—প্রতীকী ছবি।
আসন্ন বাজেটে দম্পতিদের সুখবর শোনাতে পারে কেন্দ্রের নরেন্দ্র মোদী সরকার। ২০২৬ সালের কেন্দ্রীয় বাজেটে যৌথকর বা ‘জয়েন্ট ট্যাক্সেশন’ নিয়ে বড়সড় করছাড়ের ঘোষণা করতে পারে কেন্দ্র। এমনটাই আভাস দিয়েছেন অর্থনৈতিক বিশেষজ্ঞদের একাংশ। সূত্রের খবর, অর্থ মন্ত্রক আগামী অর্থবর্ষে (২০২৬-২০২৭) একটি ঐচ্ছিক যৌথ করব্যবস্থা চালু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই করব্যবস্থার আওতায় স্বামী এবং স্ত্রী যৌথ ভাবে আয়কর জমা করার সুযোগ পেতে পারেন।
বর্তমানে করব্যবস্থায় দম্পতিদের আলাদা আলাদা কর দিতে হয়। প্রস্তাবিত করকাঠামোয় দম্পতিরা তাঁদের আয় একত্রিত করে একটিই আয়কর রিটার্ন দাখিল করার সুযোগ পাবেন। তবে যৌথ কর দাখিল বাধ্যতামূলক হবে না। পুরোটাই ঐচ্ছিক। যৌথ ফাইলিং বেছে নেওয়ার জন্য স্বামী, স্ত্রী উভয়েরই স্থায়ী অ্যাকাউন্ট নম্বর (প্যান) থাকা বাধ্যতামূলক। নতুন কাঠামো চালু করা হলে একটি পরিবারকে করের ক্ষেত্রে একটি একক অর্থনৈতিক ‘ইউনিট’ হিসাবে ধরা হবে। সেখানে দম্পতিদের মিলিত আয়ের উপর কর প্রস্তাবিত হবে। একটি মাত্র রিটার্ন জমা করতে হবে।
ইনস্টিটিউট অফ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ ইন্ডিয়ার মতো আর্থিক সংস্থার পরামর্শ, ভারতের উচিত যৌথকর দাখিলের ব্যবস্থা চালু করা। বিশেষজ্ঞদের অভিমত, এর ফলে একক উপার্জনক্ষম পরিবারগুলি সবচেয়ে বেশি উপকৃত হবে। চলতি করকাঠামোয় ভারতে বিবাহিত ও অবিবাহিতদের কোনও আলাদা করকাঠামো নেই। দম্পতিদের আলাদা ভাবে কর দিতে হয়। যদি পরিবারের স্বামী বা স্ত্রী উপার্জনক্ষম না হন, তা হলে মৌলিক করছাড়ের সীমা নাগালের বাইরেই থাকে।
সম্ভাব্য কর কাঠামোয় স্বামী এবং স্ত্রীর সম্মিলিত আয়ের উপর একসঙ্গে কর বসানো হবে। তবে এ ক্ষেত্রে সম্ভবত পৃথক করকাঠামো তৈরি করা হবে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে যে মৌলিক করছাড়ের সীমা বৃদ্ধি করা হতে পারে। এমনকি যদি স্বামী কিংবা স্ত্রী উভয়ই উপার্জনকারী হন, তবুও তাঁরা পৃথক স্ট্যান্ডার্ড ডিডাকশনের জন্য যোগ্য হতে পারেন।
২০২৬ সালের বাজেটে সারচার্জেও পরিবর্তন আনতে পারে মোদী সরকার। সারচার্জের উপর ছাড় ঘোষণা করতে পারেন কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমণ। বর্তমানে ৫০ লক্ষ টাকার বেশি আয়ের উপর সারচার্জ প্রযোজ্য। যৌথকরের অধীনে, এই সীমা ৭৫ লক্ষ টাকা বা তার বেশি করা যেতে পারে। এর ফলে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতে পারে উচ্চ আয়ের পরিবারগুলি।