Cooking Gas

২১ নয়, ২৫ দিন অন্তর করা যাবে গ্যাসের বুকিং, রাতারাতি সিদ্ধান্ত বদল করল কেন্দ্র

ইন্ডিয়ান অয়েল সূত্রের দাবি, কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণত দৈনিক গড়ে ১-১.২ লক্ষ গ্যাস বুকিং হয়। শনিবার সেই সংখ‍্যা ২ লক্ষ পেরিয়েছে। সরকারি ভাবে এই তথ‍্য দেওয়া হয়নি।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৮ মার্চ ২০২৬ ০৭:১০
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে দেশে যাতে রান্নার গ‍্যাসের জোগান না কমে, তার জন‍্য শুক্রবারই একাধিক পদক্ষেপের কথা ঘোষণা করে কেন্দ্র। যার অন্যতম ছিল দু’টি সিলিন্ডারের বুকিং-এর মধ্যে ২১ দিনের বাধ্যতামূলক ফারাক। শনিবার সেই সময় বাড়িয়ে ২৫ দিন করল তারা। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, দেশে আপাতত গ্যাসের জোগানে সমস্যা নেই। সরকার এই বার্তা দেওয়ার পরেও বহু জায়গায় ‘প্যানিক বুকিং’ চলছে। আশঙ্কায় ভুগে গ্রাহকদের একাংশ প্রয়োজনের বেশি সিলিন্ডার কিনে রাখার চেষ্টা করছেন। জোগান মসৃণ রাখতে এটা আটকানো জরুরি। নতুন নিয়মে বুকিং-এর সংখ‍্যা কমবে। এ জন্য ডিলারদের বুকিং সংক্রান্ত সফটওয়্যারে বদল আনা হয়েছে শনিবার সকাল থেকেই।

যদিও পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হওয়া নিয়ে প্রশ্নও উঠেছে। ইন্ডিয়ান অয়েল সূত্রের দাবি, কলকাতা মেট্রোপলিটন এলাকায় সাধারণত দৈনিক গড়ে ১-১.২ লক্ষ গ্যাস বুকিং হয়। শনিবার সেই সংখ‍্যা ২ লক্ষ পেরিয়েছে। সরকারি ভাবে এই তথ‍্য দেওয়া হয়নি। তবে এতে স্পষ্ট, ‘প্যানিক বুকিং’ বাড়ছে। যা সমস‍্যা বাড়াতে পারে বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। ইন্ডেন ডিলার সংগঠনের শীর্ষ আধিকারিক বিজন বিশ্বাস জানান, মানুষ অযথা আতঙ্কিত হচ্ছেন। এখনও যথেষ্ট রান্নার গ্যাস মজুত রয়েছে। দু’টি গ্যাস বুক করার মধ্যে ২৫ দিনের ফারাক মোটামুটি স্বাভাবিক। কারণ, একটি পরিবারে সিলিন্ডার চলে তার বেশি। যাতে সমস‍্যা না হয়, তাই এই সিদ্ধান্ত।

রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলিও জানাচ্ছে, রান্নার গ‍্যাসের অভাব নেই দেশে। সূত্রের খবর, বর্তমানে যা পরিস্থিতি তাতে ইন্ডিয়ান অয়েলের অবস্থা সবচেয়ে ভাল। হিন্দুস্তান পেট্রোলিয়াম এবং ভারত পেট্রোলিয়ামের ডিলাররা অবশ্য বাণিজ্যিক সিলিন্ডারে কিছু বিধিনিষেধ আনার কথা ভাবছেন। তবে সবক’টি তেল সংস্থার জন্য নির্দেশ, গৃহস্থালির রান্নার গ‍্যাসের জোগানে যেন কোনও সমস‍্যা না হয়। সরকারের কাছে সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ সাধারণ মানুষের হেঁশেলে জ্বালানির সরবরাহ অব‍্যাহত রাখা। যদিও শনিবার বিভিন্ন জায়গা থেকে এ নিয়ে বিক্ষিপ্ত কিছু অশান্তির খবর মিলেছে। তবে বিজনের দাবি, গ্রাহকদের একাংশ ভয় পেয়ে অতিরিক্ত বুকিং করার ফলেই একটি সার্ভার বসে গিয়েছিল। তা রবিবারের মধ‍্যে ঠিক হয়ে যাবে।

এইচপিসিএল এলপিজি ডিলার্স অ‍্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় আগরওয়াল জানান, এমনিতে ১৮-২০ মার্চ পর্যন্ত মজুত রয়েছে। তবে তার মধ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে সমস‍্যা হতে পারে। তিনিও ‘প্যানিক বুকিং’ নিয়ে বিব্রত। বলছেন, ‘‘যে গ্রাহকেরা ১৮-২০ দিন আগে শেষ বার গ‍্যাস বুক করেছিলেন, তাঁরা আর তা করতে পারছেন না। ফলে ভয় পেয়ে চলে আসছেন। ভয়ের কিছু নেই। ২৫ দিন বাদে ফের বুক করা যাবে।’’ যেমন, বাগুইআটির বাসিন্দা সুমনা পাল এ দিন বুকিং করতে চেয়েও পারেননি। তাঁর দাবি, ‘‘ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ গ্যাস বুক করি। আজ বুক করতে গিয়ে না পারায় ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম। ডিলার দিন চারেক বাদে করতে বলেছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন