India-EU

ট্রাম্পের শুল্কবাণে প্রায় হাতছাড়া আমেরিকার বাজার, ইইউ-কে নিয়ে আশায় গয়নাশিল্প

জিজেইপিসি-র এগ্‌জ়িকিউটিভ ডিরেক্টর সব্যসাচী রায় বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরে এই চুক্তির অপেক্ষায় ছিলাম। ইইউ-র ২৭টি দেশে আমাদের রফতানি বাড়ানোর রাস্তা খুলল। হিরে, রঙিন পাথর, সোনা, রুপো এবং ইমিটেশন মিলিয়ে প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের গয়না যায়।

প্রজ্ঞানন্দ চৌধুরী

শেষ আপডেট: ০১ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৯:১২
Share:

—প্রতীকী চিত্র।

ভারতের গয়না এবং দামি পাথরের বৃহত্তম বাজার ছিল আমেরিকা। যা প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপানো ৫০% শুল্কের ধাক্কায় হাতছাড়া হতে বসেছে। লোকসানের জেরে কেউ রফতানি বন্ধ করেছে, কোনও সংস্থায় চাকরি হারিয়েছেন কর্মী। এই ক্ষেত্রের রফতানিকারীদের সংগঠন জিজেইপিসি-র দাবি, এমন পরিস্থিতিতে ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে ভারতের অবাধ বাণিজ্য চুক্তি নতুন করে মাথা তোলা ভরসা তো জোগাচ্ছেই। সেই সঙ্গে পরিসর তৈরি করছে আমেরিকার বাজারের ক্ষতি পুষিয়ে ব্যবসা বৃদ্ধিরও। তাদের দাবি, চুক্তি সই হওয়ার পরে ইউরোপীয় অঞ্চলের ২৭টি দেশে ভারত থেকে রত্নালঙ্কার রফতানি আগামী তিন বছরে দ্বিগুণ হওয়ার আশা। কর্মসংস্থান হবে দেড় লক্ষেরও বেশি মানুষের।

জিজেইপিসি-র এগ্‌জ়িকিউটিভ ডিরেক্টর সব্যসাচী রায় বলেন, ‘‘দীর্ঘ দিন ধরে এই চুক্তির অপেক্ষায় ছিলাম। ইইউ-র ২৭টি দেশে আমাদের রফতানি বাড়ানোর রাস্তা খুলল। হিরে, রঙিন পাথর, সোনা, রুপো এবং ইমিটেশন মিলিয়ে প্রায় ২৫০ কোটি ডলারের গয়না যায়। বছর তিনেকের মধ্যে তা ৫০০ কোটি ডলার হতে পারে।’’ তাঁর দাবি, রত্নালঙ্কারে আমেরিকা ছিল ভারতের বৃহত্তম বাজার। বছরে ১০০০ কোটি ডলারের রফতানি হত। যা প্রায় অর্ধেক (৪৪%) কমেছে। ইউরোপের ২৭টি দেশে অবাধ বাণিজ্য সেই ঘাটতি মেটাতে পারে।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, এমনিতেই ইইউ-র দেশগুলির থেকে ভারতে গয়না তৈরি হয় কম মজুরিতে। তার উপর এখন এ দেশের গয়না এবং দামি পাথরে সেখানে ২-৪ শতাংশ শুল্ক বসলেও, চুক্তি রূপায়নের পরে তা শূন্য হবে। ফলে দাম কমবে অনেকটা। এ দেশের হাতের কাজের গয়নার বিরাট চাহিদা ইউরোপ জুড়ে। সব মিলিয়ে ইইউ-র সংস্থাগুলির সঙ্গেও পাল্লা দিতে পারবে ভারত। সব্যসাচী বলেন, ‘‘বর্তমানে ৪৫ লক্ষেরও বেশি কারিগর এবং অন্যান্য কর্মী এ দেশের গয়না শিল্পের সঙ্গে যুক্ত। এই চুক্তি রফতানি বাড়ালে আরও প্রায় দেড় লক্ষ কর্মসংস্থান হতে পারে। যার প্রায় পুরোটাই ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্পে।’’ সব্যসাচী জানান, সেখানে গয়না রফতানি বাড়লে বিশেষত কলকাতা এবং সিঙ্গুর উপকৃত হবে। কারণ, হাতের কাজের গয়না তৈরিতে কলকাতা এবং ইমিটেশন গয়নায় হুগলির সিঙ্গুর বিখ্যাত।

সেনকো গোল্ডের এমডি শুভঙ্কর সেনের দাবি, ‘‘ইউরোপে গয়না রফতানি করি আমরা। এ বার বাজারের দখল বাড়াব।’’ কলকাতার গিনি এম্পোরিয়ামের ডিরেক্টর সমর দে বলছেন, ‘‘আমেরিকায় চড়া শুল্কের কারণে রফতানি করাই বন্ধ করেছিলাম। এ বার ফের চালু হবে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন

এটি একটি প্রিমিয়াম খবর…

  • প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর

  • সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ

  • সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে

সাবস্ক্রাইব করুন