ইউটিলিটি ভেহিক্ল (ইউভি) বা কেজো গাড়ির বাজারে এক সময়ে একচেটিয়া আধিপত্য ছিল ভারতের মহীন্দ্রা অ্যান্ড মহীন্দ্রার। কিন্তু প্রতিযোগিতার বাজারে তারা পিছিয়ে পড়তে শুরু করে বহুজাতিকদের কাছে। মূলত তরুণ প্রজন্মের পছন্দসই নতুন ধরনের ছোট স্পোর্টস ইউটিলিটি ভেহিক্ল (এসইউভি) তৈরি করে মহীন্দ্রা গোষ্ঠীকে পিছনে ফেলে দেয় ফোর্ড-এর ইকোস্পোর্ট, রেনো-র ডাস্টার বা হুন্ডাই-এর ক্রেটা। এ বার হারানো জমি ফিরে পেতে সেই দৌড় শুরু করল মহীন্দ্রাও। যেখানে তাদের নতুন বাজি ‘টিইউভি-৩০০’। বৃহস্পতিবার চাকনে সংস্থার কারখানায় গাড়িটির উপর থেকে পর্দা সরাল তারা।
’৮০-র দশকে মারুতি-সুজুকির হাত ধরে ছোট (হ্যাচব্যাক) গাড়ির বাজার বলেই পরিচিত হয়ে উঠেছিল ভারত। বহুজাতিকরাও পরে সেই পথেই হাঁটে। কিন্তু গত কয়েক বছরে বদলেছে ছবিটা। ছোটর বদলে রোমাঞ্চপ্রিয় তরুণ প্রজন্ম ঝুঁকতে থাকে বড় গাড়ির দিকে। চাহিদা বাড়তে থাকে ইউভি-র। মহীন্দ্রার হাত ধরে আগে মূলত যে-গাড়ির বাজার ছিল গ্রামীণ এলাকা, আধুনিক যুব সম্প্রদায়ের পছন্দসই হয়ে ওঠায় তা শহুরে বাজারেও ছড়ায়। গত তিন বছরে ইউভি-র বিক্রি বেড়েছে প্রায় ৫১%। মোট যাত্রী গাড়ির মধ্যে এর অংশীদারি ১৫ থেকে বেড়ে হয়েছে ২৩%। এর মধ্যে আবার চাহিদা বেশি এসইউভি-র। তবে তার মধ্যেও বাজারে এগিয়ে যাচ্ছে চার মিটারের কম দৈর্ঘ্যের ছোট এসইউভি। উৎপাদন শুল্ক কম পড়ে বলে এর দাম কম। ছোট এসইউভি-র মধ্যে ২০১২-’১৩ সালে এই কমপ্যাক্ট এসইউভি-র অংশীদারি ২৫% থেকে বেড়ে হয়েছে ৪১%। সেই দৌড়ে ফোর্ড, রেনো বা হুন্ডাই সামিল হলেও পিছিয়ে ছিল মহীন্দ্রা।
এ দিন টিইউভি-৩০০-র আবরণ সরান মহীন্দ্রা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান আনন্দ মহীন্দ্রা, সংস্থার এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর পবন গোয়েনকা, প্রেসিডেন্ট তথা চিফ এগজিকিউটিভ প্রবীণ শাহ প্রমুখ। উল্লেখ্য, এ বছরেই এ ধরনের গাড়ির তালিকায় নতুন সংযোজন হিসেবে বাজারে আসার কথা মারুতির ‘ভিতারা ব্রেজা’, হোন্ডা-র ‘বিআর-ভি’, টাটা মোটরসের ‘হেক্সা’-রও।
চাকনের কারখানায় টিইউভি-৩০০ তৈরি করতে মহীন্দ্রা প্রায় ১২০০ কোটি টাকা লগ্নি করেছে। সহযোগী যন্ত্রাংশ শিল্পগুলি ঢেলেছে আরও ৩৩০০ কোটি। কারখানায় মাসে ৫০০০টি টিইউভি-৩০০ তৈরি তাদের লক্ষ্য। সে ক্ষেত্রে ইউভি-র বাজারের ৮-১০% এই গাড়িটি দখল করবে বলে দাবি সংস্থার। আনন্দের কথায়, ‘‘উবের-ওলার যুগে পরিবহণে গাড়ির ব্যবহার উত্তরোত্তর বাড়ছে। কিন্তু নিজের গাড়ি কেনার তৃপ্তি আলাদা। তা মেটাবে এটি।’’ তাঁরা জানান, শক্তপোক্ত এই গাড়ির নকশা তৈরি হয়েছে যুদ্ধের কামানের কথা মাথায় রেখে, একইসঙ্গে শহর ও আধা শহরের ক্রেতার চাহিদার কথা ভেবেই।
দাম ও বেশ কিছু বৈশিষ্ট্যের কারণে টিইউভি৩০০ ইকোস্পোর্ট, ডাস্টার ও ক্রেটার চেয়ে এগিয়ে থাকবে, দাবি পবন গোয়েন্কা ও প্রবীণ শাহের। মিলবে ‘অটোমেটিক ট্রান্সমমিশন’-এর সুবিধা। অন্য সংস্থার কমপ্যাক্ট-এসইউভিতে এই সুবিধা এখনও নেই। তবে টিইউভি-৩০০ এখন ডিজেল ইঞ্জিনেই মিলবে। আপাতত সংস্থার সব গাড়িই ডিজেলচালিত। পবন জানান, এ বছরেই আরও একটি নতুন গাড়ি ‘এস১০১’ –এ ডিজেলের সঙ্গে পেট্রোল ইঞ্জিন মিলবে।