গৌতম গম্ভীর (বাঁ দিকে) ও সূর্যকুমার যাদব। —ফাইল চিত্র।
বিশ্বকাপে একমাত্র দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচ বাদ দিলে বাকি সাত ম্যাচে ভাল দেখিয়েছে ভারতকে। কয়েকটি ম্যাচ টান টান হলেও শেষ হাসি হেসেছেন গৌতম গম্ভীর, সূর্যকুমার যাদবেরা। রবিবার টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারতের সামনে নিউ জ়িল্যান্ড। সেই ম্যাচ জিততে হলে অবশ্য তিনটি জায়গায় উন্নতি দরকার ভারতের।
বিশ্বকাপের আগে সকলের নজর ছিল অভিষেক শর্মার দিকে। আইসিসির টি-টোয়েন্টি ক্রমতালিকায় এক নম্বর ব্যাটারের উপর ভরসা ছিল ভারতীয় সমর্থকদের। কিন্তু বিশ্বকাপে একদমই ফর্মে নেই অভিষেক। সাত ম্যাচে মাত্র ৮৯ রান করেছেন তিনি। তার মধ্যে জ়িম্বাবোয়ের বিরুদ্ধে ৫৫ রান রয়েছে। অর্থাৎ, বাকি ছয় ম্যাচে করেছেন মাত্র ৩৪ রান। তার মধ্যে শূন্যের হ্যাটট্রিকও রয়েছে।
বিশ্বকাপে অভিষেক ১২.৭১ গড়ে রান করেছেন। স্ট্রাইক রেট ১৩০.৮৮। যে অভিষেক হাসতে হাসতে ২০০ স্ট্রাইক রেটে রান করতেন, তাঁর এই ফর্ম ভাবাচ্ছে সকলকে। তিনি খারাপ ফর্মে থাকায় চাপ বাড়ছে সঞ্জু স্যামসন, ঈশান কিশনদের উপর।
টি-টোয়েন্টিতে পাওয়ার প্লে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। প্রথম ছয় ওভারেই জয়ের ভিত গড়ে ফেলতে চায় সব দল। কিন্তু অভিষেক রানে না থাকায় তাতে সমস্যায় হচ্ছে। সঞ্জু সব ম্যাচে খেলবেন না। ঈশানও ব্যর্থ হতে পারেন। যদি তেমনটা হয়, তা হলে কে সামলাবে দলের ব্যাটিং। সেই কারণেই অভিষেকের ফর্মে ফেরা খুব জরুরি। নইলে সমস্যায় পড়তে পারে ভারত।
আইসিসির টি-টোয়েন্টি ক্রমতালিকায় এক নম্বর ব্যাটারের পাশাপাশি এক নম্বর বোলারও ভারতের চিন্তার জায়গা। বিশ্বকাপে বরুণ চক্রবর্তী ভারতীয় বোলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ১৩ উইকেট নিয়েছেন বটে, কিন্তু পুরনো বরুণ উধাও। ওভার প্রতি ৮.৮৫ রান দিয়েছেন তিনি। গ্রুপ পর্বে তা-ও কয়েকটি ম্যাচে ভাল বল করেছিলেন, কিন্তু সুপার এইট থেকে তাঁকে চেনা যাচ্ছে না।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে চার ওভারে ৬৪ রান দিয়েছেন তিনি। জেকব বেথেল, উইল জ্যাকসেরা বলে বলে ছক্কা মেরেছেন। বরুণের বৈচিত্র দেখা যাচ্ছে না। জোরে বল করার চেষ্টা করছেন। বলের গতি বাড়াতে গিয়ে আরও সমস্যায় পড়ছেন তিনি। বেশির ভাগ বল হয় মাঝ পিচে পড়ছে, নয়তো ব্যাটের গোড়ায়। ভারতীয় দলে তাঁর কাজ উইকেট নেওয়া। তা না করে বাঁচার চেষ্টা করছেন বরুণ। তাতে আরও সাধারণ মানের লাগছে তাঁকে।
একই অবস্থা অক্ষর পটেলেরও। তাঁকেও ব্যাটারেরা বুঝে ফেলছেন। সেমিফাইনালে পুরো চার ওভার তাঁকে দিয়ে করাতে পারেননি সূর্যকুমার যাদব। তিন ওভারে ৩৫ রান দিয়েছেন তিনি। ছয় ম্যাচে মাত্র ৮ উইকেট নিয়েছেন অক্ষর। তিনিও বাঁচার চেষ্টা করছেন।
ভারতীয় দলের শক্তি স্পিন আক্রমণ। মাঝের ওভারে স্পিনারের উইকেট তুলতে না পারলে সমস্যা হবে। ঠিক যে ছবি দেখা গিয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা ম্যাচে। মাঝের ওভারে উইকেট নিতে পারেননি স্পিনারেরা। ভারতকে হারতে হয়েছিল। নিউ জ়িল্যান্ডের ব্যাটারেরা স্পিন ভালই খেলেন। তাই বরুণ ও অক্ষরের উপর বাড়তি দায়িত্ব থাকবে। তাঁরা যদি নিজেদের উপর আত্মবিশ্বাস রেখে বৈচিত্রের দিকে নজর না দেন, সাহসী বোলিং করে উইকেট না নেওয়ার চেষ্টা করেন, তা হলে সমস্যায় পড়তে হতে পারে ভারতকে।
সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিরুদ্ধে ভাল ফিল্ডিং করেছে ভারত। অক্ষর দু’টি ভাল ক্যাচ ধরেছেন। হার্দিক রান আউট করেছেন। কিন্তু সেমিফাইনাল বাদে বিশ্বকাপে ভারতের ফিল্ডিং ভাল হয়নি। প্রতিযোগিতায় ১৩টি ক্যাচ ছেড়েছে ভারত, যা সুপার এইটে ওঠা দলগুলির মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সহজ রান আউট মিস্ হয়েছে। ফিল্ডিংয়েও চার গলেছে।
ব্যাটার বা বোলারেরা কোনও দিন ভাল খেলবেন, কোনও দিন খেলবেন না। কিন্তু কোনও দলের ফিল্ডিং ভাল হলে প্রতি ম্যাচে তা কাজে লাগবে। রবিবার ভারতের প্রতিপক্ষ এমন একটি দল যারা ফিল্ডিংয়ে ২০ রান বাঁচায়। তাই তাদের হারাতে গেলে ভারতের ফিল্ডিংও ভাল হতে হবে। এক বা দু’টি ভাল ক্যাচ ধরলে হবে না, গোটা ম্যাচ জুড়ে ভাল ফিল্ডিং করতে হবে। প্রতিটি বলের জন্য ঝাঁপাতে হবে। নিউ জ়িল্যান্ডের ব্যাটারদের চাপে রাখতে হবে। নইলে কিন্তু ফাইনাল জেতা সহজ হবে না ভারতের পক্ষে।