জ্বালানি ভরার জন্য অপেক্ষায় বিমান। —ফাইল চিত্র।
ইরান-আমেরিকা-ইজ়রায়েলের যুদ্ধে পশ্চিম এশিয়া অশান্ত হওয়ায় জ্বালানি ক্ষেত্র ছাড়াও সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছে বিমান সংস্থাগুলি। এক দিকে ওই অঞ্চলের দেশগুলিতে কয়েক হাজার উড়ান বাতিল হয়েছে তাদের। অন্য দিকে বিশ্ব বাজারে তেল-গ্যাসের দাম বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে বিমান জ্বালানির (এটিএফ) দামে। যা ওই সব সংস্থার মোট খরচের প্রায় ৪০%। এই অবস্থায় পেট্রলের পরে এ বার এটিএফে ইথানল মেশাতে সায় দিল মোদী সরকার। লক্ষ্য, পণ্যটির আমদানি নির্ভরতা কমিয়ে সেই বাবদ খরচ হ্রাস করা।
সম্প্রতি এভিয়েশন টার্বাইন ফুয়েল (রেগুলেশন অব মার্কেটিং) অর্ডার, ২০০১-তে সংশোধনী এনেছে কেন্দ্র। তার অধীনে পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের জারি করা বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, এ বার থেকে এটিএফ পরিচিত হবে হাইড্রোকার্বন এবং সিন্থেটিক জ্বালানি সংমিশ্রণ হিসেবে। ইথানল ছাড়াও তার মধ্যে থাকতে পারে অন্যান্য জৈব জ্বালানি। তবে পেট্রলে যেমন ইথানল মেশানোর নির্দিষ্ট পরিমাণ বেঁধে দেওয়া হয়েছে, দেশের অভ্যন্তরে উড়ানে ব্যবহৃত এটিএফের ক্ষেত্রে এমন কোনও সীমা বাঁধা হয়নি। আন্তর্জাতিক উড়ানে অবশ্য ২০২৭ সালের মধ্যে ১% এবং ২০৩০-এর মধ্যে ধাপে ধাপে তা বাড়িয়ে ৫% করার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে আগেই।
সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, এটিএফ তৈরি হয় অশোধিত তেল থেকে। আর পশুখাদ্য, চিনি, শস্য, কৃষিবর্জ্য ইত্যাদি থেকে তৈরি হয় জৈব জ্বালানি। সারা বিশ্বেই জাপান, ব্রিটেনের মতো দেশ এটিএফে পরিবেশবান্ধব জৈব জ্বালানি মেশানোর পথে হাঁটছে। এর খরচ প্রথাগত জ্বালানির থেকে বেশি ঠিকই। কিন্তু তা এটিএফে মিশলে কম তেল আমদানি করতে হবে। যা তেল সংস্থা এবং উড়ান শিল্পের কাছে স্বস্তির হবে।
উল্লেখ্য, যুদ্ধ শুরু পরে মার্চ-এপ্রিলে এটিএফের দাম বাড়ানোর পথে হেঁটেছে তেল বিপণন সংস্থাগুলি। ১ এপ্রিল নতুন অর্থবর্ষের শুরু থেকেই এক ঝটকায় বিমান জ্বালানি এটিএফের দাম দ্বিগুণ বাড়িয়েছে তারা। যদিও তার থেকে ছাড় দেওয়া হয়েছে দেশীয় উড়ান সংস্থাগুলিকে। তাদের ক্ষেত্রে দাম বৃদ্ধির হার ৮.৫%। আর দ্বিগুণ দাম চালু হয়েছে বিদেশি সংস্থা, চার্টার বিমানের মতো কিছু ক্ষেত্রে। ফলে তাদের এটিএফের দাম ছাড়িয়েছে কিলোলিটারে ২ লক্ষ টাকা। দাম বৃদ্ধির কথা ঘোষণার সময়ে কেন্দ্র বলেছিল, ধাপে ধাপে আগামী দিনে ঘরোয়া উড়ানে ব্যবহৃত এটিএফের দাম আরও বাড়ানোর পথে হাঁটা হবে। তবে বুধবার এ প্রসঙ্গে প্রশ্ন করা হলে পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের সচিব সুজাতা শর্মার দাবি, এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে তেল বিপণন সংস্থাগুলিই।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে