ঢিমেতালেই চলছে শিল্প। আর, তার জেরেই অর্থনীতি নিয়ে উদ্বেগ কাটছে না মোদী সরকারের। জানুয়ারিতে শিল্পোৎপাদন ফের সরাসরি কমলো ১.৫%। এই নিয়ে নভেম্বর থেকে তিন মাস তা বাড়া তো দূরের কথা, তা একটানা ঝিমিয়েই রয়েছে।
শুক্রবার সরকারি পরিসংখ্যানে প্রকাশ, জানুয়ারিতে শিল্পের এই বেহাল দশার জন্য মূলত দায়ী মূলধনী পণ্যের উৎপাদন ওই মাসে এক ধাক্কায় ২০.৪% পড়ে যাওয়া। আগের বছর একই সময়ে দীর্ঘ মেয়াদে ব্যবহারের এই সব পণ্যের উৎপাদন বেড়েছিল ১২.৪%। এ বার ভোগ্যপণ্যের উৎপাদনও থমকে রয়েছে এক জায়গায়।
শিল্পোৎপাদনের সূচকের ৭৫ শতাংশই কল-কারখানার উৎপাদনের ভিত্তিতে হিসাব করা হয়। জানুয়ারিতে এই উৎপাদন সঙ্কুচিত হয়েছে ২.৮%।
তবে দুশ্চিন্তার কালো মেঘের আড়ালেও রয়েছে রুপোলি রেখা। খনন ক্ষেত্রে উৎপাদন এ বার বেড়েছে ১.২%। বিদ্যুৎ ৬.৬%। ফ্রিজ-টিভি-ওয়াশিং মেশিনের মতো গৃহস্থালির ভোগ্যপণ্য উৎপাদনও বেড়েছে ৫.৮%। দৈনন্দিন ব্যবহারের ভোগ্যপণ্য উৎপাদন অবশ্য কমেছে ৩.১%।
বস্তুত, কল-কারখানায় তৈরি ২২ ধরনের শিল্প-পণ্যের মধ্যে জানুয়ারিতে ১০টির উৎপাদনই থেকেছে নিম্নমুখী। ফলে এই উৎপাদন এ বছর ৯.৫% হারে বাড়বে বলে কেন্দ্র যে-পূর্বাভাস দিয়েছে, তার যৌক্তিকতা নিয়েই সন্দিহান বিশেষজ্ঞরা। তাঁদের মতে ঢিমেতালে চলা অর্থনীতিতে চাহিদা না-বাড়ায় হাল ফিরছে না শিল্পের। আবার শিল্প চাঙ্গা না-হওয়ায় চাহিদাকেও টেনে তোলা যাচ্ছে না। সরকারি লগ্নি বাড়িয়ে সরকার এই দুষ্টচক্র থেকে কতটা বেরিয়ে আসতে পারবে, সে দিকেই এখন তাকিয়ে সকলে।