ছবি: (এআই সহায়তায় প্রণীত)।
ইরান যুদ্ধের জেরে হু-হু করে বাড়ছে জ্বালানির দাম। সেই আঁচ গায়ে লাগায় অস্থির ভারতীয় শেয়ারবাজার। এ-হেন পরিস্থিতিতে বিয়ের মরসুমের মুখে লাফিয়ে লাফিয়ে কমছে সোনা-রুপোর দর। ফলে নতুন সংসার পাততে চলা যুগলের চওড়া হয়েছে মুখের হাসি। অন্য দিকে মাথায় হাত লগ্নিকারীদের! কারণ, কাগুজে হলুদ ও সাদা ধাতুর বিনিয়োগে লোকসানের মুখে পড়তে হচ্ছে তাদের।
সোনা-রুপোর মতো দামি ধাতুতে দু’ভাবে লগ্নির সুবিধা রয়েছে। একটি হল ভৌত বিনিয়োগ। অর্থাৎ অলঙ্কার বা হলুদ ও সাদা ধাতুর বার কিনে ফেলা। দ্বিতীয়টি হল, শেয়ারবাজার বা মিউচুয়াল ফান্ডের মাধ্যমে কাগুজে সোনা বা রুপোয় লগ্নি। এ ছাড়া এই দু’টি ধাতুর বন্ডও কিনতে পারেন গ্রাহক। তবে গয়না বা বার কেনার থেকে কাগুজে সোনা-রুপোয় বিনিয়োগ বেশি লাভজনক।
সাধারণত, সংঘাত পরিস্থিতিতে বিশ্ব জুড়ে ঊর্ধ্বমুখী হয়ে থাকে হলুদ ও সাদা ধাতুর দাম। কিন্তু, আশ্চর্যজনক ভাবে ইরান যুদ্ধ চলাকালীন ধরা পড়েছে সম্পূর্ণ উল্টো ছবি। চলতি বছরের জুনে এখনও পর্যন্ত শেয়ারবাজারের সোনা-রুপোর ইটিএফের (এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ড) মূল্য ১২ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ইজ়রায়েল এবং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যৌথ সামরিক অভিযান শুরু করলে পশ্চিম এশিয়ায় বেধে যায় যুদ্ধ। তার পর থেকে স্পট সোনা বা তাৎক্ষণিক সোনার বাজারদর ২২ শতাংশ পর্যন্ত নিম্নমুখী হয়েছে। পাশাপাশি, গত সাড়ে তিন মাসে আন্তর্জাতিক বাজারে ধারাবাহিক ভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে অপরিশোধিত খনিজ তেলের দাম।
বিশ্লেষকদের দাবি, সোনার দরে সাম্প্রতিক পতন ধাতুটির ২০০ দিনের ‘মুভিং অ্যাভারেজ’-এর নীচে চলে গিয়েছে। ফলে লগ্নিকারীদের মধ্যে স্বর্ণ ইটিএফ বা মিউচুয়াল ফান্ড বিক্রির হুড়োহুড়ি লক্ষ করা যাচ্ছে। তা ছাড়া হলুদ ও সাদা ধাতুর সেরা আন্তর্জাতিক বাজারগুলিতেও এগুলির বিক্রি ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। ২০০৯ সালের পর সেটা সর্বনিম্ন পর্যায়ে এসেছে বলে জানা গিয়েছে।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভারতীয় শেয়ার বাজারে টানা পাঁচ দিন নিম্নমুখী রয়েছে সোনা-রুপোর দাম। বৃহস্পতিবার, ১১ জুন মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে ২৭৭ টাকা কমে প্রতি ১০ গ্রাম হলুদ ধাতু বিক্রি হয়েছে ১ লক্ষ ৪৭ হাজার ৭৪০ টাকায়। সেখানে সূচক নেমেছে ০.১৯ শতাংশ।
একই ভাবে লক্ষ্মীবারে মাল্টি কমোডিটি এক্সচেঞ্জে রুপোর দর কেজিতে হ্রাস পায় ৩,৮৩৪ টাকা বা ১.৬২ শতাংশ। ফলে ২ লক্ষ ৩৫ হাজার ৫০৫ টাকা থেকে প্রতি কেজি সাদা ধাতুর দর নেমে দাঁড়ায় ২ লক্ষ ৩১ হাজার ৬৭১ টাকা।
ব্রোকারেজ ফার্মগুলি জানিয়েছে, এ বছরের মে মাসে সোনা-রুপোর ইটিএফ থেকে উবে গিয়েছে ৭২৫ কোটি টাকা। ফলে বড় সড় ধাক্কা খেয়েছে গত ১৩ মাস ধরে চলা ইতিবাচক বিনিয়োগ।
পাশাপাশি, এ বছরের এপ্রিলেও স্বর্ণ ইটিএফ থেকে লগ্নিকারীদের টাকা তুলে নিতে দেখা গিয়েছে। ওই সময় সংশ্লিষ্ট তহবিলগুলি হারায় ৫.৮২ কোটি টাকা। পরের মাসেই কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় গোল্ড ইটিএফের বাজার। গত মে-তে এতে বিনিয়োগের অঙ্ক ৭০,০০০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যায়।