হরমুজ় পার করে মুম্বইয়ের বন্দরে এলপিজি খালাস করছে ‘জগ বসন্ত’ জাহাজটি। এ সপ্তাহে সেটি ভারতে পৌঁছয়। ছবি: রয়টার্স।
জ্বালানি নিয়ে আমজনতা যাতে আতঙ্কিত না হন, সে জন্য শুক্রবারই আবেদন করেছিল সব তেল সংস্থা। শনিবার এলপিজি সিলিন্ডার নিয়ে ফের একই আর্জি জানাল পেট্রলিয়াম মন্ত্রক। কেন্দ্র জানিয়েছে, দেশে যথেষ্ট এলপিজি মজুত রয়েছে। হরমুজ় প্রণালী দিয়ে ধীরে ধীরে একাধিক জাহাজ গ্যাস নিয়ে ভারতের দিকে আসছে। ফলে আগামী দিনে সমস্যা মিটে যাবে। অযথা চিন্তার কিছু নেই। এ দিনই প্রায় ৪৭,০০০ টন এলপিজি বোঝাই জাহাজ ‘গ্রিন সানভি’ হরমুজ় পার করেছে। সোমবার সেটি ভারতে চলে আসবে। আরও একটি জাহাজ ‘সি বার্ড’ ইরান থেকে ৪৪,০০০ টন এলপিজি নিয়ে এ সপ্তাহেই এসেছে। এই নিয়ে আটটি ভারতীয় জাহাজ হরমুজ় পার করল। যুদ্ধের প্রেক্ষিতে যা নজির বলেই দাবি কেন্দ্রের। গভীর কূটনৈতিক সম্পর্কের কথা জানিয়ে কয়েকটি দেশের পাশাপাশি ‘বন্ধু রাষ্ট্র’ ভারতের বেশ কয়েকটি জাহাজকে ছাড় দেওয়ার কথা জানিয়েছে ইরানও।
কেন্দ্রের এই বার্তার মধ্যেও ক্রেতাদের অবস্থা খুব একটা পাল্টায়নি বলেই অভিযোগ। সশ্লিষ্ট মহলের মতে, যত দিন না এলপিজি পরিস্থিতি স্বাভাবিক হচ্ছে, তত দিন সিলিন্ডার পেতে ঘাম ঝরাতে হবে। ডিলারদের বড় অংশের দাবি, তেল সংস্থাগুলির গড়িমসির কারণে সমস্যা রয়েই যাচ্ছে। বেশির ভাগ গ্রাহক বুকিং-এর দিন পনেরো বাদে সিলিন্ডার পাচ্ছেন। অনেকে একবারে বুকিং করতে পারছেন না। পারলে ডেলিভারি কোড সময়ে আসছে না। ডিলারেরা এ জন্য তেল সংস্থার সফটওয়্যার ও গোটা ব্যবস্থায় ত্রুটির দিকেই আঙুল তুলছেন। তাঁদের দাবি, আগে এই বিষয়ে নজর দিক সংস্থাগুলি। তাতে বরং পরিস্থিতি কিছুটা শোধরাতে পারে।
তথ্য বলছে, এখনও হরমুজ়ে ভারতের ১৭টি জাহাজ আটকে। সিংহভাগেই রয়েছে এলপিজি। একাংশের বক্তব্য, এগুলিতে যুদ্ধ শুরুর আগে বা প্রথম দিকে এলপিজি বোঝাই হয়েছিল। তার পরে পশ্চিম এশিয়ার বিভিন্ন দেশের অধিকাংশ গ্যাস কারখানা নষ্ট হয়েছে। ফলে দিনদশেক বাদে চাহিদা মেটানোর এলপিজি কোথা থেকে আসবে, সেটাই প্রশ্ন।
তেল সংস্থাগুলি শুক্রবার জানিয়েছিল, বাণিজ্যিক চাহিদার ৭০% সিলিন্ডার দেওয়া হচ্ছে। গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে গৃহস্থের সিলিন্ডারকে। এ দিন মন্ত্রক বলেছে, গতকাল ৫১ লক্ষ সিলিন্ডার ডেলিভারি হয়েছে। মোট বুকিং-এর ৯৫% নেটে হচ্ছে। বেআইনি মজুত ও লেনদেন রুখতে ৩৭০০-এর বেশি জায়গায় তল্লাশি চলেছে। ৮৫৫টি এফআইআর ও হাজারের বেশি শো-কজ় করা হয়েছে। ২৭ জন ডিলারকে নিলম্বিত করা হয়েছে। উদ্ধার হয়েছে কয়েক হাজার সিলিন্ডার।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে