IPO Investment

ইস্যু মূল্যের নীচে গড়াগড়ি খাচ্ছে প্রতি তিনের মধ্যে দু’টির দাম! নতুন অর্থবর্ষে অস্থির বাজারে পকেট ভরাবে আইপিও?

আইপিও আবেদনকারীদের একেবারেই ভাল যায়নি ২০২৫-’২৬ অর্থবর্ষ। প্রতি তিনটের মধ্যে দু’টি সংস্থার স্টকের দর গড়াগড়ি খাচ্ছে ইস্যু মূল্যের নীচে। ইরান যুদ্ধের জেরে এ বছর এখনও পর্যন্ত যথেষ্ট অস্থির শেয়ারবাজার। ফলে দ্রুত মুনাফার আশায় আইপিওর জন্য ঝাঁপানো কি আদৌ যুক্তিযুক্ত?

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ০৪ এপ্রিল ২০২৬ ১৪:২৩
Share:

—প্রতীকী ছবি।

ইরান যুদ্ধের জেরে মারাত্মক অস্থির শেয়ারবাজার। একদিন সূচক ওঠে তো পরের দিনই তা গড়াগড়ি খায় খাদে! গোদের উপর বিষফোড়ার মতো গত আর্থিক বছরে (পড়ুন ২০২৫-’২৬) ‘ইনিশিয়াল পাবলিক অফারিং’ বা আইপিও লগ্নিতে মেলেনি বাম্পার রিটার্ন। ফলে সদ্য শুরু হওয়া অর্থবর্ষে (২০২৬-’২৭) এতে বিনিয়োগে মুনাফার সম্ভাবনা কতটা? ইতিমধ্যেই এই বিষয়ে বাজার বিশ্লেষকদের মধ্যে তুঙ্গে উঠেছে জল্পনা।

Advertisement

ব্রোকারেজ ফার্মগুলির দেওয়া পরিসংখ্যান অনুযায়ী, গত আর্থিক বছরে (২০২৫-’২৬) প্রতি তিনটি আইপিওর মধ্যে ইস্যু মূল্যের নীচে দু’টির চলছে লেনদেন। শুধু তা-ই নয়, প্রায় ৬৬ শতাংশ আইপিও বর্তমানে তাদের অফার মূল্যের নীচে দাঁড়িয়ে আছে। ফলে লগ্নিকারীদের বিপুল লোকসানের মুখ দেখতে হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট স্টকগুলির এখনই বৃদ্ধির সম্ভাবনা কম বলেও জানিয়েছেন বিশ্লেষকদের একাংশ।

একটা উদাহরণের সাহায্যে বিষয়টি বু‌ঝে নেওয়া যেতে পারে। শেয়ারবাজার সূত্রে খবর, বর্তমানে ১৫টি সংস্থার স্টকের দাম তাদের ইস্যু মূল্যের ৫০ শতাংশ নীচে নেমে গিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, গ্লটিস, ভিএমএস টিএমটি, মঙ্গল ইলেকট্রিক্যাল, জিনকুশল ইন্ডাস্ট্রিজ ও শ্রী রাম টুইস্টেক্সের মতো সংস্থাগুলির শেয়ারের দর ৭০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। এই দুই পরিসংখ্যান যে যথেষ্ট আতঙ্কের তা বলাই বাহুল্য।

Advertisement

তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, গত ১২-১৮ মাস ধরে অস্বাভাবিক চাপের মধ্যে রয়েছে ভারতের ইক্যুইটি বাজার। তবে আশার কথা হল সম্প্রতি মিডক্যাপ এবং স্মলক্যাপ সংস্থাগুলির স্টকের সূচকে ভাল রকমের সংশোধন দেখা গিয়েছে। গত আর্থিক বছরে এই দুই শ্রেণিভুক্ত ছিল অধিকাংশ আইপিও। ফলে ঝুঁকি বেশি থাকার কারণে সেগুলি তুলনামূলক ভাবে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

আর্থিক বিশ্লেষকদের দাবি, এর জেরে চলতি বছরে লগ্নিকারীদের আচরণে কিছুটা মূলগত পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। এত দিন দ্রুত ভাল মুনাফা পেতে আইপিওতে ঢালাও বিনিয়োগ করছিলেন তাঁরা। কিন্তু, এখন সেখানে অনেক বেশি সতর্কতা অবলম্বন করতে দেখা যাচ্ছে বিনিয়োগকারীদের। বাজারে মন্দা থাকলে এই প্রবণতা বজায় থাকবে বলেই মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।

Advertisement

আইপিওর তালিকাভুক্তিতে অনেকেই ধূসর বাজারের সূচককে গুরুত্ব দিয়ে থাকেন। ফেব্রুয়ারির পর থেকে তা-ও বেশ দুর্বল হয়ে পড়েছে। বিশ্লেষকদের দাবি, বিগত বছরগুলিতে প্রয়োজনের তুলনায় লগ্নিকারীদের আবেদনের মাত্রা ছিল অনেক বেশি। সেই উন্মাদনা পুরোপুরি কমে গিয়েছে। তবে আইপিওতে বিনিয়োগ একেবারেই লাভজনক নয়, সে কথা বলা যাবে না।

নতুন আর্থিক বছরের (২০২৬-’২৭) প্রথম সপ্তাহেই ইরান যুদ্ধে ইতি ঘটিয়ে পশ্চিম এশিয়া থেকে সৈন্য প্রত্যাহারের ইঙ্গিত দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ফলে বাজারে সামান্য চাঙ্গা ভাব এসেছে। ফলে আগের মতো না হলেও কিছু দিনের মধ্যে ফের আইপিওতে তুঙ্গে উঠতে পারে বৃহস্পতি। তবে বর্তমানে সাবধানে এতে আবেদনের পরামর্শ দিচ্ছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা।

(বিশেষ দ্রষ্টব্য: শেয়ার বাজারে লগ্নি বাজারগত ঝুঁকি সাপেক্ষ। আর তাই বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ মেনেই স্টকে বিনিয়োগ করুন। এতে আর্থিক ভাবে লোকসান হলে আনন্দবাজার ডট কম কর্তৃপক্ষ কোনও ভাবেই দায়ী নয়।)

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement