— প্রতীকী চিত্র।
আবেদন নয়। বাধ্যতামূলক ভাবে গ্রাহকদের একাংশের রান্নার গ্যাস সিলিন্ডারে ভর্তুকি পাওয়ার সুবিধা বন্ধ করতে উদ্যোগী হল মোদী সরকার। পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের নির্দেশে এই পদক্ষেপ করছে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থাগুলি। সূত্রের দাবি, বার্ষিক আয় ১০ লক্ষ টাকার বেশি হলে গত রবিবার থেকে তাঁদের গ্যাসের ভর্তুকি ছেড়ে দেওয়ার জন্য একটি লিঙ্ক সম্বলিত বার্তা পাঠানো হচ্ছে। সাত দিনের মধ্যে তার জবাব দিতে বলা হয়েছে। না হলে ভর্তুকি বন্ধ হয়ে যাবে।
বর্তমানে রাজ্যের বিভিন্ন শহরে গৃহস্থালির রান্নার গ্যাসে ভর্তুকির পরিমাণ ভিন্ন। কলকাতা এবং শহরতলিতে তা ১৯.৫৭ টাকা। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, গ্যাসের ৯৩৯ টাকা দামের তুলনায় ভর্তুকির পরিমাণ যৎসামান্য। তবু তা ছিল। আগামী দিনে কিছুটা বৃদ্ধির প্রত্যাশাও করছিলেন একাংশ। কিন্তু বছরে ১০ লক্ষ টাকা পর্যন্ত আয়ের শর্তে ভর্তুকিকে বেঁধে দেওয়ায় বহু মধ্যবিত্ত এর বাইরে চলে গেলেন। গ্যাসের দামে যাঁদের নাভিশ্বাস ওঠার অবস্থা।
তেল বিপণন সংস্থাগুলির দাবি, বিষয়টি নতুন নয়। বছর দুয়েক আগেই কেন্দ্র ভর্তুকি ছাড়ার জন্য আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল গ্রাহকদের কাছে আবেদন করেছিল। সেই প্রকল্প এখনও আছে। সেখানেই সিদ্ধান্ত হয় ১০ লক্ষ টাকা বার্ষিক আয় হলে গ্রাহক চাইলে ভর্তুকি ছাড়তে পারেন। এতদিন বিষয়টি ছিল ঐচ্ছিক। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের আবহে তা বাধ্যতামূলক হতে চলেছে। তেল সংস্থা জানিয়েছে, গ্রাহকদের পাঠানো বার্তায় একটি লিঙ্ক রয়েছে। সেখানে ক্লিক করে সাত দিনের মধ্যে মন্তব্য পাঠাতে হবে। না হলে পরের সিলিন্ডার থেকে বন্ধ হবে ভর্তুকি।
কেরল, নয়াদিল্লি, গুজরাতেও এই বার্তা পচ্ছেন গ্রাহকদের একাংশ। তেল সংস্থাগুলি এ নিয়ে সরকারি ভাবে কিছু বলেনি। তবে সূত্র জানাচ্ছে, বার্তা পাঠাচ্ছে মূলত তারাই। আগামী কয়েক দিনে আরও অনেকে তা পাবেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থার এক কর্তার কথায়, ‘‘১০ লক্ষ টাকা আয়ের ব্যক্তির বছরে সাকুল্যে ২৪০ টাকা ভর্তুকির প্রয়োজন নেই। তাই এই উদ্যোগ।’’
যদিও কলকাতায় গ্যাস ডিলার বা বিক্রেতাদের সিংহভাগের দাবি, তাঁদের কাছে এই নিয়ে নির্দেশিকা আসেনি। একাংশ জানিয়েছেন, লিখিত নির্দেশিকা পেয়েছেন। তবে বিষয়টি মন্ত্রকের পক্ষ থেকে আয়কর দফতরের সঙ্গে যোগাযোগ করে করা হচ্ছে। গ্রাহকদের এসএমএসে আয়কর দফতর থেকে প্রাপ্ত তথ্যের কথা বলা আছে। শহরে ইন্ডেন গ্যাসের এক বিক্রেতার কথায়, ‘‘কেন্দ্র বছর দুয়েক আগে ‘গিভ আপ’ প্রকল্প এনেছিল। কিন্তু সাড়া মেলেনি। সম্ভবত সেই কারণেই এ বার ডিলারদের বাদ রেখে সরাসরি গ্রাহকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল, এসএমএসের উত্তর না দিলে আপনাআপনি ভর্তুকি বাতিল হয়ে যাবে। ফলে এই ধরনের গ্রাহকদের ৯০% আর তা পাবেন না।’’ তেল সংস্থা সূত্রের বার্তা, উজ্জ্বলা-সহ যে গ্রাহকদের ভর্তুকির প্রয়োজন, তাঁরা যাতে টাকা ঠিকঠাক পান, সেই লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে