আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। —ফাইল চিত্র।
ইরানের সঙ্গে সমঝোতার জন্য আলোচনা চলছে। তার মধ্যেই দেশের পরমাণু বিশেষজ্ঞদের কাছে দূত পাঠালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর বিশেষ দূত হিসাবে স্টিভ উইটকফ এবং ট্রাম্পের জামাতা জারেড কুশনার সম্প্রতি টেনেসির ওক রিজের জাতীয় গবেষণাগারে গিয়েছিলেন। সেখানে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেন তাঁরা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিয়সের রিপোর্টে দাবি, এই বিশেষজ্ঞদল ইরানের সঙ্গে পরমাণু চুক্তির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে পারে।
ট্রাম্প প্রথম থেকেই দাবি করে আসছেন, ইরানকে কোনও ভাবেই তাঁরা পরমাণু শক্তিধর রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেবেন না। ইরানের যাবতীয় পারমাণবিক কার্যকলাপ যাতে বন্ধ হয়, পারমাণবিক সম্পদের ভান্ডার যাতে নিশ্চিহ্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে ওয়াশিংটন বদ্ধপরিকর। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইরানের যৌথ বাহিনীর ইরান আক্রমণের মূল উদ্দেশ্যও তা-ই ছিল। এখন সংঘর্ষবিরতি চলছে। তবে আমেরিকার এই পরমাণু চুক্তি সংক্রান্ত সমস্ত শর্ত মানতে চাইছে না তেহরান। উইটকফরা পরমাণু বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে দেখা করায় এই সংক্রান্ত আলোচনা আরও জোরালো হল। ইরানের পরমাণু চুক্তি নিয়েই তাঁদের মধ্যে কথা হয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকার দাবি, ইরানের যে পরমাণুঘাঁটি মাটির উপরে ছিল, তা তাদের হামলাতেই ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। কিন্তু ভূগর্ভস্থ দু’টি পরমাণুকেন্দ্র এখনও অক্ষত রয়েছে। রাষ্ট্রপুঞ্জের তত্ত্বাবধানে সেগুলিও ধ্বংস করতে চায় মার্কিন বাহিনী। ইরান এই শর্তে রাজি নয়। তাই আপাতত যুদ্ধ থামানোর বিষয়ে একটি সমঝোতায় পৌঁছে ইরানের সঙ্গে পরমাণুচুক্তির আরও নিবিড় আলোচনা শুরু করতে চায় আমেরিকা। রিপোর্টে দাবি, সমঝোতার আলোচনা চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। তবে চুক্তি এখনও দূরে। মনে করা হচ্ছে, পরমাণুচুক্তি নিয়ে আলোচনার প্রস্তুতি সেরে রাখতে চাইছে হোয়াইট হাউস। বিশেষজ্ঞদের তার জন্য তৈরি রাখা হচ্ছে। এক মার্কিন আধিকারিকের কথায়, ‘‘ওক রিজের এই বৈঠকের মানে এই নয় যে চুক্তি হয়ে যাচ্ছে। তবে সমঝোতা অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে আছে বলে মনে হচ্ছে। চুক্তি সম্পন্ন হওয়ার সুযোগও রয়েছে। আমরা প্রস্তুত থাকতে চাই।’’
ইরানের সঙ্গে প্রাথমিক একটি সমঝোতা হয়ে গেলেই পরমাণুচুক্তি নিয়ে পুরোদমে আলোচনা শুরু করে দেবে আমেরিকা। তার জন্য প্রায় ১০০ জন বিশেষজ্ঞকে নিয়ে একটি দল তৈরি করা হয়েছে বলে খবর। দুই দেশের মধ্যে সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান, মিশর-সহ বেশ কয়েকটি দেশ। শনিবার পাকিস্তানের মন্ত্রী মহসিন নকভি তেহরানে গিয়েছেন। ইরানের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর সঙ্গে তিনি দেখা করবেন।