Gold-Silver

প্রধানমন্ত্রীর ডাকে সিঁদুরে মেঘ দেখছে গয়না শিল্প, আশঙ্কা অনেকের কাজ হারানোরও

অশোধিত তেল এবং সোনায় সব থেকে বেশি বিদেশি মুদ্রা খরচ হয় ভারতের। বিশ্ব বাজারে তেল ব্যারেল পিছু ১০০ ডলার পেরনোয় সেই খরচ বিপুল বেড়েছে। অথচ রফতানি মার খাওয়ায় কমেছে বিদেশি মুদ্রা আয়।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১২ মে ২০২৬ ০৭:৪৮
Share:

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

গয়না কেনায় রাশ টানতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর ডাকে আশঙ্কায় ভুগছেন সোনা-রুপোর ব্যবসায়ীরা। তাঁদের দাবি, সাধারণ মানুষ এই ডাকে সাড়া দিলে ব্যবসা ধাক্কা খাবে। কমবে গয়না রফতানি। বহু মানুষ কাজ হারাবেন। মোদীর কাছে গয়না শিল্পের অনুরোধ, বাজারের চাহিদায় লাগাম না পরিয়ে সোনার আমদানি কমানোর ব্যবস্থা করুক কেন্দ্র। সংশ্লিষ্ট মহলের অবশ্য ধারণা, আগামী দিনে আমদানি শুল্কও বাড়ানো হতে পারে।

অশোধিত তেল এবং সোনায় সব থেকে বেশি বিদেশি মুদ্রা খরচ হয় ভারতের। বিশ্ব বাজারে তেল ব্যারেল পিছু ১০০ ডলার পেরনোয় সেই খরচ বিপুল বেড়েছে। অথচ রফতানি মার খাওয়ায় কমেছে বিদেশি মুদ্রা আয়। এই অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী পেট্রল-ডিজ়েলের পাশাপাশি গয়নাও কম কেনার আর্জি জানান। পরিসংখ্যান বলছে, গত অর্থবর্ষে (২০২৫-২৬) ভারত ৭২০০ কোটি ডলারের সোনা আমদানি হয়েছে। তা ৩০-৪০% কমালে ২০০০-২৫০০ কোটি ডলার বাঁচবে। ৫০% কমালে বাঁচবে ৩৬০০ কোটি ডলার। কমবে বাণিজ্য ঘাটতিও।

তবে ভারতে গয়না শিল্পের সংগঠন স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির কার্যকরী সভাপতি সমর দে-র দাবি, ‘‘সোনা আমদানি কমাতে গয়না কেনায় রাশ ক্ষতি করবে। বহু মানুষ রুটিরুজি হারাবেন। কেন্দ্রের বিকল্প পথ খোঁজা উচিত। বিভিন্ন মন্দিরের ট্রাস্টগুলিতে পড়ে থাকা কয়েক হাজার টন অব্যবহৃত সোনা বাজারে আনতে পারলে কয়েক বছর আমদানির প্রয়োজনই হবে না।’’ সংশ্লিষ্ট মহল মনে করাচ্ছে, ‘গোল্ড মনিটাইজ়েশন’ প্রকল্পের মাধ্যমে ঘরে পড়ে থাকা সোনা বাজারে আনার চেষ্টা করেছিল কেন্দ্র। কিন্তু তেমন সাড়া মেলেনি। সমরের মতে, প্রকল্পটি আবার চালু করে তা কার্যকর করার জন্য ব্যাঙ্কগুলির সঙ্গে গয়না ব্যবসায়ীদেরও শামিল করা হোক। ভাল ফল পাওয়া যেতে পারে। বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে দরবার করবেন তাঁরা।

সেনকো গোল্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডসের এমডি শুভঙ্কর সেন বলছেন, ‘‘বর্তমান পরিস্থিতিতে বিদেশি মুদ্রার খরচ নিয়ে উদ্বেগের কারণ আছে। তবে সেই সমস্যা সামলাতে বেকারত্ব বাড়িয়ে দেওয়ার মতো পদক্ষেপ করা ঠিক নয়।’’ ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে জমা সোনা বাজারে এনে আমদানি কমানোর পরামর্শ দিয়েছেন তিনিও।

গয়নার কারিগরদের সংগঠন অখিল ভারত স্বর্ণকার সঙ্ঘের সাধারণ সম্পাদক টগর পোদ্দার বলেন, ‘‘গয়না বিক্রি কমলে সেগুলি তৈরির বরাত কমবে। লক্ষাধিক কারিগর বিপাকে পড়বেন। এ ব্যাপারে রাজ্যের নতুন মু্খ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর হস্তক্ষেপ চেয়ে চিঠি দেব।” জেম অ্যান্ড জুয়েলারি এক্সপোর্ট প্রোমোশন কাউন্সিলের পূর্বাঞ্চলের চেয়াম্যান পঙ্কজ পারেখ প্রধানমন্ত্রীর উদ্বেগের যুক্তি মানলেও বলছেন, “ভারতে বছরে প্রায় ১৫০০ কোটি ডলারের সোনা, হিরে, পাথরের গয়না রফতানি করে। এপ্রিল থেকে সোনা আমদানি প্রায় বন্ধ। এর জেরে কমছে রফতানিও।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন