(বাঁ দিকে) ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজ়েশকিয়ান এবং আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প (ডান দিকে)। গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।
ইরানের যে পরিমাণ সম্পত্তি আমেরিকা বাজেয়াপ্ত (ফ্রোজ়েন) করে রেখেছে, তা ইরানকে ফেরানো তো দূর, বরং তা নিয়ে পশ্চিম এশিয়ায় ‘ক্ষতিপূরণ’ করার কথা ভাবছে ওয়াশিংটন। পশ্চিম এশিয়ার ‘বন্ধু’ দেশগুলির মধ্যে ওই সম্পত্তি বিলিয়ে দেওয়া হতে পারে। সংবাদসংস্থা রয়টার্স সূত্র উল্লেখ করে এমনটাই দাবি করেছে। ইরানের হামলায় উপসাগরীয় অঞ্চলে এখনও পর্যন্ত কত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তার একটি হিসাব সম্প্রতি চেয়ে পাঠিয়েছেন মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট। তার পর এই জল্পনা আরও জোরালো হয়েছে।
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনেইয়ের সামরিক পরামর্শদাতা মহসেন রেজ়ায়েই সম্প্রতি মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-কে দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারে বাজেয়াপ্ত সম্পদের প্রসঙ্গ তুলেছিলেন। বলেছিলেন, ইরানের ২৪০০ কোটি ডলারের (ভারতীয় মুদ্রায় ২.২ লক্ষ কোটি টাকার বেশি) সম্পদ আমেরিকা বাজেয়াপ্ত করে রেখেছে। তা মুক্ত না করা পর্যন্ত সমঝোতার চুক্তি হওয়া সম্ভব নয়। ‘বল’ এখন আমেরিকার কোর্টে রয়েছে বলেও তিনি দাবি করেছিলেন। তার পরেই ইরানের সম্পদ নিয়ে আমেরিকার নতুন ভাবনা প্রকাশ্যে এল। যদিও হোয়াইট হাউসের তরফে আনুষ্ঠানিক ভাবে এমন কোনও ঘোষণা করা হয়নি।
কিছু দিন আগে কুয়েত এবং বাহরিনে হামলা চালিয়েছিল ইরান। হতাহতের খবর না-থাকলেও ওই হামলায় দু’টি দেশেই বেশ কিছু ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বেসেন্ট একটি দলকে পশ্চিম এশিয়ায় পাঠিয়েছেন। ইরানের আগ্রাসনের ফলে কোন দেশে কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা নিবি়ড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করবে ওই দল। ক্ষতিপূরণ কোথায় কতটা প্রয়োজন, তারাই মূল্যায়ন করবে। তবে আমেরিকার রাজস্ব দফতর ইরানের ঠিক কী ধরনের সম্পদ পর্যবেক্ষণ করছেন, তা এখনও স্পষ্ট নয়। রয়টার্স জানিয়েছে, বাজেয়াপ্ত সম্পদের বাইরে অন্য সম্পদও এই কাজে ব্যবহার করা হতে পারে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি আমেরিকা এবং ইজ়রায়েলের যৌথ বাহিনী ইরান আক্রমণ করেছিল। তার পর থেকেই উত্তপ্ত পশ্চিম এশিয়া। সেখানে অবস্থিত মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য করে প্রত্যাঘাত করে চলেছে ইরান। কুয়েত, বাহরিন ছাড়াও ওমান, সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরশাহি, কাতারের মতো দেশে হামলা চালানো হয়েছে। আপাতত আমেরিকা-ইরানের মধ্যে সংঘর্ষবিরতি চলছে। স্থায়ী শান্তি স্থাপনের জন্য চলছে আলোচনাও। তবে আমেরিকা যদি ইরানের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি অন্য দেশকে দিয়ে দেয়, সে ক্ষেত্রে এই সংঘাতের পারদ আরও চড়তে পারে। এত সহজে তেহরান তা মেনে নেবে না বলেই মনে করা হচ্ছে।
শনিবার হরমুজ় প্রণালীর কাছে ইরানের গোরুক এবং কেশম দ্বীপে উপকূলীয় রেডার সাইটগুলিতে হামলা চালিয়েছিল আমেরিকা। রবিবারও দু’টি ইরানি ড্রোন ধ্বংস করা হয়েছে। এর মধ্যে পাকিস্তানের মন্ত্রী মহসিন নকভি মোজতবার জন্য একটি চিঠি নিয়ে তেহরানে পৌঁছেছেন। সমঝোতার সেই চেষ্টা সফল হয় কি না, সেটাই দেখার।