—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
সম্পদ, সুখ ও শান্তিকে সব সময়ে একাসনে বসানো যায় না। সম্পদ যেমন সুখের সন্ধান দেয়, তেমনই বহু সময়ে টেনে আনে সমস্যাও। তাই তা সৃষ্টি করার পরে সুরক্ষিত রাখা এবং যথাসময়ে বণ্টনের বন্দোবস্ত করে রাখতে হয় আগে থেকে। উত্তরাধিকারীর সংখ্যা বেশি থাকলেই শুধু সমস্যা হয় না, উত্তরাধিকারী কম বা একদম না থাকলেও তা হতে পারে।
সম্পদ সৃষ্টি, তার রক্ষনাবেক্ষণ ও সময়কালে যথাযথ বণ্টনের প্রক্রিয়া জীবনভর চলে। কর্ম জীবনের প্রথম দিকে আয়ের ব্যবস্থা করতে হয়। বাড়তি আয় থেকে তৈরি হয় সঞ্চয়। সেই টাকা লম্বা মেয়াদে ঠিক জায়গায় নিয়মিত লগ্নি করলে তৈরি হয় বড় তহবিল। তা ভাঙিয়ে কেনা হয় জমি, বাড়ি, গাড়ি ইত্যাদি সম্পত্তি। ঋণ করেও তা তৈরি করা যায়। তবে সম্পত্তি সুরক্ষার ব্যবস্থাও জরুরি। জীবনের শেষ প্রান্তে পৌঁছে ভাবতে হয় সঠিক বণ্টনের কথা। না হলে ভাগ-বাটোয়ারার সমস্যা মাথা তোলে। ঝগড়া, বিবাদ, আইন, আদালত এড়ানো কঠিন হয়।
প্রথমে সুরক্ষায় চোখ রাখা যাক। নতুন সম্পত্তি যুগ্ম নামে কিনলে ভবিষ্যতে ঝামেলা কমে। নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে তার মিউটেশন করাতে হয়। প্রতি বছর দিতে হয় সম্পত্তি কর। নিয়মিত রক্ষনাবেক্ষণও জরুরি। মূল দলিল দেরাজে থাকবে। একটি জেরক্স কপি হাতের কাছে রাখা যেতে পারে।
ব্যাঙ্ক, মিউচুয়াল ফান্ড, ডিম্যাট আকাউন্ট ইত্যাদি যুগ্ম নামে খুললে ভাল। সব অ্যাকাউন্টে অবশ্যই নথিবদ্ধ করতে হবে নমিনির নাম। চাইলে একাধিক নমিনিও রাখা যায়। সব ক’টি অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড ও পিন সুরক্ষিত রাখতে হবে। বদলাতেও হবে মাঝে মাঝে। চেক বই ও ব্যাঙ্ক লকারের চাবি থাকুক সবচেয়ে সুরক্ষিত স্থানে।
বর্তমান আইনে সম্পত্তির মালিক মারা গেলে তা সমান ভাবে বর্তায় স্ত্রী ও সন্তানদের মধ্যে। সম্পত্তিতে অধিকার থাকে মায়েরও। অর্থকরী সংক্রান্ত সব অ্যাকাউন্টের মালিক হন তার যুগ্ম মালিক। এক নামের অ্যাকাউন্টে নমিনি তার দাবিদার। অন্য উত্তরাধিকারী থাকলে তাঁদের দাবিও গ্রাহ্য হয়। একক নামের অ্যাকাউন্টে নমিনি না থাকলে, উত্তরাধিকারীদের সংশ্লিষ্ট এলাকার কোর্ট থেকে সাকসেশন সার্টিফিকেট নিতে হয়। যা সময় ও ব্যয় সাপেক্ষ।
সম্পত্তি দাবিদারদের মধ্যে সমান ভাবে ভাগ করতে না চাইলে বা অন্য কাউকে একাংশ দিতে চাইলে, সেই মর্মে উইল লিখতে হবে ও সম্ভব হলে তা নথিবদ্ধ করে রাখতে হবে। উইল সই করতে হবে দু’জন সাক্ষীর সামনে। সই লাগবে সাক্ষীদেরও।
উত্তরাধিকারী না থাকলে বা তাঁরা সম্পত্তি গ্রহণে রাজি না হলে সেটা সমস্যার। এমন অনেক ক্ষেত্রে উইলের পাশাপাশি ট্রাস্টও তৈরি হয়। সম্পত্তির বড় অংশ ট্রাস্টের কাছে জমা থাকে। ট্রাস্ট সৃষ্টিকারীর ইচ্ছে অনুযায়ী ট্রাস্ট ডিডে বলা থাকে, ট্রাস্টের সম্পত্তি এবং আয় কাদের মধ্যে কী ভাবে ভাগ হবে।
আজকাল অনেকের একটি সন্তান। অনেকের থাকেই না। বহু ক্ষেত্রে সন্তান পেশার খাতিরে বিদেশে বা অন্য রাজ্যে থাকেন। পৈতৃক বাড়িতে ফিরতে চান না। আগ্রহ থাকে না সম্পত্তিতেও। ফলে তা দাবিহীন অবস্থায় পড়ে থাকে। যে কারণে ব্যাঙ্ক, বিমা বা ফান্ড সংস্থায় পড়ে পাহাড় প্রমাণ দাবিহীন আমানত, ডিভিডেন্ড। এই অবস্থা এড়াতে সেগুলির তথ্য লিখে রাখা জরুরি। সে কথা নিকটতম বিশ্বাসযোগ্য আত্মীয়কে বলে রাখতে হবে। সব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, বিমা, ফান্ড, গৃহ সম্পত্তি, ব্যাঙ্কের লকার, বিভিন্ন পাসওয়ার্ড ইত্যাদি তথ্য এক জায়গায় লেখা থাকলে উত্তরাধিকারীরা তা জানবেন। যাঁদের জন্যে এত সব রেখে যাওয়া, তাঁরা তা ভোগ করতে পারবেন।
(মতামত ব্যক্তিগত)
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে