US-Iran War

ইরানিরা ‘উন্মাদ’, কটাক্ষ ট্রাম্পের! আমেরিকা-ইরান সংঘাতের ১০০তম দিনেও শান্তিচুক্তি না-হ‌ওয়ায় হুঁশিয়ারি মার্কিন প্রেসিডেন্টের

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের উদ্দেশে বলেন, “আমাকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী, অত্যন্ত বিপজ্জনক দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে থামাতে হয়েছিল। কারণ, তারা এটি ব্যবহার করত। তারা পৃথিবীকে উড়িয়ে দিত। তারা উন্মাদ। তারা পাগল।”

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৮ জুন ২০২৬ ০৩:১৩
Share:

ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।

ইরানের উপরে ক্ষুব্ধ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। রবিবার আমেরিকা-ইরান সংঘাত ১০০ দিন পেরোল। এখনও ইরান-আমেরিকা শান্তিচুক্তি অধরা। আর সেই কারণে ইরানিদের ‘উন্মাদ’ বলে কটাক্ষ করলেন ট্রাম্প। রবিবার একটি সাক্ষাৎকারে তিনি এ কথা বলেন। এমনকি দেশটিকে ‘উড়িয়ে দেওয়ার’ও হুমকি দেন ট্রাম্প।

Advertisement

সংবাদমাধ্যম ‘এনবিসি নিউজ়ের’ ওই সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ইরানের উদ্দেশে বলেন, “আমাকে একটি অত্যন্ত শক্তিশালী, অত্যন্ত বিপজ্জনক দেশকে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করা থেকে থামাতে হয়েছিল। কারণ, তারা এটি ব্যবহার করত। তারা পৃথিবীকে উড়িয়ে দিত। তারা উন্মাদ। তারা পাগল।”

ট্রাম্পের দাবি, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র পেতে না দিয়ে তিনি বিশ্ব ও আমেরিকার ‘উপকার’ করছেন।

Advertisement

মার্কিন প্রেসিডেন্ট আরও বলেন, “তিনি আলোচনার মাধ্যমে ইরানের তথাকথিত পারমাণবিক অস্ত্র থাকার বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে চান এবং একই সঙ্গে কড়া হুমকিও দিয়েছেন।” তাঁর সংযোজন, “আমরা আলোচনার মাধ্যমেও চুক্তির খুব কাছাকাছি চলে এসেছি।” ট্রাম্পের হুঁশিয়ারি, “এর অন্যথা হলে আমি তাদের একেবারে উড়িয়ে দেব এবং সেটা আমার জন্য খুবই সহজ হবে।”

ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধটি কোনও অন্তহীন সংঘাত নয়। তিনি বলেন, “আমি এই অন্তহীন যুদ্ধগুলো পছন্দ করি না। এটা কোনও অন্তহীন যুদ্ধ নয়। তিন মাস ধরে এই যুদ্ধ চলছে এবং এর বেশির ভাগ সময়ই যুদ্ধবিরতি ছিল।”

অতীতে ট্রাম্প বার বার দাবি করেছেন, ইরানের সব বাহিনী শেষ। তাদের নেতাদের নির্মূল করেছে মার্কিন বাহিনী। তবে এখন মার্কিন প্রেসিডেন্ট মনে করেন, যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ক্ষমতা রয়েছে ইরানের।

তাঁর কটাক্ষ, ইরান নিজেকে শক্তিশালী মনে করে। এখনও পর্যন্ত চুক্তি চূড়ান্ত না-হওয়ায় তারা ‘গর্বিত’ও। তবে ট্রাম্প এ-ও মনে করেন, চুক্তিতে সম্মত হওয়া ছাড়া ইরানের কাছে আর কোনও পথ খোলা নেই।

প্রসঙ্গত, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করেছিল পেন্টাগন। একই দিনে ইরানে হামলা চালিয়েছিল ইজ়রায়েলি বিমানবহরও। সেই অভিযানের পোশাকি নাম ছিল ‘অপারেশন রোরিং লায়ন’ বা ‘লায়নস রোর’। পাল্টা ইরানি সেনা পশ্চিম এশিয়ায় ইজ়রায়েল এবং আমেরিকা ও তার মিত্র দেশগুলির বিরুদ্ধে শুরু করে ‘অপারেশন ট্রু প্রমিস ৪’। ইরানের শীর্ষনেতা আয়াতোল্লা খামেনেই-সহ একাধিক প্রথম সারির সামরিক ও অসামরিক নেতার মৃত্যু হলেও নতিস্বীকার করেনি তারা। শেষপর্যন্ত সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয় দু’পক্ষ। এর পর দু’পক্ষের আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি অন্তর্বর্তিকালীন চুক্তির খসড়ায় বলা হয়, তেহরান আবার হরমুজ় প্রণালী খুলে দেবে এবং ইরানের পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা শুরু হবে। কিন্তু ট্রাম্প এখনও চুক্তিটিতে চূড়ান্ত অনুমোদন দেননি। আবার পারমাণবিক কর্মসূচি বন্ধ করার বিষয় নিয়ে মার্কিন শর্ত মানতে রাজি নয় ইরানও। তাই এখনও চুক্তিজট কাটেনি।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement