West Asia Impact on Indian Exports

যুদ্ধের জেরে কমল ভারতের রফতানি, গোটা বছরেই ব্যবসা ধাক্কা খাওয়ার আশঙ্কা

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করাচ্ছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। পশ্চিম এশিয়ার দেশটির পাল্টা আক্রমণে শুরু হয় পুরোদস্তুর যুদ্ধ।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ১১ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:২৮
Share:

— প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের জেরে গত মাসে ভারতের রফতানি মার খেয়েছে ৭%-৮%। ফলে পুরো অর্থবর্ষে (সদ্য পেরিয়ে আসা ২০২৫-২৬) তা ২%-৩% কমতে পারে বলে আশঙ্কা রফতানিকারীদের সংগঠন ফিয়ো-র।

সংশ্লিষ্ট মহল মনে করাচ্ছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা শুরু করেন আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইজ়রায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। পশ্চিম এশিয়ার দেশটির পাল্টা আক্রমণে শুরু হয় পুরোদস্তুর যুদ্ধ। তবে তার আগেও দীর্ঘ দিন ধরে দেশের রফতানি শিল্পকে উদ্বেগে রেখেছিলেন ট্রাম্পই। সিংহভাগ ভারতীয় পণ্যে ৫০% আমদানি শুল্ক চাপিয়েছিলেন। ফলে গত অর্থবর্ষের বড় অংশ জুড়ে কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে কাটিয়েছে ভারতীয় রফতানি। বিশেষত বস্ত্র, চামড়ার মতো এখানে তৈরি যে সব জিনিসের বৃহত্তম বাজার আমেরিকা। সে দেশের সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সেই শুল্ক বাতিল হওয়ায় চাপ কিছুটা কমতে না কমতেই আশঙ্কা বাড়ায় পশ্চিম এশিয়া। এতে রফতানির পাশাপাশি রফতানির জন্য বহু পণ্যের আমদানিও বিপাকে পড়ে।

ফিয়োর সভাপতি এসসি রলহন বলেন, ‘‘যুদ্ধের জেরে বিশ্ব জুড়ে আর্থিক সঙ্কট দেখা দিয়েছে। ফলে শুধু মার্চেই রফতানি কমেছে ৭%-৮%। পুরো অর্থবর্ষেও মার খাওয়ার আশঙ্কা। তবে সব শিল্পে রফতানি কমেনি, বরং থমকে গিয়েছে।’’ ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্য রফতানিকারীদের সংগঠন ইইপিসি-র পূর্বাঞ্চলের প্রাক্তন সভাপতি রাকেশ শাহের দাবি, “গত বছর ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যের রফতানি কমেনি। স্থির আগের অর্থবর্ষের জায়গাতেই।’’ একই দাবিইন্ডিয়ান চেম্বার অব কমার্সের টেক্সটাইল কমিটির চেয়ারম্যান সঞ্জয় জৈনের। তিনি বলেন, “২০২৪-২৫ সালের মতো গত বছরেও বস্ত্র রফতানি বৃদ্ধি ছিল ২%-৩%।’’

ফিয়ো জানাচ্ছে, ইরান যুদ্ধের কৌশল হিসেবে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ করায় উপসাগরীয় অঞ্চলের দেশগুলিতে দ্রুত রফতানিকমেছে। বাণিজ্য প্রায় বন্ধ হওয়ার অবস্থা সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, সৌদি আরব, ওমান, বাহরিন, কাতার ও কুয়েতে। বাসমতি চাল-সহ এ দেশের বিভিন্ন কৃষিপণ্যের বিরাট বাজার সেগুলি। সামুদ্রিক পণ্যও যায় হয় বিপুল। সংগঠনটির তালিকা অনুযায়ী যুদ্ধের জেরে সব থেকে বেশি মুখ থুবড়ে পড়েছে পেট্রলিয়াম পণ্য, রাসায়নিক, কৃষি সামগ্রী, প্লাস্টিক, ওষুধ ও দামি পাথর-গয়নার রফতানি। চিন্তা বাড়িয়েছে জাহাজ ভাড়া ও রফতানি পণ্যে বিমার খরচ বৃদ্ধি। আমেরিকা-ইরান দু’সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হওয়ায় এখন সংঘাত পুরোপুরি থামার আশায় দিন গুনছেন রফতানিকারীরা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন