LPG Cylinder Crisis

ইনডাকশন কুকারের উৎপাদন বৃদ্ধি থেকে বিশেষ ঋণ, গ্যাসের সমস্যার সঙ্গে যুঝতে জোড়া কৌশল কেন্দ্রের

যুদ্ধের জেরে সমস্যার মুখে পড়েছে তেল-গ্যাসের আমদানি। বিশেষ করে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি আমদানি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখনও গৃহস্থের হেঁশেলে তার জোগানে সমস্যা হয়নি বটে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৩৪
Share:

গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

এক দিকে ইনডাকশন কুকার, রাইস কুকার, জল গরম করার বৈদ্যুতিন হিটারের উৎপাদন বৃদ্ধি। অন্য দিকে রফতানিকারীদের জন্য ২ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্প। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ যাতে সাধারণ মানুষ ও শিল্প মহলের উপরে না পড়ে, তার জন্য এ বার দু’মুখো রণনীতি নিয়ে চলতে উদ্যোগী মোদী সরকার।

যুদ্ধের জেরে সমস্যার মুখে পড়েছে তেল-গ্যাসের আমদানি। বিশেষ করে রান্নার গ্যাস বা এলপিজি আমদানি নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এখনও গৃহস্থের হেঁশেলে তার জোগানে সমস্যা হয়নি বটে। কিন্তু ভবিষ্যতে অভাব হবে না, এমন নিশ্চয়তা নেই। তার উপর জোগানে টান না পড়লেও এলপিজি-র দাম বাড়তে পারে। কারণ বিশ্ব বাজারে দাম চড়েছে। এই অবস্থায় বহু মানুষ ইনডাকশন কুকার, রাইস কুকার বা বৈদ্যুতিন হিটার কেনার দিকে ঝুঁকছেন। এলপিজি বাঁচাতে বিকল্প রান্নার সরঞ্জাম এগুলি। ফলে ভবিষ্যতে চাহিদা আরও বাড়তে পারে। সরকারি সূত্রের খবর, যে কারণে কেন্দ্র এই সব রান্নার সরঞ্জামের উৎপাদন বাড়াতে চাইছে। শুক্রবারই এ বিষয়ে শিল্পোন্নয়ন দফতর, বিদ্যুৎ মন্ত্রক এবং ডিজিএফটি-র (ডিরেক্টর জেনারেল-বৈদেশিক বাণিজ্য) কর্তাদের মধ্যে বৈঠক হয়। এক শীর্ষকর্তার বক্তব্য, “এখনও গৃহস্থের সিলিন্ডারের অভাব নেই। কিন্তু যুদ্ধ পরিস্থিতি বর্তমানে যে জায়গায় রয়েছে, শুধু তার ভিত্তিতে পরিকল্পনা করলে চলবে না। ভবিষ্যতে পরিস্থিতি বিগড়ে গেলে কী হবে, সেটাও ভেবে রাখতে হবে।’’

অন্য দিকে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আঁচ থেকে অর্থনীতিকে আগলে রাখতে মোদী সরকার দেশের রফতানি ক্ষেত্রের জন্য ২ লক্ষ কোটি টাকার ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্প তৈরি করছে বলে অর্থ মন্ত্রক সূত্রের খবর। দু’সপ্তাহের মধ্যে এই প্রকল্প ঘোষণা হবে।

কোভিডের সময় সারা বিশ্বে বাণিজ্যিক লেনদেন ধাক্কা খাওয়ায় দেশের রফতানি বিপাকে পড়েছিল। সেই সময় ‘জরুরি ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্প’ চালু করে কেন্দ্র। যাতে শিল্প মহল, বিশেষত ছোট-মাঝারি শিল্প, রফতানিকারীদের জন্য বন্ধক ছাড়া ওসরকারি গ্যারান্টি-যুক্ত ঋণের ব্যবস্থা ছিল। এখন ফের সঙ্কটে বাণিজ্য। পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের জেরে জাহাজ চলাচলে বাধা পড়েছে। উপসাগরীয় দেশগুলিতে বাণিজ্যিক লেনদেনে সমস্যা হচ্ছে। ফলে শুধু তেল-গ্যাসের আমদানি নয়। পণ্য রফতানিও ধাক্কা খেয়েছে। যার প্রভাব অদূর ভবিষ্যতে অর্থনীতিতে পড়বে বলেই আশঙ্কা। যুদ্ধের ফলে রফতানিকারীদের পণ্যবাহী জাহাজ বন্দরে আটকে রয়েছে। তা ঠিক সময়ে সরবরাহ না হওয়ায় আটকেছে তাঁদের টাকাও। ফলে নগদে টান পড়ছে। অর্থ মন্ত্রক এ বার তাই কোভিডকালের মতোই ঋণ গ্যারান্টি প্রকল্প চালু করতে চাইছে। যাতে রফতানিকারীরা সহজে ধার পান। পুঁজির জোগানে টান না পড়ে।

রফতানিকারীদের সংগঠন ফিয়ো-র মতে, হরমুজ় প্রণালী, লোহিত সাগরের মতো গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাধা তৈরি হওয়ায় জাহাজের খরচ, বিমার প্রিমিয়াম, পরিবহণের সময় বেড়ে গিয়েছে। সব মিলিয়ে অনিশ্চিত পরিস্থিতি। তাই ঠিক সময়ে সরকারের থেকে নীতিগত সুরাহা প্রয়োজন।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন