পুরোদস্তুর পর্যটন ব্যবসায় এ বার আইআরসিটিসি

পর্যটন এখন আর নিছক বেড়ানো নয়। চিকিৎসা, পড়াশোনা বা ‘কেরিয়ার’ খোঁজার মতো কেজো বিষয়ের সঙ্গেও জুড়ে যাচ্ছে সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখার বাসনা।

Advertisement

দেবপ্রিয় সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ০৮ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:২৮
Share:

পর্যটন এখন আর নিছক বেড়ানো নয়। চিকিৎসা, পড়াশোনা বা ‘কেরিয়ার’ খোঁজার মতো কেজো বিষয়ের সঙ্গেও জুড়ে যাচ্ছে সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখার বাসনা। এই বৃহত্তর বাজার ধরতে উদ্যোগী পর্যটন শিল্পমহল। সেই দৌড়ে পিছিয়ে নেই এমনকী ইন্ডিয়ান রেলওয়ে কেটারিং অ্যান্ড ট্যুরিজম কর্পোরেশন (আইআরসিটিসি)-ও। ট্রেনের খাবার কিংবা টিকিট বুকিং-এর ক্ষেত্রেই যাদের পরিচিতি ছিল গোটা দেশে, সেই রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাটি এখন চেনা ছকের বাইরে বেরিয়ে পুরোদস্তুর ভ্রমণের ব্যবস্থা করছে। আগ্রহীদের তালিকায় কর্পোরেট দুনিয়ার পাশাপাশি স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়ারাও রয়েছে। রয়েছে বিদেশ ভ্রমণের ব্যবসাও। সব মিলিয়ে পেশাদার ভ্রমণ সংস্থা হিসেবে জায়গা করে নিতে বেসরকারি শিল্পমহলের সঙ্গে টক্কর দিতে ঝাঁপাচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত এই সংস্থা।

Advertisement

ট্রেনে যাত্রীদের পছন্দের খাবার খাওয়ার সুযোগ করে দিতে ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন নামী-দামি রেস্তোরাঁর সঙ্গে গাঁটছড়া বেঁধেছে আইআরসিটিসি। সম্প্রতি ইন্ডিয়ান চেম্বারের পর্যটন সংক্রান্ত এক সভার ফাঁকে আইআরসিটিসি-র গ্রুপ জেনারেল ম্যানেজার (পূর্বাঞ্চল) দেবাশিস চন্দ জানান, তাঁরা ব্যবসার গণ্ডিটা বাড়াতে আগ্রহী। সেই সূত্রেই খাবার ও টিকিট বুকিং-এর বাইরে বিভিন্ন ধরনের যাত্রীর কথা মাথায় রেখে তাঁদের বেড়ানোর ব্যবস্থাও করে দিচ্ছেন তাঁরা।

গত অর্থবর্ষে সংস্থা প্রায় ১২০০ কোটি টাকার ব্যবসা করেছিল। তার মধ্যে প্রায় ৪০০ কোটি টাকার ব্যবসার সূত্র ছিল পর্যটন। দেবাশিসবাবুর আশা, চলতি অর্থবর্ষে পর্যটন ব্যবসা ১৫-২০ শতাংশ বাড়বে।

Advertisement

ইতিমধ্যেই বেশ কিছু কর্পোরট সংস্থার কর্মীদের ভ্রমণের ব্যবস্থা করে দিচ্ছে আইআরসিটিসি। তেমনই বিভিন্ন স্কুলে নানা সময়ে শিক্ষামূলক ভ্রমণ পাঠ্যক্রমেরই অন্তর্গত। বেশ কয়েকটি স্কুলের পড়ুয়াদের জন্য পরীক্ষামূলক ভাবে সেই ব্যবস্থা করে দেওয়ার পরে এ বার তা ছড়াতে আগ্রহী সংস্থা। সে ক্ষেত্রে পড়ুয়াদের ঘোরা, থাকা, খাওয়ার যাবতীয় ব্যবস্থার দায়িত্ব আইআরসিটিসি-রই। দেবাশিসবাবু জানান, কলকাতার ৩০-৪০টি স্কুলে তাঁরা এই প্রস্তাব দিয়ে চিঠি পাঠিয়েছিলেন। অনেক স্কুলই আগ্রহ দেখিয়েছে।

তেমনই কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়ুয়া বা বিশ্ববিদ্যালয় উত্তীর্ণদের আরও পড়াশোনা করা বা ‘কেরিয়ার’ গড়া নিয়ে ভাবনা থাকে। দেশের বিভিন্ন স্থানে তাঁদের জন্য কী ধরনের সুযোগ রয়েছে, তার ধারণা দিতে চায় বেশ কিছু রাজ্য। আইআরসিটিসি-র সঙ্গে এ নিয়ে শীঘ্রই চুক্তি সই করার কথা ছত্তীসগঢ়ের। উল্লেখ্য, আগে আইআরসিটিসি এমন দুটি ট্রেন চালালেও মূলত সেগুলি ছিল একেবারেই শিক্ষামূলক পাঠ্যক্রমের অন্তর্গত। এ বার উচ্চশিক্ষার সুযোগ ও সম্ভাবনাময় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেগুলি দেখার পাশাপাশি কিছুটা ঘুরে বেড়ানোরও সুযোগ পাবে পড়ুয়ারা। আগের বার অভিভাবকেরা ওই ট্রেনে চাপার সুযোগ না-পেলেও এ বার তা পাবেন। সংস্থা সূত্রের খবর, একটি গোটা ট্রেন এ জন্য বরাদ্দ করা হবে। ছত্তীসগঢ় থেকে যাত্রা শুরু করে নির্দিষ্ট কয়েকটি জায়গা ঘুরে ফের সেটি ওই রাজ্যেই ফিরে আসবে। পড়ুয়াদের বাছাই করবে ছত্তীসগঢ় সরকার। খরচও তাদেরই। বাকি দায়িত্ব আইআরসিটিসি-র।

তেমনই চিকিৎসা করাতে এসে সংলগ্ন এলাকা ঘুরে দেখাও এখন পর্যটনের অন্যতম সূত্র। এ জন্য শহরের বেশ কয়েকটি বড় বড় হাসপাতালের সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধতে চলেছে সংস্থা। দেবাশিসবাবু জানিয়েছেন, সেই সব হাসপাতালে চিকিৎসা করাতে আসা আগ্রহী রোগী ও তাঁর পরিজনদের জন্য আলাদা করে ভ্রমণের ব্যবস্থার দায়িত্ব নেবেন তাঁরা।

শুধু দেশই নয়, বিদেশও এখন ভারতীয়দের ছুটি কাটানোর অন্যতম আকর্ষণ। কথায় বলে, কেরলের চেয়েও সস্তা ব্যাঙ্কক বেড়ানো। সে সুযোগ হাতছাড়া করতে রাজি নয় আইআরসিটিসি-ও। ইতিমধ্যেই তাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া ও সিঙ্গাপুরে দেড়শোরও বেশি পর্যটককে বেড়াতে নিয়ে গিয়েছে তারা। সব কিছু ঠিকঠাক চললে পুরনো গন্তব্যের সঙ্গে সঙ্গে চলতি বছরেই ইউরোপ ও দুবাইও তাদের ভ্রমণ তালিকায় ঠাঁই পাবে বলে জানিয়েছেন সংস্থার ডিজিএম (পর্যটন) কৌশিক বন্দ্যোপাধ্যায়।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement