Butter Run Trend

পিঠে ক্রিম নিয়ে দৌড়োচ্ছেন লোকজন, এটাই নাকি নতুন রেওয়াজ! কী এই ‘মাখন-দৌড়’

এখন বিশ্বজুড়ে ‘ট্রেন্ড’ মাখন-দৌড়। মাখন নিয়ে দৌড়নো নয়, দৌড়ে মাখন তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য। কেন জনপ্রিয়তা বাড়ছে এর?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৬ এপ্রিল ২০২৬ ১০:০৫
Share:

ছবি: সংগৃহীত।

ননী চুরি করতেন বলে যশোদা বালক কৃষ্ণকে শাস্তি দিতেন। তবে এই যুগের ‘মাখন-দৌড়’-এর কথা অবশ্য জানা ছিল না যশোদার। যদি জানতেন, সন্তানকে শাসন করার বদলে তাঁর পিঠেই বেঁধে দিতেন ঘন জমাট বাঁধা ক্রিমের মতো দুগ্ধ।

Advertisement

এখন বিশ্বজুড়ে সেটাই ‘ট্রেন্ড’। মাখন-দৌড়। মাখন নিয়ে দৌড়নো নয়, দৌড়ে মাখন তৈরি করাই এর উদ্দেশ্য। পৌরাণিক কাহিনি বলে, অমৃতের খোঁজে এক সময় সমুদ্র মন্থন হয়েছিল। মাখন তৈরির জন্য মন্থনদণ্ড দিয়ে দুগ্ধ মন্থনও হয়। তবে এই মন্থন শরীরের আর তা থেকেই তাপের জন্ম— দহনক্রিয়া। সেখান থেকেই ভাল থাকার সূত্রপাত, এমনটাই বলছে ‘চার্নিং অ্যান্ড বার্নিং’-এর সাম্প্রতিক ধারা। সঙ্গে এক ব্যাগ ক্রিম থাকলেই এই খেলায় নামতে পারেন আপনিও। এ খেলার মূলমন্ত্র, পিঠে জমবে মাখন, শরীরে ঝরবে মেদ।

পন্থা সহজ। ক্রিম ভরতে হবে প্যাকেটে। তার পর তা ভরতে হবে ব্যাকপ্যাকে। ব্যাগ ভর্তি ক্রিম নিয়েই শুরু হবে দৌড়। তত ক্ষণ লাফালাফি, দৌড়, হাঁটা জারি থাকবে, যত ক্ষণ না সেই ক্রিম মন্থনের ফলে মাখনে পরিণত হচ্ছে। ক্রিম থেকে জল এবং মাখন আলাদা হলে সম্পূর্ণ হবে খেলা।

Advertisement

সমাজমাধ্যমের দৌলতে এখন অনেক ধরনের নতুন চ্যালেঞ্জ, ধারা জনপ্রিয় হচ্ছে। তেমনই একটি ‘মাখন-দৌড়’। ওজন ঝরাতে বিশ্ব জুড়ে মাখন-দৌড়ে নামছেন অনেকেই। বিষয়টি ‘আজব’, ‘উদ্ভট’ বলেই অনেকের কাছে শরীরচর্চার অনুপ্রেরণা। নিছক মজা, নতুন অভিজ্ঞতাপ্রাপ্তির টানেই অনেকে নেমেছেন এমন দৌড়ে।

ছবি: সংগৃহীত।

কেন তৈরি হচ্ছে আগ্রহ

Advertisement

শরীর ফিট রাখতে জগিং, দৌড়, মাইলের পর মাইল হাঁটা বড়ই একঘেয়ে। তবে মাখন-দৌড়ে রয়েছে চ্যালেঞ্জ, নতুনত্ব। সেটাই আগ্রহের কারণ হয়ে উঠছে অনেকের কাছেই। কত ক্যালোরি খরচ হচ্ছে, কতটা হাঁটা হল, সেই দিকে না তাকিয়ে নজর দিতে হবে ক্রিম মন্থনে। লম্বা রাস্তায় জগিং, ছোটা, লাফিয়ে-ঝাঁপিয়ে দূরত্ব পার করলে তবেই লক্ষ্যলাভ সম্ভব। মসৃণ রাস্তায় মন্থর গতিতে হাঁটলে ক্রিম আর মাখন হবে না। সুতরাং, এই শরীরচর্চা কঠোর শ্রমসাপেক্ষ। তবে একঘেয়ে নয়। মনোবিদদের মতে, এই নতুনত্বের টানেই লোকজন উৎসাহী হচ্ছেন।

ভারতে অবশ্য ক্রিম নিয়ে ছোটার ব্যাপারে তেমন আগ্রহী কেউ চোখে পড়েনি। তবে সমাজমাধ্যমে চোখ রাখলেই স্পষ্ট, দেশ-বিদেশে এমন চ্যালেঞ্জ নেওয়ার লোকের অভাবও নেই। তবে ক্রিম থেকে মাখন তৈরির জন্য প্রয়োজন হবে হাইকিং-এর। যে পথে হবে চড়াই-উতরাইয়ে মোড়া। যে পথ জগিং করা যাবে। বিদেশে এমন অনেক হাইকিং-এর সুযোগ থাকে। ফলে অনেকেই নিজের শারীরিক ক্ষমতা পরখ করছেন এই ভাবে। অনেকে আবার সমাজমাধ্যমে ভিউ পাওয়ার আশাতেও এমন ভিডিয়ো বা রিল করে পোস্ট করছেন।

মাখন তৈরি হওয়া কি সম্ভব?

ক্রমাগত জগিং করলে বা দৌড়লে শরীরে তাপ উৎপন্ন হয়। তা ছাড়া শারীরিক ঝাঁকুনি মন্থনের কাজটি করে। ক্রিম থেকে এই ভাবে মাখন তৈরি করা সহজসাধ্য নয় নিঃসন্দেহে, তবে অতিরিক্ত কায়িক শ্রমের ক্ষমতা থাকলে তা অসম্ভবও নয়। কে, কী ভাবে দৌড়চ্ছেন বা হাঁটছেন, কোন পথে যাচ্ছেন তার উপর এর ফলাফল নির্ভর করবে। দিনভর শারীরিক কসরতের পরে যদি মাখন প্রাপ্তি হয়, বিষয়টি কিন্তু মোটেও খারাপ নয়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement