ছবি: সংগৃহীত।
তথ্যপ্রযুক্তি খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রভাব বিস্তার নিয়ে বিশ্বজো়ড়া উদ্বেগ। বিশেষ করে সফ্টঅয়্যার খাতে মন্দার আশঙ্কায় থরহরিকম্প বিনিয়োগকারীরা। তাঁদের মনে আশঙ্কা দেখা দিয়েছে যে, এআই প্রযুক্তি যে ভাবে বিস্ফোরিত হচ্ছে তাতে সফ্টঅয়্যার শিল্পে বড়সড় ধস নামতে পারে। এই পরিস্থিতিতে আশার বাণী শুনিয়েছেন মাইক্রোসফ্টের এক শীর্ষকর্তা। কৃত্রিম মেধা নিয়ে শঙ্কার কথা নাকচ করে দিয়েছেন রাজেশ ঝা। মাইক্রোসফ্টের এক্সপিরিয়েন্সেস ও ডিভাইসেস গ্রুপের এক্জ়িকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট।
রাজেশের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাড়বাড়ন্ত সফ্টওয়্যার খাতের জন্য আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে। তাঁর মতে, এআই এজেন্টদের ব্যবহারের জন্যও সফ্টওয়্যার লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ বিভিন্ন সংস্থা যখন মানবকর্মীর বদলে যখন হাজার হাজার ডিজিটাল এজেন্ট মোতায়েন করবে, তখন প্রথাগত কর্মীর সংখ্যা কমলেও সফ্টঅয়্যারের ক্ষেত্রগুলিতে রাজস্বের পরিমাণ বাড়তে পারে। এআই প্রযুক্তি যতই উন্নত হোক না কেন, তা ব্যবহারের জন্য এখনও কিছু মৌলিক সফ্টঅয়্যার এবং পরিকাঠামোর প্রয়োজন। তাই, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অগ্রগতি সফ্টঅয়্যার শিল্পকে ধ্বংস করার বদলে নতুন ভাবে দেখতে সাহায্য করবে বলে মত মাইক্রোসফ্টের শীর্ষকর্তার।
রাজেশের দৃষ্টিভঙ্গিটি বেশ চমকপ্রদ। তিনি মূলত বলতে চেয়েছেন যে, এআই প্রযুক্তির কারণে মানবকর্মীর সংখ্যা কমলেও সফ্টওয়্যার খাতে আয়ের সুযোগ বা ‘সিট অপরচুনিটি’ কমবে না, বরং বাড়বে। ধরা যাক কোনও সংস্থা কর্মীসংখ্যা কমিয়ে ১০ জন করল। প্রতি কর্মীর জন্য পাঁচটি করে অর্থাৎ মোট ৫০টি এআই এজেন্ট নিয়োগ করল। তবে ওই ১০ জন মানুষের পাশাপাশি ৫০টি ডিজিটাল এজেন্টের জন্যও লাইসেন্সের প্রয়োজন হতে পারে।
মোট লাইসেন্সের সংখ্যা ২০ থেকে বেড়ে ৬০-এ গিয়ে দাঁড়াতে পারে। রাজেশের মতে, এই ডিজিটাল এজেন্টই হয়ে উঠবে সফ্টওয়্যার সংস্থাগুলির নতুন আয়ের উৎস। প্রতিটি সক্রিয় এআই এজেন্টের জন্যও লাইসেন্স ফি দিতে হবে। এই মডেলটি যদি সফল হয়, তবে সফ্টওয়্যার খাতের ধস নামার যে আশঙ্কা বিনিয়োগকারীরা করছেন, তা হয়তো বাস্তবে ঘটবে না। বরং এটি এন্টারপ্রাইজ় সফ্টওয়্যার ব্যবসার পরিধি আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।