দাবি শিল্পের

চাহিদা বাড়াতে শিথিল হোক ঘাটতির লক্ষ্য

অর্থনীতির চাকায় গতি ফেরাতে বাজারে আরও চাহিদা তৈরি হওয়া জরুরি। বাজেটের ঢাকে কাঠি পড়তেই সেই চাহিদা বাড়াতে এ বার প্রয়োজনে রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা শিথিলের দাবি তুলল শিল্পমহলের একাংশ। একই পরামর্শ নিজের মন্ত্রকের একাংশের কাছেও পেয়েছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি। ফেব্রুয়ারিতে বাজেট পেশ করবেন জেটলি।

Advertisement

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০৭ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:৫৯
Share:

অর্থনীতির চাকায় গতি ফেরাতে বাজারে আরও চাহিদা তৈরি হওয়া জরুরি। বাজেটের ঢাকে কাঠি পড়তেই সেই চাহিদা বাড়াতে এ বার প্রয়োজনে রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্যমাত্রা শিথিলের দাবি তুলল শিল্পমহলের একাংশ। একই পরামর্শ নিজের মন্ত্রকের একাংশের কাছেও পেয়েছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি।

Advertisement

ফেব্রুয়ারিতে বাজেট পেশ করবেন জেটলি। এ জন্য তিনি শলা-পরামর্শ শুরুও করেছেন। এরই অঙ্গ হিসেবে বুধবার বৈঠক করেন শিল্প ও বণিকসভার প্রতিনিধিদের সঙ্গে। সেখানে বণিকসভা ফিকি-র দাবি, অর্থনীতির মোড় ঘোরাতে পরিকাঠামোয় সরকারি ব্যয় বাড়ানো হোক। যাতে তার হাত ধরে চাহিদা বাড়ে। গতি ফেরে অর্থনীতির চাকায়। এ জন্য প্রয়োজনে নতুন ভাবে ঠিক হোক রাজকোষ ঘাটতির লক্ষ্য।

বণিকসভা সিআইআই অবশ্য যে-কোনও মূল্যে রাজকোষ ঘাটতিকে বেঁধে রাখার পক্ষপাতী। যাতে সুদ কমানোর রাস্তা থেকে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সরে না-আসে। বহু বিশেষজ্ঞের অভিযোগ, ২০০৮ সালে বিশ্বজোড়া মন্দায় ভারতের অর্থনীতিকে টেনে তুলতে ত্রাণ ঘোষণার জন্য শিথিল করা হয়েছিল ঘাটতি নিয়ে কড়াকড়ি। খেসারত হিসেবে বেলাগাম মূল্যবৃদ্ধি সামলাতে দীর্ঘ দিন চড়া সুদের জমানা বজায় রাখতে হয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ককে। গত বাজেটে জেটলি জানিয়েছিলেন, ২০১৬-’১৭ অর্থবর্ষে রাজকোষ ঘাটতি দেশের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.৫ শতাংশে বেঁধে রাখতে চান তিনি, ২০১৭-’১৮-র মধ্যে ৩ শতাংশে। কিন্তু শিল্পমহল ও অর্থ মন্ত্রকের একাংশের দাবি, আগামী বছরের জন্য তা রাখা হোক ৩.৭ বা ৩.৯ শতাংশে। ৩ শতাংশের লক্ষ্য ছুঁতে থাক বাড়তি এক বছর।

Advertisement

অর্থনীতির অনেক শিক্ষকও বলছেন, সরকারের সামনে লক্ষ্যমাত্রা কিছুটা শিথিল করা ছাড়া গতি নেই। দিল্লির ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব পাবলিক ফিনান্স অ্যান্ড পলিসি-র শিক্ষক পিনাকী চক্রবর্তী বলেন, ‘‘আসলে বৃদ্ধির হার তেমন উঠছে না বলে রাজস্ব আদায়ও প্রত্যাশিত ভাবে বাড়ছে না। করের হার কমানো হয়নি, যাতে আদায় বাড়বে। বরং স্বচ্ছ ভারতের নামে ০.৫% সেস বসেছে। ফলে কেন্দ্রের সামনে ঘাটতির লক্ষ্য থেকে সরে আসা ছাড়া বিকল্প নেই। যদি বলা হয়, চাহিদা বাড়ানোর জন্য ঘাটতি বাড়ানো হচ্ছে, সেটা আসলে ভুল যুক্তি।’’ পিনাকীবাবুর যুক্তি, অর্থনীতিতে যে সমস্যা রয়েছে, আগে সেটা মানতে হবে। তাঁর মতে, ‘‘কেন্দ্রের যে বড় রকম রাজস্ব ঘাটতি আছে, তাতে সন্দেহ নেই। বিশ্ব বাজারে তেলের দর তলানিতে ঠেকায় এ বছর তা কমানোর ভাল সুযোগ ছিল।’’ তাই অনেক অর্থনীতিবিদ আবার বলছেন, সরকারের উচিত খরচে রাশ টানা। কেন্দ্রীয় আর্থিক বিষয়ক সচিব শক্তিকান্ত দাসের অবশ্য দাবি, রাজকোষ ঘাটতি কমানোর যে-রূপরেখা ঠিক হয়েছিল, তা মানতে সরকার দায়বদ্ধ।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement