দেবোপম (২৪)
জুনিয়র ডাক্তার | থাকেন মায়ের সঙ্গে | লক্ষ্য: বাড়ি সারানো, বিয়ে, গাড়ি, অবসরের সঞ্চয়
নিট আয়: দেবোপম ৪৫,০০০ | মা ৫,০০০ | বাড়ি ভাড়া ৫,০০০ খরচ: সংসার ১৫,০০০ | স্বাস্থ্যবিমা ২,১৬৭ সঞ্চয়: জীবনবিমা ২২,০৭৪ | রেকারিং ২০,০০০ | এসআইপি ২০,০০০ সম্পদ: সেভিংস ২,০০,০০০ | রেকারিং ৩,৪০,০০০ | এমআইএস ৮,৫০,০০০ | স্থায়ী আমানত (ব্যাঙ্ক ও ডাকঘর) ১০,২০,০০০ | এনএসসি এবং কেভিপি ১২,০০,০০০
শৈবাল বিশ্বাস
ডাক্তারি পাশ করার পরে সবেমাত্র নিজের কর্মজীবন শুরু করেছেন দেবোপম। বাড়িতে রয়েছেন মা। মূলত তাঁর আয়েই সংসার চলে। তার বাইরে যা লাগে, তা দেবোপম দেন।
তাঁর পরিবারে আয়ের সঙ্গে খরচ বা লগ্নির সামঞ্জস্য নেই। কারণ, সঞ্চয়ের বেশিরভাগটাই বাবার করে যাওয়া। ওই সব স্থায়ী আমানত অথবা এমআইএস-এর মেয়াদ শেষ হলে দেবোপম সেই টাকা লগ্নি করেন নিজের বেছে নেওয়া প্রকল্পে। বিচারবুদ্ধি মতো ইতিমধ্যেই বেশ কিছু খাতে লগ্নি তিনি শুরু করেছেন। তবে এ ভাবে লগ্নির ফলে তাঁর প্রোফাইলে কিছু সমস্যা তৈরি হয়েছে।
সমস্যার খতিয়ান
কমছে তহবিল: বাবার সঞ্চয় থেকে নিজের লগ্নির টাকা জোগাড় করছেন দেবোপম। এতে তাঁর নিয়মিত টাকার জোগান বজায় থাকছে ঠিকই, কিন্তু বাড়তি সঞ্চয় হচ্ছে না। বরং পরিবারের তহবিল থেকেই টাকা কমছে।
পুরোটাই কম ঝুঁকির: বাবা পুরো লগ্নিই করেছিলেন কম ঝুঁকির ঋণপত্র নির্ভর প্রকল্পে। তাতে ৩১.২ লক্ষ টাকার তহবিল তৈরি হয়েছে। কিন্তু মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সঞ্চয় বাড়ানোর যে-সুযোগ ছিল, তা কাজে লাগানো যায়নি। এমনিতেই এখন সেখান থেকে টাকা খরচ হওয়ায় নতুন করে সমস্যা দেখা দিচ্ছে।
সুদ কমছে রেকারিংয়ে: মাসে ২০,০০০ টাকা রেকারিংয়ে রাখছেন দেবোপম। লক্ষ করলে দেখবেন, গত কয়েক মাসে ব্যাঙ্কে সুদ উল্লেখযোগ্য হারে কমেছে। আগামী দিনে তা আরও কমার সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি, রেকারিংয়ে সুদ করযোগ্য।
জীবনবিমার সমস্যা: পরিবারের মূল রোজগেরে হলেও, দেবোপমের জীবনবিমার অঙ্ক ১৭ লক্ষ। অথচ তাঁর মায়ের ৩০ লক্ষ টাকা। অর্থাৎ তাঁর কিছু হলে সমস্যায় পড়বেন মা।
অতিরিক্ত মিউচুয়াল ফান্ড: দেবোপম এক সঙ্গে ১১টি ফান্ডে এসআইপি পদ্ধতিতে টাকা রাখছেন। অবসরের তহবিল তৈরির যা অন্যতম হাতিয়ার। কিন্তু এতগুলি ফান্ড বাছায় তাঁর একই ধরনের প্রকল্পে টাকা খাটানো হচ্ছে। সেই ধরনের প্রকল্প খারাপ করলে কিন্তু মুশকিলে পড়তে পারেন তিনি।
সমাধান
১) বাবার তহবিল এখনই ভাঙানোর প্রয়োজন নেই। বরং সেখান থেকেই ৪ বছর পরে বিয়ের টাকা জোগাড় করতে পারেন। বাড়ি সারানোর টাকাও আসবে এখান থেকেই। বিয়ের পরে সেই তহবিল ভাঙিয়ে কোথায় লগ্নি করবেন, তা ঠিক করতে হবে। গাড়ির কথা আপাতত ভাবার দরকার নেই।
২) দেবোপম ঝুঁকি নিতে পিছপা নন। তবে প্রথমে শেয়ারে খুব বেশি টাকা না-রাখাই ভাল। বরং মাসে অল্প অল্প করে শেয়ার কিনতে পারেন। তার আগে ভাল করে সংস্থা বাছতে হবে।
৩) রেকারিংয়ের বদলে কম মেয়াদে তহবিল তৈরির জন্য বাছতে পারেন লিকুইড ফান্ড। এতে ঝুঁকি তুলনায় কম এবং রিটার্ন রেকারিংয়ের চেয়ে বেশি। দীর্ঘ মেয়াদের জন্য বাছুন ডাইভার্সিফায়েড ইকুইটি ফান্ড।
৪) নিজের নামে কমপক্ষে ৫০ লক্ষের টার্ম পলিসি কিনুন। নিজের এনডাওমেন্ট পলিসিগুলি ৩ বছর হলে পেড-আপ করে রাখুন। সেখান থেকেই টার্ম পলিসির প্রিমিয়ামের টাকা পাবেন।
৫) মিউচুয়াল ফান্ডের সংখ্যা কমান। তার বদলে লার্জ ক্যাপ, মিড ক্যাপ, স্মল ক্যাপ, ডিভিডেন্ড ইল্ডের মতো বিভিন্ন ধরনের ফান্ড বাছুন। যা লগ্নিকে সত্যিই ছড়াতে সাহায্য করবে। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নিন। দেবোপমের বয়স কম। নিজের প্র্যাকটিস বাড়লে আয়ও বাড়বে। ফলে তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। বরং বুদ্ধি করে লগ্নি ছড়ালে সুবিধা তাঁরই।
লেখক বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ
(মতামত ব্যক্তিগত)
অনুরোধ নেমে নাম পরিবর্তিত