শিল্প ধর্মঘটের সমর্থনে প্রচার বাম সংগঠনের। বুধবার ধর্মতলায়। — নিজস্ব চিত্র।
মোদী সরকারের শ্রম, কৃষি, শিল্প, বাণিজ্য-সহ বিভিন্ন নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আজ, বৃহস্পতিবার দেশ জুড়ে ২৪ ঘণ্টার সাধারণ ধর্মঘট ডেকেছে ১০টি ট্রেড ইউনিয়ন। তাতে শামিল হয়েছে ব্যাঙ্ক শিল্পের ইউনিয়নগুলির যৌথ মঞ্চ ইউএফবিইউ-র একটি অংশ। তাদের দাবি, ধর্মঘটের জেরে ব্যাহত হতে পারে ব্যাঙ্কের পরিষেবা। বন্ধ থাকতে পারে বহু এটিএমও। ব্যাঙ্ক শিল্পের তিনটি ইউনিয়ন সরাসরি ধর্মঘটে যোগ দেবে। বাকিরা নৈতিক সমর্থন জানাবে। তবে ধর্মঘটীরা ব্যাঙ্কের দরজা আটকালে কর্মীদের জোর করে ভিতরে যেতে বারণ করা হয়েছে।
ডাকঘর পরিষেবা অবশ্য স্বাভাবিক থাকছে। ডাক কর্মীদের সংগঠনগুলি জানিয়েছে, সর্বত্র দশম বা দ্বাদশের পরীক্ষা চলছে কিংবা শুরু হবে। সেগুলির প্রশ্নপত্র ডাক মারফত বিভিন্ন পরীক্ষা কেন্দ্রে যায়। তাই দেশ জুড়ে লক্ষ-লক্ষ পড়ুয়ার কথা মাথায় রেখেই শেষ মুহূর্তে ধর্মঘট থেকে সরে দাঁড়িয়েছে তারা। ফলে ডাকঘরের সব পরিষেবাই গ্রাহক পাবেন। দেশের সমস্ত ডাকঘর খোলা থাকবে।
এ দিকে, বরাবরের মতো এই ধর্মঘটের আগেও বুধবার সরকারি কর্মীদের ছুটি বাতিলের নির্দেশিকা প্রকাশ করেছে রাজ্য সরকার। জানিয়েছে, আজ সব রাজ্য সরকারি এবং সরকারি অধীনস্থ-পোষিত কার্যালয় খোলা থাকবে। পূর্ণ বা অর্ধদিবসের ছুটি গ্রাহ্য হবে না। আচমকা হাসপাতালে ভর্তি হওয়া, নিকট আত্মীয়ের মৃত্যু, দীর্ঘ অসুস্থতাজনিত অনুপস্থিতি, চাইল্ড কেয়ার লিভ, আর্নড লিভ বা চিকিৎসা সংক্রান্ত ছুটিতে থাকলে, তা এই নির্দেশিকার মধ্যে পড়বে না। তার বাইরে ছুটি নিলেই কারণ তলব বা শো-কজ় করা হবে। জবাব সন্তোষজনক না হলে ছুটি গ্রাহ্য হবে না। দেওয়া হবে না ওই দিনের বেতন। এমনকি, ‘ডায়েস নন’ বা কর্মজীবন থেকে ওই দিন বাদ দেওয়া হবে। প্রয়োজনে শৃঙ্খলাজনিত পদক্ষেপও হতে পারে, হুঁশিয়ারি নবান্নের।
ধর্মঘটীদের দাবি, কেন্দ্রের আনা চার শ্রম বিধি, আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির শর্ত, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থার বেসরকারিকরণ— সব কিছুই কর্মী, শ্রমিক, কৃষক, শিল্প, এমনকি দেশ বিরোধী পদক্ষেপ। ধর্মঘট করে এমনই বেশ কিছু নীতির বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানো হচ্ছে। ব্যাঙ্ক কর্মীদের সংগঠন এআইবিইএ, বেফি এবং এআইবিওএ ধর্মঘটে শামিল হচ্ছে। নৈতিক সমর্থন দিচ্ছে আইবক এবং এআইএনবিওএফ। এআইবিইএর সর্বভারতীয় সভাপতি রাজেন নাগর বলেন, ‘‘১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের পাশাপাশি, বিমা-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রের সংগঠন সেক্টোরাল ট্রেড ইউনিয়ন ফেডারেশন্সও আজ ধর্মঘট ডেকেছে। আমরা তাদের মধ্যেই রয়েছি। এটিএম বন্ধ থাকবে।’’
বেফির সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক দেবাশিস বসু চৌধুরী জানান, ধর্মঘটের প্রস্তুতি হিসাবে বেশ কিছু দিন ধরে নানা রকম কর্মসূচি পালন করছেন তাঁরা। আইবকের রাজ্যসম্পাদক শুভজ্যোতি চট্টোপাধ্যায় এবং এআইএনবিওএফের সাধারণ সম্পাদক সঞ্জয় দাসের বার্তা, ‘‘কেন্দ্রের বহু পদক্ষেপ আপত্তিকর। সমর্থন করছি এই ধর্মঘটকে।’’
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে