আগের দু’দিন শেয়ারের দাম টানা ওঠার পরে বুধবার পড়ল সূচক। এ দিন সেনসেক্স পড়েছে ১১৯.৪৫ পয়েন্ট। এই পতনের জেরে সূচক ফের নেমে এল ২৫ হাজারের ঘরে। বাজার বন্ধের সময়ে সেনসেক্স থিতু হয় ২৫,৯৬০.০৩ অঙ্কে। এর আগে টানা দু’দিনে সূচকের উত্থান হয়েছিল ২৪০.৭৭ অঙ্ক। পাশাপাশি পতন হয়েছে ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জের সূচক নিফ্টিরও। ৩২.৭০ পয়েন্ট পড়ে নিফ্টি এ দিন শেষ হয় ৭,৮৯৬.২৫ অঙ্কে। টাকার দামে বুধবার স্থিতাবস্থাই বজায় ছিল। টাকা ১ পয়সা বাড়ায় দিনের শেষে প্রতি ডলারের দাম দাঁড়ায় ৬৬.৩৯ টাকা।
এ দিন অবশ্য লেনদেনের শুরুতে বাজার বেশ উঠছিল। আজ আগাম লেনদেনের সেট্লমেন্টের দিন। যে-সব লগ্নিকারী শেয়ার হাতে না-থাকা সত্ত্বেও তা বিক্রি করে রেখেছেন, তাঁদের আজ শেয়ার হস্তান্তর করতে হবে। তাই তাঁরা বুধবার বাজার খোলার পরেই শেয়ার কিনতে নেমে পড়েন। তাঁদের শেয়ার কেনার হাত ধরে উপরে উঠতে থাকে সূচকের পারাও। তবে লেনদেনের শেষ বেলায় মুনাফার টাকা তুলে নেওয়ার জন্য লগ্নিকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির বহর বেড়ে যায়। ফলে দ্রুত নেমে আসে সূচক।
অনিশ্চিত বাজারে সূচকের এই ধরনের ওঠাপড়াকে স্বাভাবিক বলে ব্যাখ্যা করেছেন ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন ডিরেক্টর এস কে কৌশিক। তিনি মনে করেন, আগামী বাজেট পর্যন্ত বাজার এই রকমই চলবে, যদি না দেশে অথবা আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনও ঘটনা ঘটে।
সম্প্রতি বেশ কিছু দিন ধরে সূচক পড়তে থাকায় বাজারে সার্বিক ভাবে শেয়ারের দর এখন অনেকটাই নীচে চলে এসেছে। বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই মত, এর ফলে শেয়ার কেনার ভাল সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তাঁদের মতে, দীর্ঘ মেয়াদের ভিত্তিতে এখন শেয়ারে লগ্নি করলে পরে ভাল মুনাফার মুখ দেখার সম্ভাবনা উজ্জ্বল। স্টুয়ার্ট সিকিউরিটিজের চেয়ারম্যান এবং বাজার বিশেষজ্ঞ কমল পারেখ মনে করেন, ‘‘ভারতের আর্থিক অবস্থার মোলিক উপাদানগুলি এখন যথেষ্ট মজবুত জায়গায় রয়েছে। এই মুহূর্তে কিছুটা থমকে থাকলেও ভারতের আর্থিক বৃদ্ধি খুব শীঘ্রই গতি পেতে শুরু করবে। আর্থিক সংস্কারের লক্ষ্যে কেন্দ্রীয় সরকার যে-সব পদক্ষেপ করেছে, সেগুলি আপাতত কার্যকর করা সম্ভব না-হলেও আগামী বছর বাস্তবায়িত হওযার সম্ভাবনা যথেষ্ট। সে ক্ষেত্রে শেয়ার বাজারে যে লম্বা দৌড় শুরু হবে, তা নিয়ে আমার কোনও সংশয় নেই।’’
কমলবাবুর মতো বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পণ্য-পরিষেবা কর বিলটি সংসদের সবে শেষ হওয়া অধিবেশনে পাশ না-হলেও আগামী বাজেট অধিবেশনে সেটি পাশ হওয়ার ভাল সম্ভাবনা রয়েছে। শুধু পণ্য-পরিষেবা কর বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার ইঙ্গিত মিললেই বাজার চাঙ্গা হতে শুরু করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
ভারতের আর্থিক অবস্থার হবু উন্নতির আঁচ পেয়েই বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি ফের এ দেশের বাজারে বিনিয়োগ করতে শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন কমলবাবু। সংবাদ সংস্থা পিটিআইয়ের খবর, ওই সব সংস্থা গত মঙ্গলবার ৮.৪৯ কোটি টাকার শেয়ার কিনেছে।
তবে এ দিন শুধু ভারতই নয়, এশিয়া-সহ বিশ্বের আরও বেশ কিছু শেয়ার বাজারেও সূচকের মুখ ছিল নীচের দিকেই। আইএমএফের শীর্ষ কর্তা ক্রিস্টিন ল্যাগার্দের মন্তব্য শেয়ার বাজারে বিরূপ প্রতিক্রিয়া ফেলেছে। তিনি ২০১৬ সালে বিশ্ব জুড়েই আর্থিক বৃদ্ধি ঢিমেতালে এগোবে বলে আশঙ্কা জানিয়েছেন। জার্মানির একটি সংবাদপত্রে ক্রিস্টিন মন্তব্য করেছেন, আমেরিকার অর্থনীতি ক্রমশ উন্নতি করছে। এর ফলে ওই দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভের ফের সুদের হার ফের বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া য়ায় না। শেয়ার বাজার সূত্রের খবর, ক্রিস্টিনের এই মন্তব্য এই দিন আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে বেশ কিছু শেয়ার বাজারে সূচকের পতনে ইন্ধন জুগিয়েছে।