিন্তু পর্যটক-বান্ধব নয়। এ কথা সমান ভাবে প্রযোজ্য প্রায় গোটা রাজ্যের ক্ষেত্রেই। দীর্ঘ ১৬০০ কিমি ব্যাপ্ত তটরেখা বরাবর গুজরাতিরা যত বন্দর বানিয়েছেন, তুলনায় সমুদ্রকেন্দ্রিক পর্যটনকেন্দ্র প্রায় নেই বললেই চলে। তাই আগ্রহীরা সোমনাথ থেকে পাড়ি জমান দিউ-এর (৯০ কিমি) উদ্দেশে। সেখানকার নাগোয়া এবং চক্রতীর্থ সৈকত দু’টি আকর্ষণীয়। পাশাপাশি, একবেলার ছোট্ট সফরে ঘুরে নেওয়া যায় পর্তুগিজ স্মৃতিমাখা দুর্গ, জাদুঘর, গির্জাগুলিও।

একাদশ শতকের দেবী মহেশ্বরী

দিউ-পোরবন্দর

দিউ থেকে পোরবন্দর হয়ে পরবর্তী গন্তব্য দ্বারকা। আমদাবাদ থেকে লোথাল হয়ে ভেলাভাদর কৃষ্ণসার অভয়ারণ্য, জৈনতীর্থ পালিতানা, বন্দরনগরী ভাবনগর, বৌদ্ধ স্মৃতিবিজড়িত তালেজা ঘুরে বিকল্প পথেও পৌঁছতে পারেন দিউ-এ। সে ক্ষেত্রে দিউ থেকে সোমনাথ, গির, জুনাগড় হয়ে পোরবন্দর, দ্বারকার পথে চলা যেতে পারে।

দিউ থেকে পোরবন্দর প্রায় ২১৫ কিলোমিটার পথ। সেখান থেকে দ্বারকা আরও প্রায় ৯০ কিমি। পথের অনেকটা অংশ সমুদ্রের ধারে ধারে। তাই, চলার পথে মাঝে মাঝেই সমুদ্রসঙ্গ মেলে, একঘেয়েমি কাটে। সুন্দর রাস্তা, ধীরে সুস্থে চললেও ঘণ্টা তিনেকেই পৌঁছনো যায় পোরবন্দরে। তেমনই, ঘণ্টা দু’য়েকে দেখে নেওয়া যায় মহাত্মা গাঁধী, কস্তুরবার জন্মভিটা, গাঁধী স্মারক-কীর্তি মন্দির প্রভৃতি। আগ্রহীরা ঘুরে নিতে পারেন এখানকার ছোট্ট পাখিরালয়টিও। আয়তনে ছোট হলেও শীতে এখানে দেখা মেলে কানঠুটি, গগনভেড়, ক্রৌঞ্চ, কাস্তেচরা, সোনাজঙ্ঘা, খুন্তেহাঁস, মেটেহাঁস, কামপাখি প্রভৃতির বিচিত্র সমাবেশ। এ ছাড়াও এ শহরে রয়েছে বিবেকানন্দের পোরবন্দর নিবাসের স্মারক ‘বিবেকানন্দ স্মৃতি সৌধ’ এবং কৃষ্ণসখা সুদামার স্মৃতি মন্দির দু’টিও। উল্লেখ্য, আজকের পোরবন্দরই অতীতের সুদামাপুরী।

জৈন মন্দির, পালিতানা

দ্বারকা

কৃষ্ণসখার রাজ্য ছেড়ে এ বার আমরা পাড়ি জমাব কৃষ্ণপুরী দ্বারকায়। বলাই বাহুল্য, আজকের দ্বারকা মহাভারতের দ্বারকা নয়, এখনকার মূল মন্দিরটি পনেরো-ষোলো শতকের। তবে গোমতী সঙ্গমে দ্বারকা তীর্থের প্রাচীনতার সাক্ষ্য দেয় অষ্টম শতকের শঙ্করাচার্য প্রতিষ্ঠিত সারদা মঠটি। কৃষ্ণ এখানে পূজিত হন দ্বারকাধীশ তথা রণছোড়জি নামে। কথিত আছে, সাধিকা মীরাবাঈ এ মন্দিরেই তাঁর আরাধ্য দেবতায় লীন হয়েছিলেন।

বেট দ্বারকার পথে

অন্যান্য দেবদেবীর মধ্যে অম্বিকা, দেবকী, বলরাম, দুর্বাশামুনি রয়েছেন আলাদা আলাদা মন্দিরে। অন্য দিকে, বেট দ্বারকার অবস্থান প্রায় ৩০ কিমি দূরে ওখা বন্দর সংলগ্ন একটি দ্বীপ। সেখানকার মন্দির দর্শনের পথে সংক্ষিপ্ত এক সমুদ্রযাত্রার স্বাদ মেলে। ফিরতি পথে দেখে নেওয়া যায় কৃষ্ণজায়া রুক্মিণী দেবীর মন্দিরটিও। দ্বারকায় কৃষ্ণের পাটরানি দেবী রুক্মিণী, শাস্ত্রে যেমন বলেছে, রুক্মিণী দ্বারকাত্যস্তু রাধা বৃন্দাবনে।

রুক্মিণী মন্দির, দ্বারকা

জামনগর

চলতে চলতে অবশেষে আমরা সৌরাষ্ট্র পর্বের শেষ পর্যায়ে জামনগরে পৌঁছব। অতীতের জাদেজা রাজপুতদের রাজ্যপাট নৌবন্দর এবং পেট্রোলিয়াম শিল্পতালুকের দৌলতে আজও সমৃদ্ধশালী। শহরের কেন্দ্রস্থলে জমজমাট লাখোটা লেক এবং জাদুঘর। শহর জুড়ে ছড়িয়ে আছে আদেশ্বরনাথ, নেমিনাথের জৈন মন্দির, খিজাড়ি মন্দির, রতনবাঈ মসজিদ প্রভৃতি। চাঁদি বাজারটিও উল্লেখ্য। তবু আমাদের আকর্ষণের কেন্দ্রে থাকবে সামুদ্রিক জাতীয় উদ্যান নারারা টাপু এবং খিজাড়িয়া পাখিরালয় দু’টি। দ্বারকা থেকে জামনগরের (১৩০ কিমি) পথে প্রায় ৯০ কিমি দূরে নারারা দ্বীপের অবস্থান। ভাটার সময় এখানেই দেখা মেলে সামুদ্রিক নানা প্রজাতির শামুক, প্রবাল, মাছ, কাঁকড়ার। দেখতে পাবেন সি অ্যানেমোন, সি কিউকাম্বার, স্টার ফিশ, অক্টোপাস, স্টিং রে’র মতো চেনা-অচেনা সামুদ্রিক প্রাণী-উদ্ভিদের। এ সবের সাক্ষাৎ পেতে নামতে হবে পায়ের পাতা ভেজানো জলে। কোথাও বড়জোর হাঁটুজল। তবে সঙ্গে গাইড থাকা জরুরি।

নারারা টাপু

বন দফতরের অনুমতি মিলবে নারারা দ্বীপেই। অনুরোধে বনবিভাগের কর্মীরাও সাহায্য করতে পারেন জলজ প্রাণীদের খুঁজে পেতে। নইলে জামনগরের বন দফতরের দ্বারস্থ হতে হবে। জলজ প্রাণীদের আকর্ষণে নারারা দ্বীপের বাদাবন নানা পাখির আশ্রয়স্থলও বটে। চলতে ফিরতে দেখাও মেলে তাদের। তবে লোহাজঙ্ঘা, খুন্তেবক, মাঠচিল, কোড়াল বা ডালমেশিয়ান পেলিকেন, ইন্ডিয়ান স্কিমার-এর মতো দুর্লভ পাখির দেখা পেতে আপনাকে এক বার আসতেই হবে সালিম আলির অন্যতম প্রিয় খিজাড়িয়া পাখিরালয়ে। সমুদ্রের নোনাজল, বাদাবন, খাঁড়ি, নিচু জলাভূমির পাশাপাশি মিষ্টি জলের বৈচিত্রপূর্ণ সমাবেশের কারণে স্থানীয় এবং পরিযায়ী মিলিয়ে প্রায় তিনশো প্রজাতির পাখির ঘর-সংসার সেখানে।

দেখা মিলতে পারে এমন জলজ প্রাণীদের

কয়েকটি দরকারি তথ্য

যাতায়াত: ১২৮৩৪ হাওড়া-আমদাবাদ এক্সপ্রেস (প্রতি দিন) ছাড়াও ১২৯০৬ পোরবন্দর এক্সপ্রেস (মঙ্গল, শুক্র, শনি), ২২৮৩০ শালিমার-ভুজ (শনি), ১২৯৪০ কবিগুরু এক্সপ্রেস (রবিবার) ও ১২৯৩৮ গর্ভ এক্সপ্রেসে (সোম) পৌঁছন যায় আমদাবাদ।

থাকাখাওয়া: ট্যুরিজম কর্পোরেশন অব গুজরাত লিমিটেড (টি সি জি এল)-এর পর্যটক আবাস রয়েছে আমদাবাদ, জুনাগড়, পালিতানা, পোরবন্দর এবং দ্বারকায়।

আগাম অনুমতি পেতে লগ অন করুন:

ক) ক্যালিকো মিউজিয়াম: www.calicomuseum.org

খ) গির: www.girlion.in (১৬ জুন থেকে ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত বন্ধ থাকে)

হোটেল/গাড়ি বুকিং কিংবা প্রয়োজনীয় তথ্যের জন্য যোগাযোগ করুন: টি সি জি এল-এর কলকাতা অফিসে। ২৩০-৭, চিত্রকূট বিল্ডিং (অষ্টম তল), এজেসি বসু রোড, কলকাতা-২০। (০৩৩) ২২৮৭৪৩১৭/ ৯৮৩০৯৪৪৩২৭/ ৯৮৩৬৩২৬২৯০

ওয়েবসাইট: www.gujarattourism.com

 

লেখক পরিচিতি: দীর্ঘ প্রায় ৪০ বছর ধরে পায়ের তলায় সর্ষে গীতা পালিতের। ২০০২-এ হিমালয়ে ট্রেকিংয়ের উপর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশ। পরে স্বামী সুপ্রিয় করের সঙ্গে যৌথ ভাবে লেখেন ‘বাংলার মেলা’, ‘পর্যটনের গুজরাত’ এবং ‘জঙ্গলকথা’। দীর্ঘ দিন ধরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় তাঁর ভ্রমণ সংক্রান্ত লেখা প্রকাশ পাচ্ছে। এখনও সুযোগ পেলেই হিমালয় ডাকে ষাটোর্ধ্ব গীতাকে।

ছবি: সুপ্রিয় কর