Saajghor Contest

সাত দশকের দোরগোড়ায় রেশম শিল্পী, শাড়ির গল্পে আর অন্দরসজ্জার জাদুতে সেরার সম্মান পেলেন ১১ জন

এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো
শেষ আপডেট: ২৮ জানুয়ারি ২০২৬ ২৩:৫২
Share:
০১ ১২

১৯৫৮ থেকে ২০২৬— মাঝের এই দীর্ঘ ৬৯ বছরে বদলেছে অনেক কিছু। কিন্তু বদলায়নি রেশম শিল্পীর সঙ্গে বাঙালির সেই অমোঘ আত্মিক টান। নীলকণ্ঠ চ্যাটার্জি স্ট্রিট থেকে শুরু হওয়া যে যাত্রা আজ সাত দশকে পা দিল, তাকে ঘিরেই মেতে উঠেছিল তিলোত্তমা। ক্যালেন্ডারের পাতায় দিনটা যখন ২৮শে জানুয়ারি, তখন উদ্‌যাপনের মেজাজে টানটান ছিল দক্ষিণাপন।

০২ ১২

ভিড় জমেছিল চেনা চত্বরে, কিন্তু অপেক্ষার পারদ চড়ছিল একজনকে ঘিরে। রেশম শিল্পীর শাড়িতে সেজে যখন অনুষ্ঠান মঞ্চে এসে দাঁড়ালেন অভিনেত্রী সন্দীপ্তা সেন, তখন যেন রেশমের আভিজাত্য আরও একবার জীবন্ত হয়ে উঠল। হাসিমুখে তিনি ভাগ করে নিলেন নিজের শাড়ি-স্মৃতি, মনে করিয়ে দিলেন কেন বাঙালির আলমারিতে রেশম শিল্পী আজও এক অপরিহার্য নাম।

০৩ ১২

এই দিনটি কেবল কেক কাটার ছিল না, ছিল গল্পের। ‘সাজঘর: আমার শাড়ি, আমার গল্প'— এই এক ডাকে সাড়া দিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিজেদের অন্দরমহল আর মনের আলমারি খুলে ধরেছিলেন অগণিত মানুষ। রেশম শিল্পীর ম্যানেজিং ডিরেক্টর সঙ্গীতা বন্দ্যোপাধ্যায় বড়ুয়ার কথায় ধরা পড়ল সেই কৃতজ্ঞতা, দীর্ঘ ৬৯ বছর ধরে যারা আগলে রেখেছেন এই শিল্পকে, আজকের সন্ধ্যাটি ছিল আসলে তাঁদেরই জয়গান গাওয়ার জন্য। একই কথা ফুটে উঠল সংস্থার চেয়ারম্যান রবীন্দ্রনাথ রায়ের মুখেও।

০৪ ১২

শাড়ির ভাঁজে লুকিয়ে থাকে কোনও না কোনও স্মৃতি। সায়নী মজুমদার যখন মঞ্চে এলেন, তাঁর সাজে যেন সেই হারানো দিনগুলোর প্রতিচ্ছবি। তাঁর পাঠানো ছবিতে যে স্নিগ্ধতা ছিল, সশরীরে পুরস্কার নেওয়ার মুহূর্তেও সেই একই আত্মবিশ্বাসের প্রতিফলন দেখা গেল। সায়নীর হাত ধরেই শুরু হলো এ দিনের বিজয়ী বরণের পালা।

০৫ ১২

আভিজাত্য আর লাবণ্য— এই দু’য়ের মিশেলে অহনা মুখোপাধ্যায় এবং সালোনা গুহ যখন পুরস্কার নিতে উঠলেন, রেশম শিল্পীর স্টোরে তখন করতালির রোল। শাড়ির আঁচলটা ঠিক কী ভাবে কাঁধে ফেললে আভিজাত্য ফুটে ওঠে, কিংবা রঙের কারুকাজে কী ভাবে নিজেকে ভিড়ের মধ্যে আলাদা করে চেনা যায়, তা যেন এই দুই বিজয়িনীর প্রতিটি পদক্ষেপে স্পষ্ট ছিল।

০৬ ১২

পেশার ব্যস্ততাকে সরিয়ে রেখেও ডঃ পূজাঞ্জলি রায় প্রমাণ করলেন, শাড়ির প্রতি টান মজ্জাগত। তাঁর মার্জিত উপস্থাপনা যেমন নজর কেড়েছে, তেমনই শাওন সেনের আধুনিক ফ্যাশন সেন্স বুঝিয়ে দিল— ট্র্যাডিশনাল শাড়িকেও কীভাবে আজকের প্রজন্মের উপযোগী করে তোলা যায়। দুই প্রজন্মের দুই বিজয়িনীকে পাশাপাশি দেখে মুগ্ধ হলেন উপস্থিত সকলেই।

০৭ ১২

শাড়ি বা রেশম মানেই কি কেবল নারীর সাজ? সেই ধারণা ভেঙে দিলেন শাশ্বত দত্ত রায়। পুরুষদের আভিজাত্য যে রেশমের কারুকাজে কতটা বর্ণময় হতে পারে, শাশ্বতর ব্যক্তিত্বে তা ফুটে উঠেছিল। সন্দীপ্তা সেনের হাত থেকে পুরস্কার নেওয়ার সেই মুহূর্তটি ছিল অনুষ্ঠানের অন্যতম সেরা ফ্রেম।

০৮ ১২

স্টাইল আর ঐতিহ্যের সার্থক মেলবন্ধন ঘটালেন রিতেশ পাল এবং আবুল কালাম শামিউল আহসান। রেশম শিল্পীর তৈরি পোশাকে পুরুষদের এই দৃপ্ত উপস্থিতি প্রমাণ করল যে, আধুনিক সাজগোজের মানচিত্রেও বাংলার হস্তশিল্প তার সিংহাসন ধরে রেখেছে। তাঁদের সাবলীলতা দেখে মুগ্ধ হয়েছেন বিচারক থেকে শুরু করে উপস্থিত সাধারণ দর্শকও।

০৯ ১২

অনুষ্ঠান মঞ্চে সবথেকে বেশি হাততালি কুড়িয়ে নিল ছোট্ট আহান সেন চৌধুরী। বয়সে ছোট হলে কী হবে, রেশম শিল্পীর সাজে তার রাজকীয় উপস্থিতি ছিল দেখার মতো। খুদে এই সদস্যের চোখেমুখে যে আনন্দ ধরা পড়ল, তা যেন রেশম শিল্পীর আগামী ৭০ বছরের জয়যাত্রারই আগাম বার্তা দিয়ে গেল।

১০ ১২

মিষ্টি হাসি আর আত্মবিশ্বাসী ভঙ্গিমায় মঞ্চ মাতিয়ে দিল খুদে আরাধ্যা চক্রবর্তী। সন্দীপ্তার হাত থেকে যখন সে উপহারটি তুলে নিল, ক্যামেরার ফ্ল্যাশবাল্বগুলো তখন যেন এক লহমায় স্থির হয়ে গিয়েছিল। আগামী দিনের এই ছোট্ট প্রতিনিধিরাই যে বাঙালির ঐতিহ্যের আসল উত্তরাধিকারী, তা আরাধ্যার সাজেই ছিল পরিষ্কার।

১১ ১২

ঘরই তো মনের আয়না। রাতূলা চক্রবর্তী তাঁর বাড়ির এক কোণকে যেভাবে সাজিয়ে তুলেছিলেন, তাতে ফুটে উঠেছিল এক অদ্ভুত শান্তি আর রুচিবোধ। যদিও বিশেষ কারণবশত তিনি এই অনুষ্ঠানে স্বশরীরে উপস্থিত থাকতে পারেননি। তবে অনুষ্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনি অনলাইনে উপস্থিত ছিলেন।

১২ ১২

অনুষ্ঠানের শেষে এক ফ্রেমে ধরা দিলেন ১১ জন বিজয়ী, সঙ্গে সন্দীপ্তা সেন এবং রেশম শিল্পী পরিবার। ৬৯তম জন্মদিনের এই সন্ধ্যা কেবল উপহার দেওয়ার ছিল না, ছিল ঐতিহ্যের মশালকে পরের প্রজন্মের হাতে তুলে দেওয়ার। স্মৃতি, আড্ডা আর ভালোলাগার রেশটুকু সঙ্গে নিয়েই ইতি পড়ল এক বর্ণময় উদ্‌যাপনের। এটি একটি স্পনসর্ড প্রতিবেদন। এই প্রতিবেদনটি ‘রেশম শিল্পী’—এর সঙ্গে এবিপি ডিজিটাল ব্র্যান্ড স্টুডিয়ো দ্বারা যৌথ উদ্যোগে প্রকাশিত।

(সবচেয়ে আগে সব খবর, ঠিক খবর, প্রতি মুহূর্তে। ফলো করুন আমাদের Google News, X (Twitter), Facebook, Youtube, Threads এবং Instagram পেজ)
Follow us on:
আরও গ্যালারি