—প্রতীকী ছবি।
শেয়ারের দুনিয়ায় পা রেখেই বাম্পার রিটার্ন! গত কয়েক বছরে তালিকাভুক্তিতে লগ্নিকারীদের পকেট ভরিয়েছে অধিকাংশ সংস্থা। কিন্তু, ২০২৬ সালে বদলাচ্ছে সেই ছবি। বর্তমানে লাভ হওয়া তো দূর অস্ত, ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং’ বা আইপিও মূল্যের চেয়েও কমে তালিকাভুক্ত হয়েছে বহু সংস্থার স্টক। শেয়ার বাজারে দৌড় শুরু করার মুহূর্তে কেন হোঁচট খাচ্ছে তারা?
ব্রোকারেজ ফার্মগুলির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরে এখনও পর্যন্ত শেয়ার বাজারে পথচলা শুরু করেছে মোট ৩২টি সংস্থা। গত বছরের প্রথম দু’মাসের তুলনায় এই সংখ্যা বেশ কম। ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ফেব্রুয়ারির মধ্যে আইপিও আনে অন্তত ৫০টি কোম্পানি। এ বছর স্টক ছাড়ে তালিকাভুক্ত হয়েছে ১১টি সংস্থা। অন্য দিকে আইপিও মূল্যেই শেয়ার বাজারে পা রাখতে দেখা গিয়েছে আরও পাঁচটি কোম্পানিকে।
গত বছর তালিকাভুক্তিতে বাম্পার রিটার্ন দিয়েছিল ২১ স্টক। পাশাপাশি, বাজারে মেগা এন্ট্রি নেয় আরও আটটি শেয়ার। তাদের তালিকাভুক্তিতে ভাল মুনাফা করেন লগ্নিকারীদের। এ বছর একই সময়সীমার মধ্যে সেটা ১৮তে নেমে এসেছে। এর জেরে আগামী দিনে আইপিওতে আবেদনের ক্ষেত্রে উৎসাহ কমতে পারে বলেও আশঙ্কা করা হচ্ছে।
গত বছরের জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারির মধ্যে মাত্র ছ’টি স্টক তালিকাভুক্তিতে দিয়েছিল ৯০ শতাংশ রিটার্ন। ২০২৬ সালে সেই সংখ্যা নেমে এসেছে মাত্র দুইয়ে। জানুয়ারির ২ ও ১৯ তারিখে শেয়ারের দুনিয়ায় পা রাখে ই টু ই ট্রান্সপোর্টেশন এবং ভারত কোকিং কোল। আইপিও মূল্যের চেয়ে যথাক্রমে ৯০ এবং ৯৭ শতাংশ বেশিতে তালিকাভুক্ত হয়েছে তাদের স্টক।
বিশেষজ্ঞদের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে আইপিও আবেদনে লাভের অঙ্ক কমলেও ভারতীয় সংস্থাগুলির মধ্যে শেয়ার বাজারে ঢুকে পড়ার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, ২০২৪ সালে তালিকাভুক্তিতে গড়ে মুনাফার পরিমাণ ছিল ৪৯ শতাংশ। গত বছর সেটাই ১০.৬ শতাংশে নেমে আসে। ২০২৫ সালে ১০৩টি বড় সংস্থা এবং ২৭০টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি সংস্থা মিলিয়ে মোট ৩৭৩টি কোম্পানিকে বম্বে ও ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জে পা রাখতে দেখা গিয়েছে।
উল্লেখ্য, এ বছর এখনও পর্যন্ত আইপিও তালিকাভুক্তিতে গড়ে মুনাফার অঙ্ক দাঁড়িয়েছে মাত্র আট শতাংশ, ২০১৯ সালের পর যা সর্বনিম্ন। ওই বছর তালিকাভুক্তি গড়ে মাত্র ৫.৪ শতাংশ লাভ করতে সক্ষম হন লগ্নিকারীরা। এর নেপথ্যে একাধিক কারণকে চিহ্নিত করেছেন বিশ্লেষকেরা। তাঁদের দাবি, গত বছর থেকেই অস্থির রয়েছে শেয়ার বাজার। এর প্রভাব আইপিও উপরেও পড়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।