—ফাইল চিত্র।
আবার মাথা চাড়া দিয়ে উঠছে জিনিসপত্রের দাম। খুচরো মূল্যবৃদ্ধি এরই মধ্যে পৌঁছে গিয়েছে গত দু’বছরের নিরিখে সর্বোচ্চ জায়গায়। শতাংশের হিসেবে ৬.০৭%। পাশাপাশি বেড়েছে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হারও। খাদ্যপণ্যের দাম হু হু করে বাড়ায় জুলাই মাসে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার পৌঁছে গিয়েছে ৩.৫৫ শতাংশে। খাদ্যপণ্যের দর বেড়েছে ১১.৮%, যা গত ৩০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ। আলু এবং ডালের দাম বেড়েছে যথাক্রমে ৫৮% এবং ৩৫.৭% হারে। এই হারে দাম বাড়ায় সকলেরই কাহিল অবস্থা। দামের ঊর্ধ্বগতি আঁচ করেই ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের বিদায়ী গভর্নর রঘুরাম রাজন শেষ বার তাঁর ঋণনীতি পর্যালোচনা করার সময়ে সুদ কমানোর পথে হাঁটেননি। মূল্যবৃদ্ধির হার যদি এই জায়গায় থাকে, তবে আগামী দিনেও সুদ কমার সম্ভাবনা অনেকটাই ক্ষীণ।
শেয়ার বাজারেও গত সপ্তাহে এর কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখা গিয়েছে। তা অবশ্য দীর্ঘস্থায়ী হয়নি, কারণ বাজারের ধারণা এই মূল্যবৃদ্ধি নিতান্তই সাময়িক। বর্ষার সুফল ফলতে শুরু করলে দ্রুত নেমে আসবে খাদ্যপণ্যের দাম। এই কথা মাথায় রেখে সেনসেক্স থেকে গিয়েছে ২৮ হাজারের ঘরে। জুলাই মাসের মূল্যবৃদ্ধির পরিসংখ্যান আতঙ্ক ছড়ালেও, অগস্ট মাসে কিন্তু দাম কমার খবর আসছে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে। ডালের পাইকারি দাম এরই মধ্যে ৩০% কমেছে বলে খবর পাওয়া গিয়েছে। ভাল বর্ষার সুবাদে সব্জির দামও বেশ কিছুটা কমেছে দেশের অনেক অঞ্চলে। অর্থাৎ অগস্ট মাসে মূল্যবৃদ্ধির হার কিছুটা কমলেও কমতে পারে। বর্ষার সুফল পুরোমাত্রায় বাজারে পৌঁছবে অক্টোবর নাগাদ। অর্থাৎ আশা করা যায়, উৎসবের মরসুমে দাম কমবে।
পাশাপাশি, এটাও মাথায় রাখতে হবে, আগামী দিনে কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের হাতে টাকার জোগান বাড়তে চলেছে। সপ্তম বেতন কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী তাঁরা হাতে পাবেন বাড়তি বেতন এবং পেনশন। অগস্ট মাসের বেতনের সঙ্গেই বকেয়া বেতন বাবদ ৩৪,৬০০ কোটি টাকা কেন্দ্রীয় সরকারি কর্মীদের দেওয়া হতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। এত বড় তহবিল হাতে এলে তার কিছুটা প্রভাব বাজারে পড়বে বইকি। এই টাকার একটি অংশ বিনিয়োগের বাজারেও আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।
ব্যাঙ্ক ও ডাকঘরে সুদ বেশ খানিকটা কমে আসায় একটু বেশি আয়ের লক্ষ্যে অনেক মানুষ এখন বিকল্পের সন্ধান করছেন। এই পরিস্থিতিতে বেআইনি পথে আমানত সংগ্রহে আবার তৎপর হয়ে উঠতে পারে ভুঁইফোঁড় অর্থ-লগ্নি সংস্থা, অর্থাৎ তথাকথিত চিট ফান্ডগুলি। এ ছাড়া মানুষকে ভুল বুঝিয়ে লগ্নি করানো হয় নানা আইনসম্মত প্রকল্পেও। এর মধ্যে পড়ে বিভিন্ন কোম্পানি জমা প্রকল্প, এমনকী ইউলিপের মতো অনেক বিমা প্রকল্পও। মানুষ যাতে এই ভাবে না-ঠকেন, তার জন্য রাজ্য স্তরে গঠন করা হয়েছে স্টেট লেভেল কো-অর্ডিনেশন কমিটি বা এসএলসিসি। বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা যেমন আরবিআই, সেবি, ন্যাশনাল হাউসিং ব্যাঙ্ক, আইআরডিএ, পিএফআরডিএ, রেজিস্ট্রার অব কোম্পানিজ এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতর এসএলসিসি-র সদস্য। কোনও সংস্থা যাতে বেআইনি পথে টাকা সংগ্রহ করতে না-পারে এবং যদি করে, তা হলে তাদের উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা করাই হল এসএলসিসি-র মূল লক্ষ্য।
এসএলসিসি-র হাত শক্ত করার জন্য গত ৪ অগস্ট রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উদ্যোগে চালু করা হল ‘সচেত’ নামে একটি নতুন ওয়েবসাইট। উদ্বোধন করলেন রঘুরাম রাজন। এই সাইট থেকে জানা যাবে, কোন কোন সংস্থা জমা সংগ্রহের জন্য স্বীকৃত। অন্যায় ভাবে কোনও সংস্থা আমানত সংগ্রহ করলে অভিযোগ জানানো যাবে সচেত সাইটের মাধ্যমে। বিভিন্ন নিয়ন্ত্রক সংস্থা তথ্য আদান-প্রদান করতে পারবে এই সাইটের মাধ্যমে। সচেত-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে নিয়ন্ত্রক সংস্থা (রেগুলেটর) এবং রাজ্য সরকারগুলি যোগদান করেছিল ভিডিও কনফারেন্স-এর মাধ্যমে। লোক ঠকানোর লক্ষ্যে বেআইনি পথে জমা সংগ্রহের প্রয়াস সচেত-এর মাধ্যমে অনেকটাই কমানো সম্ভব হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের ধারণা। ওয়েবসাইটটির পুরো ঠিকানা: www.sachet.rbi.org.in।
কোন ধরনের সংস্থা জনসাধারণের কাছ থেকে আমানত সংগ্রহ করতে পারে, তার একটি তালিকা সঙ্গের সারণিতে দেওয়া হল।