—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধের প্রভাব দেশে মূল্যবৃদ্ধির হারকে ঠেলে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছিল। পাইকারি বাজারে এপ্রিলের দাম নিয়ে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সরকারি পরিসংখ্যানে দেখা গেল, আশঙ্কা সত্যি হয়েছে। মাত্র এক মাসের মধ্যে পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির হার দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে। মার্চ তা ছিল ৩.৮৮%। এপ্রিলে হয়েছে ৮.৩০%। যা গত ৪২ মাসের মধ্যে সব থেকে বেশি। বিশেষজ্ঞদের ধারণা, আগামী দিনে পরিস্থিতি আরও ঘোরালো হতে পারে। প্রভাব আছড়ে পড়তে পারে খুচরো বাজারে। যা সামাল দিতে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ককে বাড়াতেহতে পারে সুদ।
বাণিজ্য মন্ত্রকের দাবি, পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি আচমকা এতখানি চড়েছে মূলত বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দামের কারণে। যা এখন ব্যারেল পিছু ১০৫-১০৭ ডলারে ঘুরছে। মদত জুগিয়েছে প্রাকৃতিক গ্যাস-সহ অন্য জ্বালানি, শিল্পের কাঁচামাল এবং বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধিও। পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ এবং তার জেরে হরমুজ় প্রণালী দিয়ে জাহাজ চলাচল বন্ধ হওয়ায় জোগান ধাক্কা খাওয়া এর কারণ। ফলে বিল চড়ছে আমদানির। মাথা তুলছে দেশে উৎপাদনের খরচও। তাতেই বাড়ছে দাম।
আইসিএআইয়ের পূর্বাঞ্চলের প্রাক্তন চেয়ারম্যান অনির্বাণ দত্ত বলেন, “পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ধাক্কা যে ভারতের অর্থনীতিতে পড়তে শুরু করেছে, তা প্রমাণ হল। তেল, জ্বালানি এবং বিদ্যুতের বর্ধিত দাম পাইকারি মূল্যবৃদ্ধিকে ঠেলে তুলেছে। আগামী দিনে তা আরও বাড়বে এবং তার প্রভাব পড়বে খুচরো বাজারে। সাধারণ মানুষ ফের বিপাকে পড়তে পারেন।’’ মূল্যবৃদ্ধির সমস্যা মোকাবিলায় আগামী দিনে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ককে সুদের হার বাড়াতে হতে পারে বলেও মনে করছেন একাংশ। হায়দরাবাদ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতির অধ্যাপক রাজেন্দ্র পরামানিক বলেন, “যুদ্ধের প্রভাব অর্থনীতিতে কতটা তীব্র হবে জানি না। তেল, গ্যাসের দাম বৃদ্ধির পাশাপাশি সার্বিক ভাবে আমদানি ব্যাহত হওয়ায় শিল্পের কাঁচামালের জোগানেও টান পড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে যা অবস্থা, তাতে দেশের অর্থনীতিকে মূল্যবৃদ্ধির ছ্যাঁকা সহ্য করতে হতে পারে বেশ কিছু দিন। সমস্যা আরও তীব্র হলে তার প্রভাব খাদ্য-সহ অত্যাবশ্যকপণ্যের দামে পড়বে। ফলে খুচরো মূল্যবৃদ্ধির হারও বাড়তে পারে এবং তাতে রাশ টানতে আরবিআইকে সুদের হারও বাড়াতেহতে পারে।”
ক্রেতাদের অনেকের অভিযোগ, খুচরো দাম কিছুটা বেড়েছে। দুধ, চা, বিস্কুট-সহ দৈনন্দিন ব্যবহারের জিনিসের পাশাপাশি তালিকায় রয়েছে খাদ্যপণ্যও। তবে ওয়েস্ট বেঙ্গল ফোরাম অব ট্রেডার্স অর্গানাইজ়েশন্সের সাধারণ সম্পাদক রবীন্দ্রনাথ কোলের দাবি,খুচরো বাজারে দাম এখনও বাড়েনি। কারণ, পাইকারি মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সেখানে পড়তে সময় লাগে। তবে এর সুযোগ নিয়ে অসৎ ব্যবসায়ীরা যাতে জিনিসের দাম কৃত্রিম ভাবে না বাড়ায় সে দিকে কঠোর নজর রাখতে হবে সরকারকে।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে