দিল্লি ইনফোকম

এক সূত্রে বিশ্বকে বাঁধছে তথ্যপ্রযুক্তি

রেফ্রিজারেটরে দুধ ফুরিয়ে গিয়েছে। আপনি খেয়াল করার আগেই রেফ্রিজারেটর নিজে সেই তথ্য জানিয়ে দিল দুধের দোকানে। মোবাইলে দোকান থেকে বার্তা এল, বাড়িতে দুধ পাঠিয়ে দেব? আপনি সম্মতি জানাতেই তা পৌঁছে গেল বাড়ির দরজায়।

Advertisement

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১৭ জুলাই ২০১৫ ০২:৩৫
Share:

বৃহস্পতিবার ইনফোকম উদ্বোধনে কিরণ কার্নিক। ছবি: রমাকান্ত কুশওয়াহা।

রেফ্রিজারেটরে দুধ ফুরিয়ে গিয়েছে। আপনি খেয়াল করার আগেই রেফ্রিজারেটর নিজে সেই তথ্য জানিয়ে দিল দুধের দোকানে। মোবাইলে দোকান থেকে বার্তা এল, বাড়িতে দুধ পাঠিয়ে দেব? আপনি সম্মতি জানাতেই তা পৌঁছে গেল বাড়ির দরজায়।

Advertisement

কল্পবিজ্ঞান নয়। শীঘ্রই যে এমন দিন আসছে, সে বিষয়ে একমত তথ্যপ্রযুক্তি মহলের সকলেই। ন্যাসকম-এর প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট কিরণ কার্নিক বলছেন, ‘‘এখন আমরা যন্ত্রের সাহায্যে একে অপরের সঙ্গে যোগাযোগ করছি। খুব শীঘ্রই যন্ত্রই অন্য যন্ত্রের সঙ্গে যোগাযোগ করবে। কারণ তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে সব কিছু একে অপরের সঙ্গে জুড়ে যাচ্ছে।’’ একই কথা বলছেন এরিকসন গ্লোবাল সার্ভিসেস ইন্ডিয়া-র এমডি অমিতাভ রায়ও। তিনি বলেন, মার্সিডিজ বেঞ্জ ও ভলভো একটি গাড়ির সঙ্গে অন্য গাড়িকে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে জুড়ে দেওয়ার কাজ চালাচ্ছে। যাতে গাড়িগুলি নিজেরাই রাস্তায় একে অন্যের সঙ্গে নিরাপদ দূরত্ব রেখে ও পরিস্থিতি মেনে চলতে পারে। যাকে সমর্থন জানিয়ে কার্নিক বলেন, আগামী দিনে গাড়ির চালকের পেশা আর থাকবে না, ঠিক যে ভাবে স্টেনোগ্রাফার বা টেলিফোন অপারেটরের পেশা উঠে গিয়েছে।

বিশ্ব জুড়ে এই সংযোগ বা ‘কানেক্টেড ওয়ার্ল্ড’-ই এ বার ‘থিম’ এবিপি সংস্থা আয়োজিত দিল্লির ইনফোকমে। এ বারই প্রথম রাজধানীতে এই ‘বিজনেস-টেকনোলজি-লিডারশিপ’ সম্মেলন হচ্ছে। আজ এর উদ্বোধন করে তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রকের সচিব আর এস শর্মা বলেন, ‘‘প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ডিজিটাল ইন্ডিয়া প্রকল্পের সূচনা করেছেন। ডিজিটাল পরিকাঠামো গড়ে আমরা নাগরিক পরিষেবা পৌঁছনোর চেষ্টা করছি। ফলে এ বার আমজনতার মধ্যেও ডিজিটাল সাক্ষরতা জরুরি।’’

Advertisement

তবে তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহারের বিপদ বাড়া নিয়ে আশঙ্কা প্রকাশ করে চ্যাটার্জি গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান পূর্ণেন্দু চট্টোপাধ্যায় বলেন, ডিজিটাল সুবিধা নিতে গিয়ে ব্যক্তিগত তথ্য প্রকাশিত হয়ে যাচ্ছে। তা যেমন কোনও সংস্থা লাভের জন্য ব্যবহার করতে পারে, তেমনই তথ্য চুরি করে হ্যাকিং, অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা সরানো বা অন্য কোনও সংস্থা বা দেশের গোপন তথ্য চুরির মতো সাইবার অপরাধও বাড়ছে। পূর্ণেন্দুবাবুর বক্তব্য, এটি যেমন চ্যালেঞ্জ, তেমন নতুন গবেষণার ক্ষেত্র। সাইবার অপরাধ রুখতে ভারতীয় সংস্থাগুলি গবেষণা করতে পারে। সেই গবেষণার ফসলের ‘পেটেন্ট’ নেওয়ার জন্যও তথ্যপ্রযুক্তির জগৎকে ডাক দেন তিনি। এবিপি-র এমডি ও সিইও তথা ইনফোকমের চেয়ারম্যান ডি ডি পুরকায়স্থ বলেন, ‘‘এ বার থেকে আমরা নিয়মিত দিল্লিতে ইনফোকমের আয়োজন করব।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement