—প্রতীকী ছবি।
ইরান যুদ্ধকে কেন্দ্র করে পশ্চিম এশিয়ায় ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা সত্ত্বেও বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার বৃদ্ধি করল ভারত। নতুন আর্থিক বছরের (২০২৬-’২৭) সূচনার দ্বিতীয় সপ্তাহে এর পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া বা আরবিআইয়ের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ৩ এপ্রিল পর্যন্ত দেশের বিদেশি মুদ্রার ভান্ডারে যুক্ত হয়েছে ৯০৬ কোটি ডলার। ফলে কলেবরে বেড়ে তহবিলের মোট পরিমাণ প্রায় ৭০ হাজার কোটি ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, আন্তর্জাতিক লেনদেনের জন্য প্রতি দিনই বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার ব্যবহার করে আরবিআই। ফলে সর্বক্ষণ ওঠা-নামা করতে থাকে এর সূচক। রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক জানিয়েছে, এ বছরের ২৭ মার্চ শেষ হওয়া সপ্তাহে সংশ্লিষ্ট তহবিলে অর্থের পরিমাণে একটা তীব্র পতন লক্ষ করা যাচ্ছিল। ওই সময় বিদেশি মুদ্রার ভান্ডার থেকে হ্রাস পায় ১০২৮.৮ কোটি ডলার। ফলে এর মোট পরিমাণ ৬৮৮০৫.৮ কোটি ডলারে নেমে আসে। তার পর ফের ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে সূচক।
৩ এপ্রিল শেষ হওয়া সপ্তাহের হিসাব অনুযায়ী, বর্তমানে ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভান্ডারে আছে ৬৯৭১২.১ কোটি ডলার। তবে এর পুরোটাই মার্কিন মুদ্রা ভাবলে ভুল হবে। সেখানে রয়েছে ব্রিটিশ পাউন্ড, ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) ইউরো, জাপানি ইয়েন এবং সোনা। সাম্প্রতিক সময়ে হলুদ ধাতুর পরিমাণও বৃদ্ধি করেছে দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ভারতের বিদেশি মুদ্রার ভান্ডারের একটা বড় অংশ জুড়ে আছে ‘বৈদেশিক মুদ্রা সম্পদ’ বা এফসিএ (ফরেন কারেন্সি অ্যাসেট্স)। এপ্রিলের ৩ তারিখ পর্যন্ত তার পরিমাণ ১৭৮.৪ কোটি ডলার বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে এর মোট মূল্য দাঁড়িয়েছে ৫৫,২৮৫.৬ কোটি ডলার। আর্থিক বিশ্লেষকদের দাবি, এফসিএর বৃদ্ধি ইউরো, পাউন্ড ও ইয়েনের মতো মার্কিন মুদ্রা বহির্ভূত অর্থগুলোর ওঠানামাকে প্রভাবিত করে থাকে।
এ ছাড়া দেশের স্বর্ণভান্ডারে ৭২২.১ কোটি ডলারের হলুদ ধাতু যুক্ত করেছে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। ফলে এর মোট বাজারমূল্য দাঁড়িয়েছে ১,২০৭৪.২ কোটি ডলার। এই অঙ্ক বিদেশি মুদ্রার ভান্ডারের মোট বৃদ্ধির একটা বড় অংশ বলে জানা গিয়েছে। পাশাপাশি, স্পেশাল ড্রয়িং রাইট্স (এসডিআর) ৫.৮ কোটি ডলার থেকে বেড়ে ১৮৭০.৭ কোটি ডলারে গিয়ে দাঁড়িয়েছে।
আন্তর্জাতিক অর্থভান্ডার বা আইএমএফে (ইন্টারন্যাশনাল মনিটারি ফান্ড) দীর্ঘ দিন ধরেই ৪৮১.৬ কোটি ডলার গচ্ছিত রেখেছে নয়াদিল্লি। দেশের বৈদেশিক মুদ্রার ভান্ডার বৃদ্ধিতে তাতে কোনও পরিবর্তন করেনি রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। এ বছরের ২৭ ফেব্রুয়ারি রেকর্ড উচ্চতায় ওঠে এই তহবিল। ওই তারিখে বিদেশি মুদ্রার ভান্ডারের পরিমাণ ৭২ হাজার কোটি ডলার ছাপিয়ে যায়। কিন্তু, তার পরই ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ায় সেই সূচক নিম্নমুখী হয়েছে।