— প্রতীকী চিত্র।
খুচরোর পরে এ বার পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের প্রভাব দেখা গেল ভারতের পাইকারি বাজারেও। বুধবার সরকারি পরিসংখ্যান জানাল, মার্চে দেশে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে ৩.৮৮%। যা ৩৮ মাস, অর্থাৎ তিন বছরেরও বেশি সময়ের মধ্যে সব থেকে বেশি। ফেব্রুয়ারিতে ছিল ২.১৩%। আগের বছরের মার্চে ২.২৫%। কেন্দ্রের দাবি, গত মাসে দেশের পাইকারি বাজারে খাদ্যপণ্যের দাম কিছুটা মাথা নামালেও, মূলত তেল-গ্যাস তৈরি পণ্যের দাম বৃদ্ধিই সার্বিক ভাবে মূল্যবৃদ্ধির হারকে ঠেলে তুলেছে। যুদ্ধের কারণে মার্চে দেশে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হারও সামান্য বেড়ে পৌঁছেছে ৩.৪ শতাংশে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পাইকারি বাজারে দাম বৃদ্ধির ধাক্কা সঙ্গে সঙ্গে খুচরো বাজারের ক্রেতার গায়ে লাগে না। বেশ কিছুটা সময় নেয়। তবে খুচরো বাজার কোন দিকে হাঁটতে পারে, তার কিছুটা ইঙ্গিত পাওয়া যেতে পারে। ভবিষ্যতে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার চড়ার গতি বহাল থাকলে খুচরো বাজারে আশঙ্কা বাড়ে।
ইরানের সঙ্গে আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যুদ্ধ শুরু হয়েছে ফেব্রুয়ারির শেষে। এর জেরে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেল-গ্যাসের দাম বেড়েছে। তার পুরো ছেঁকা এখনও খাননি এ দেশের মানুষ। রান্নার গ্যাসের দাম বাড়লেও, পেট্রল-ডিজ়েল স্থির রয়েছে। যদিও ইরান-আমেরিকার শান্তি আলোচনা ব্যর্থ হওয়ার পরে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে কোনও জাহাজই যেতে দেওয়া হবে না বলে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের হুমকি আশঙ্কা বাড়িয়েছে। অনেকেরই ধারণা, দেশের পাঁচ রাজ্যে ভোট মেটার পরে আগামী মাসে পেট্রল-ডিজ়েলের দাম বাড়তে পারে। সে ক্ষেত্রে মূল্যবৃদ্ধির হার কোথায় পৌঁছবে, প্রশ্ন থাকছেই। বিশেষত খাদ্যপণ্যের। কারণ, গরমকালে আনাজের দাম এমনিই বাড়ে। কিছু অঞ্চলে ইতিমধ্যেই খুচরো বাজারে দর মাথা তুলছে।
কেন্দ্রের তথ্যও জানাচ্ছে, যুদ্ধ শুরুর পরে বিশ্ব বাজারে যে রকম দ্রুত গতিতে তেল-গ্যাসের দাম বেড়েছে, তার প্রভাবেই ফের চড়ছে মূল্যবৃদ্ধি। ফেব্রুয়ারিতে জ্বালানি ও বিদ্যুতের পাইকারি দাম কমেছিল ৩.৭৮%। গত মাসে বেড়েছে ১.০৫%। শুধু অশোধিত তেলই বেড়েছে ৫১.৫৭%, তার আগের মাসে কমেছিল ১.২৯%। তার সঙ্গে কল-কারখানায় উৎপাদিত পণ্য, ধাতু এবং কিছু খাদ্যপণ্যের দাম মাথা তুলেছে মার্চে। তবে সার্বিক ভাবে পাইকারি বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে ১.৯%, যা ফেব্রুয়ারিতে ছিল ২.১৯%। আনাজে ৪.৭৩% থেকে নেমেছে ১.৪৫ শতাংশে। গত অর্থবর্ষে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে গড়ে ০.৭%। তার আগের বছর ছিল ২.৩%।
উপদেষ্টা সংস্থা বার্কলেজ়-এর মতে, বিশ্ব বাজারে দামি জ্বালানির প্রভাব অন্যান্য পণ্যের দামেও পড়তে শুরু করেছে। তাই আগামী দিনে দেশে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি আরও মাথাচাড়া দিতে পারে। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, জিনিসের দাম চড়লে ভবিষ্যতে সুদ বাড়াতে হতে পারে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ককে। এপ্রিলের ঋণনীতিতে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে আশঙ্কার কথা জানিয়েই সুদ স্থির রেখেছে আরবিআই। অর্থনীতিবিদ অজিতাভ রায়চৌধুরীও বলছেন, ‘‘অশোধিত তেলের দাম মার্চে প্রায় ৫২% বেড়েছে। যা সচরাচর হয় না। পাইকারি বাজারে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি মাথা নামিয়েছে ঠিকই। তবে ডিম, দুধ, মাংসের দাম বেড়েছে ৬% হারে। খুচরো বাজারে কিন্তু খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি একটু হলেও বেড়েছে। আগামী দিনে পাইকারির প্রভাব মানুষের এই খরচ আরও বাড়াতে পারে।’’ আপাতত তাই দ্বিতীয় দফায় আমেরিকা-ইরান শান্তি আলোচনায় রাজি হয় কি না, সে দিকেই নজর সকলের।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে