—প্রতীকী চিত্র।
দার্জিলিং চা এবং বালুচরী শাড়ির মতো পণ্য ঝুলিতে রয়েছে। তবে বিশ্ব বাজারে খারাপ বিপণন, সীমিত ‘ব্র্যান্ডিং’, জিআই পণ্যের প্রচারে খামতি ও ডিজিটাল ব্যবস্থাকে পুরোপুরি কাজে লাগাতে না পারায় পশ্চিমবঙ্গ রফতানিতে তেমন নজর কাড়তে পারছে না, জানাল নীতি আয়োগ।
রফতানিতে কোন রাজ্য কেমন করছে বা প্রস্তুতি কেমন, তার ভিত্তিতে ২০২৪-এর ‘রফতানি প্রস্তুতি সূচক’ প্রকাশ করেছে আয়োগ। ২০২২-২৪সালের ভিত্তিতে তৈরি সূচকে বাংলা দেশে দ্বাদশ। বড় রাজ্যগুলির মধ্যে শেষ সারিতে। মহারাষ্ট্র, তামিলনাড়ু, গুজরাত, উত্তরপ্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্নাটক, পঞ্জাব, তেলঙ্গানা, মধ্যপ্রদেশ, হরিয়ানা, কেরলের পরে। ২০২২-এর সূচকে ছিল চতুর্দশ।
নীতি আয়োগের বক্তব্য, রাজ্য শিল্পজাত পণ্য রফতানিতে পিছিয়ে পড়ছে। পোশাক, চামড়া, ইঞ্জিনিয়ারিং ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের কাজ শ্লথ বলে উৎপাদনশীলতা বাড়ছে না। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনেও পিছনে। গবেষণা-উন্নয়নে কম লগ্নি বিশ্বের জোগানশৃঙ্খলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পথে বাধা। রাজ্য জিডিপি-তে কারখানায় উৎপাদনের ভাগ ১৩.৬%। ফলে এখান থেকে বিক্রির জন্য তৈরি পণ্য রফতানি ১.১ লক্ষ কোটি টাকা থেকে নেমেছে ৯০,০০০ কোটিতে।
বাংলা থেকে ২০২৩-২৪ অর্থবর্ষে ৯৭,৬৪৫ কোটি টাকার পণ্য রফতানি হয়েছিল। সূচকের শীর্ষে থাকা মহারাষ্ট্র থেকে গিয়েছিল ৫.৬৩ লক্ষ কোটির। রাজ্য প্রশাসন সূত্রের দাবি, ২০২৩-এ রফতানি উন্নয়ন, পণ্য চলাচল এবং শিল্প ও আর্থিক করিডর নীতি তৈরি করেছে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। আয়োগের রিপোর্টেও তা রয়েছে। তাদের আশা, মূলত দার্জিলিংয়ে কৃষিজাত পণ্য রফতানিতে তৈরি ‘ইন্টিগ্রেটেড এক্সপোর্ট পার্ক’ রাজ্যকে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে দেবে।
রাজ্য থেকে এখন সর্বাধিক রফতানি হচ্ছে সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে (১২%)। তার পরে বাংলাদেশ, আমেরিকা, নেপাল ও চিন। নীতি আয়োগের মতে, ২০২২-এ ভারতের সঙ্গে আরব দেশটির বাণিজ্য চুক্তি হয়েছে। শুল্ক ছাড়াই বস্ত্র, রত্ন-অলঙ্কার, কৃষিপণ্য সে দেশে যাচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গ তার ফায়দা পেতে পারে। রাজ্যের ছোট-মাঝারি শিল্পের সুযোগ রয়েছে। এখানকার পরিকাঠামো, উৎপাদনে আমিরশাহির লগ্নিও বাড়তে পারে। তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দর তৈরি হলে তারও সুবিধা পাবে রাজ্য।
উল্লেখ্য, রাজ্য থেকে সবচেয়ে বেশি রফতানি হয় গয়না, লোহা-ইস্পাত, পাট ও বস্ত্র, চর্মপণ্য। তা বাড়ছে বিকল্প শক্তির যন্ত্রাংশ, চিকিৎসার যন্ত্রপাতি, খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ, ওষুধ শিল্পেও। ভারত থেকে চামড়ার রফতানির ৫৫ শতাংশই বাংলা থেকে হচ্ছে। কারণ ২৬% ট্যানারি এখানে। কিন্তু নীতি আয়োগের মতে, পোশাক ও চামড়ার রফতানিতে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কার মতো দেশ পশ্চিমবঙ্গকে প্রতিযোগিতায় ফেলছে। ওই সব দেশে বিদেশি লগ্নি ও ক্রেতারা বেশি ভিড় করছে। রাজ্য থেকে দক্ষ কর্মী বেরিয়ে যাওয়াও সমস্যার। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী পণ্য তৈরি করাও চ্যালেঞ্জ। এই অবস্থায় আয়োগের সুপারিশ, পশ্চিমবঙ্গ গুদাম, হিমঘরের মতো পরিকাঠামো তৈরিতে জোর দিক। বাণিজ্য বাড়াতে আরও বেশি কাজে লাগাক ইস্টার্ন ফ্রেট করিডরকে।
কোথায় দাঁড়িয়ে
রাজ্য থেকে বেশি রফতানি হয় গয়না, লোহাযুক্ত ধাতু, পেট্রোপণ্য, চুল, চামড়ার ব্যাগ, চাল, চিংড়ি ইত্যাদি।
কারখানার উৎপাদন কম হওয়ায় বাংলার রফতানিতে কাঠামোগত সমস্যা রয়েছে।
পোশাক, চর্ম রফতানিতে এগিয়ে থাকলেও চ্যালেঞ্জ ছুড়ছে বাংলাদেশ, ভিয়েতনাম, শ্রীলঙ্কা।
সংযুক্ত আরব আমিরশাহিতে যায় সবথেকে বেশি। তাই তাদের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ফায়দা মিলতে পারে।
তাজপুরে গভীর সমুদ্র বন্দরের মতো পরিকাঠামো তৈরি হলে পশ্চিমবঙ্গ থেকে রফতানি বাড়বে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে