সহজে ব্যবসার পথ তৈরিতে চাপ কেন্দ্রের

রাজ্যে শিল্পমহলের সঙ্গে কাল বৈঠক আমলাদের

এ মাসেই ‘রিপোর্ট কার্ড’ প্রকাশিত হওয়ার কথা। সহজে ব্যবসার পথ তৈরিতে কোন রাজ্য কতটা এগোল, তার ফলাফল। তার আগে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আগামী কাল, শুক্রবার এক কর্মশালায় রাজ্যের বণিকমহলের মুখোমুখি হবেন কেন্দ্র ও রাজ্যের আমলারা।

Advertisement

দেবপ্রিয় সেনগুপ্ত

শেষ আপডেট: ১৬ জুলাই ২০১৫ ০২:২২
Share:

এ মাসেই ‘রিপোর্ট কার্ড’ প্রকাশিত হওয়ার কথা। সহজে ব্যবসার পথ তৈরিতে কোন রাজ্য কতটা এগোল, তার ফলাফল। তার আগে পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে আগামী কাল, শুক্রবার এক কর্মশালায় রাজ্যের বণিকমহলের মুখোমুখি হবেন কেন্দ্র ও রাজ্যের আমলারা। সেখানে আমন্ত্রণ পেয়ে শিল্পমহলের অনেকেই অবশ্য বলছেন, পরিকল্পনার অভাব না-থাকলেও বাস্তবের মাটিতে এখনও সেই সহায়ক পরিবেশ গড়তে অনেকটা পথ পেরোতে হবে পশ্চিমবঙ্গকে।

Advertisement

ব্যবসা করার মাপকাঠিতে বিশ্বব্যাঙ্কের তালিকায় ভারত একেবারে পিছনের সারিতে। তাই দেশে ব্যবসার পথ সহজ করতে উদ্যোগী কেন্দ্রীয় সরকার। সে জন্য শিল্প স্থাপনের নিয়ম সহজ করতে সম্প্রতি কেন্দ্র সব রাজ্যকে ৯৮ পয়েন্টের মাপকাঠি বেঁধে দিয়েছিল। নির্মাণকাজ, বিদ্যুৎ ও জমির সহজলভ্যতা, শ্রম আইন ইত্যাদি বিষয় সে ক্ষেত্রে দেখা হবে। এবং সেই মাপকাঠিতেই বিচার করে সেরা থেকে সবচেয়ে খারাপ হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হবে রাজ্যগুলিকে। বিশ্বব্যাঙ্কের শাখা ইন্টারন্যাশনাল ফিনান্স কর্পোরেশনের মাধ্যমে শীঘ্রই বিস্তারিত বিশ্লেষণের পরে রাজ্যগুলির ফলাফল ঘোষণা করার কথা কেন্দ্রের।

এ দিকে, সম্প্রতি টাউন হলে মুখ্যমন্ত্রীর উপস্থিতিতে শিল্পমহলের সামনে একগুচ্ছ উদ্যোগের ফিরিস্তি দিয়েছিল রাজ্য সরকার। সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, কেন্দ্রের চাপেই রাজ্য ওই সব পরিকল্পনা নিতে বাধ্য হয়। যদিও সেই সভায় মুখ্যমন্ত্রী, বা তাঁর আমলারা, কেউই কেন্দ্রের উদ্যোগের বিষয়টি উল্লেখ করেননি। বরং তাঁদের দাবি ছিল, রাজ্য সরকার নিজে থেকেই সহজে ব্যবসার সুযোগ বাড়াতে উদ্যোগী হয়েছে।

Advertisement

আগামী কালের সভায় শিল্প-কর্তাদের আমন্ত্রণ জানাতে গিয়ে অবশ্য কেন্দ্রের ভূমিকার কথা মেনেছেন রাজ্য শিল্পোন্নয়ন নিগমের এমডি কৃষ্ণ গুপ্ত। রাজ্যে সহজে ব্যবসার পরিবেশ গড়তে বিভিন্ন দফতরের উদ্যোগের কথা আমন্ত্রণপত্রে বলেছেন তিনি। তবে একই সঙ্গে জানিয়েছেন, গত ছ’মাসে কেন্দ্রের শিল্পনীতি ও উন্নয়ন দফতরের উদ্যোগের পরিপ্রেক্ষিতে তা আরও নির্দিষ্ট অভিমুখ নিয়েছে। সেই সূত্রেই কেন্দ্র ও রাজ্য তাদের ভাবনা-চিন্তা রাজ্যের শিল্পমহলের কাছে তুলে ধরতে চায় ওই কর্মাশালায়। তবে এ ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে চেয়ে তাঁকে ফোন করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। শিল্প দফতরের কর্তারাও মুখ খুলতে চাননি। ওই কর্মশালায় পৌরোহিত্য করবেন রাজ্যের মুখ্য সচিব সঞ্জয় মিত্র। দিল্লির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন কেন্দ্রীয় বাণিজ্য মন্ত্রকের অন্যতম যুগ্ম সচিব অতুল চতুর্বেদী।

অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিল্পমহলের অনেকেই বলছেন, এই উদ্যোগ ভাল। কিন্তু সব কিছুর মতো তা যেন খাতায় কলমেই আটকে না-থাকে। য়েমন রাজ্য সরকার যে-সব দাবি করছে, তা কতটা বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেটাই গুরুত্বপূর্ণ। শিল্পমহলের অন্যতম এক প্রতিনিধির বক্তব্য, রাজ্য সরকার নানা নীতি ও পরিকল্পনার কথা বললেও এখনও তৃণমূল স্তরে সেগুলির রূপায়ণ সে ভাবে শুরু হয়নি। কিন্তু লগ্নি টানার দৌড়ে টিকে থাকতে হলে দ্রুত সে সবের বাস্তবায়ন জরুরি। কারণ প্রতিটি রাজ্যই এখন প্রতিযোগিতার বাজারে লগ্নি টানতে উৎসাহী। তাই অন্যরা এগিয়ে যাওয়ার আগে পশ্চিমবঙ্গকেও দৌড় শুরু করতে হবে।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement