Public Sector Banks

তিন বছরে ব্যাঙ্কে লক্ষাধিক কর্মী নিয়োগের দাবি কেন্দ্রের, মানতে নারাজ সংগঠনগুলি

কেন্দ্রের যে বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তা বৃহস্পতিবার জারি করেছে অর্থ মন্ত্রক। সেখানে বলা হয়েছে, ব্যাঙ্কে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছে ‘ইনস্টিটিউট অব ব্যাঙ্কিং পার্সোনেল সিলেকশন’ (আইবিপিএস)।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ০১ মে ২০২৬ ০৮:৫৭
Share:

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

কেন্দ্র দাবি করেছে, গত আর্থিক বছরে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কগুলির জন্য ৫০,০০০ কর্মপ্রার্থীকে বাছাই করে ‘অফার লেটার’ দেওয়া হয়েছে। এর আগে ২০২৩-২৪ সালে সেই সংখ্যা ছিল ৩০,৮২৭। আর ২০২৪-২৫ সালে ৩৭,৮৬০। তবে কেন্দ্রের এই দাবি মানতে নারাজ ব্যাঙ্ক শিল্পের ইউনিয়নগুলি। তাদের অভিযোগ, ব্যাঙ্কগুলি কর্মীর অভাবে চরম বিপাকে পড়েছে। পরিষেবা ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে বহু ক্ষেত্রে। সরকারের দাবি অনুযায়ী এত কর্মী নিয়োগ করা হলে পরিস্থিতি এমন সঙ্গীন হত না। শুধু তাই নয়, ব্যাঙ্কগুলির বিভিন্ন দাবি-দাওয়ার অন্যতম যে কর্মী নিয়োগ, তা-ও মনে করিয়ে দিচ্ছে তারা।

কেন্দ্রের যে বিজ্ঞপ্তি নিয়ে বিতর্ক দানা বেঁধেছে, তা বৃহস্পতিবার জারি করেছে অর্থ মন্ত্রক। সেখানে বলা হয়েছে, ব্যাঙ্কে কর্মী নিয়োগের প্রক্রিয়া পরিচালনা করেছে ‘ইনস্টিটিউট অব ব্যাঙ্কিং পার্সোনেল সিলেকশন’ (আইবিপিএস)। উদ্দেশ্য, রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কের কার্যকারিতা বাড়ানো এবং পরিচালন সংক্রান্ত সংস্কার বাস্তবায়িত করা। মন্ত্রকের দাবি, কর্মী নিয়োগের ফলে ব্যাঙ্কের কর্ম ক্ষমতা বাড়ছে। কমছে কর্মীদের কাজের চাপ। এ ছাড়া, গ্রাহক পরিষেবার মানও উন্নত করার পথ এটি। পাশাপাশি ব্যাঙ্কিং পরিষেবা নেই অথবা তুলনামূলক ভাবে কম আছে যে সব অঞ্চলে, সেখানে তা প্রসারের ব্যবস্থা করা যাবে। যে সব মানুষ এখনও ব্যাঙ্কিং পরিষেবার বাইরে আছেন, তাঁদেরও তাতে শামিল করা যাবে।

ব্যাঙ্ক শিল্পের ইউনিয়নগুলির দাবি, সরকার নিজের দেওয়া তথ্য মনে রাখেনি। গত বছর ২২ জুলাই রাজ্যসভায় পেশ করা কেন্দ্রীয় অর্থ প্রতিমন্ত্রী পঙ্কজ চৌধরীর পরিসংখ্যানের উল্লেখ করে ব্যাঙ্ক কর্মী সংগঠন এআইবিইএ-র সভাপতি রাজেন নাগর বলেন, “২০২৩-২৪ সালের তুলনায় ২০২৪-২৫ সালে সিংহভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কেই কর্মী সংখ্যা কমেছে। যেমন, ব্যাঙ্ক অব বরোদায় ২০২৩-২৪ সালে মোট কর্মী ছিল ৭৪,২২৭ জন। কিন্তু ২০২৪-২৫ সালে তা নেমেছে ৭৩,৭৪২-এ। ২০২০-২১ সাল থেকে পাঁচ বছরে সেখানে কর্মী কমেছে ৮২৭৫ জন।”

‘ন্যাশনালাইজ়ড ব্যাঙ্ক অফিসার্স ফেডারেশন’-এর সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দাস বলেন, “সরকারের দেওয়া তথ্যের সঙ্গে আমাদের অভিজ্ঞতা মিলছে না। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে প্রচুর খালি পদ পড়ে রয়েছে। অথচ কর্মী অবং অফিসারদের সাধারণ কাজের অতিরিক্ত বহু সরকারি প্রকল্প রূপায়নের কাজও করতে হচ্ছে। এতে তাঁদের বোঝা বেড়েছে। ঝুঁকিও তৈরি হচ্ছে।” সংশ্লিষ্ট সকলেরই দাবি, অবিলম্বে ব্যাঙ্কে কর্মী নিয়োগ বাড়ানো হোক। গ্রাহকের স্বার্থেই সেটা জরুরি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন