বিশেষজ্ঞদের ধারণাকেই সত্যি প্রমাণ করে লোকসভা ভোটের মরসুমে টানা বেড়ে চলেছে শেয়ার বাজার। এবং এই মুহূর্তে সেনসেক্স এসে দাঁড়িয়েছে ২৩ হাজারের ঘরের মুখে। সোম ও মঙ্গল, এই দু’দিনই নতুন শিখর ছুঁয়েছিল সূচক। যার ব্যাতিক্রম ঘটল না বুধবারও। প্রায় ১১৮ পয়েন্ট ওঠার দৌলতে এ দিন ফের উচ্চতার নয়া নজির গড়ল সেনসেক্স। বাজার বন্ধের সময় থিতু হল ২২,৮৭৬.৫৪ অঙ্কে।
সূচকের এই উত্থানের কারণ ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বাজার বিশেষজ্ঞদের বেশির ভাগই কেন্দ্রে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির সরকার গড়ার সম্ভাবনার কথা বলছেন। শেয়ার বাজার মহল মনে করছে, ভোট যত এগোচ্ছে, ততই কেন্দ্রে মোদীর নেতৃত্বে স্থায়ী সরকার তৈরির সম্ভাবনা উজ্জ্বল হচ্ছে। বাজার বিশেষজ্ঞ এবং ক্যালকাটা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রাক্তন ডিরেক্টর এস কে কৌশিক বলেন, “আমরা যেটা চাই তা হল, কেন্দ্রে একটা স্থায়ী সরকার আসুক। আর এই মুহূর্তে নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে বিজেপির পক্ষেই সেটা করা সম্ভব বলে আমাদের ধারণা। তাই সেই সম্ভাবনা যত পরিষ্কার হচ্ছে, তত দ্রুত উপরে উঠছে সূচকের পারদ।”
প্রকৃতপক্ষে, দিল্লির মসনদে এ বার মোদীর নেতৃত্বে বিজেপি আসছে বলে বেশ কিছু দিন ধরেই দৃঢ় বিশ্বাস ফুটে উঠেছে বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলির বিনিয়োগে। যে কারণে ভারতের বাজারে ওই সমস্ত সংস্থা টানা টাকা ঢেলে চলেছে। অবশ্য বিএনকে ক্যাপিটাল মার্কেটসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অজিত খান্ডেলওয়াল বলেন, “এটা ঠিক যে মোদীর উপরেই বাজি ধরেছে বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি। কিন্তু পাশাপাশি, আন্তর্জাতিক দুনিয়ার বর্তমান আর্থিক পরিস্থিতি বিচার করে দেখলে এটা বোঝা যাবে যে, ওই সংস্থাগুলির পক্ষে এখন ভারত ছাড়া লগ্নির অন্য স্থান খুঁজে বার করাও মুশকিল। বিশ্বে যে সব দেশ আর্থিক দিক দিয়ে দ্রুত উন্নতি করছে, তাদের মধ্যে ইউক্রেনের সমস্যার জন্য রাশিয়ার অবস্থা লগ্নির অনুকূল নয়। চিন এবং ব্রাজিলেও আর্থিক ক্ষেত্রে নানা রকম সমস্যা দেখা দিয়েছে। তাই বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থাগুলি এই মুহূর্তে ভারতকেই বিনিয়োগের সব থেকে উপযুক্ত বলে মনে করছে।”
এই কারণেই খান্ডেলওয়াল মনে করেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার আগেই সেনসেক্স আরও এক হাজার থেকে দেড় হাজার পয়েন্ট বাড়তে পারে। এবং সত্যিই মোদী সরকার গঠিত হলে তা পৌঁছে যেতে পারে ২৫ হাজারে। তবে এই সব কিছুর সঙ্গেই বিপদের সংকেত শুনিয়েছেন এস কে কৌশিক। তিনি বলেন, মোদী এলে শেয়ার বাজারের পারদ চড় চড় করে উপরে উঠবে, এটা ঠিক। কিন্তু যদি তা না ঘটে, তখন? তাঁর কথায়, “সে ক্ষেত্রে সেনসেক্স ১৪ হাজারে নেমে গেলেও আমি অবাক হব না।”
এই রকম পরিস্থিতিতে লাখ টাকার প্রশ্ন হল, সাধারণ লগ্নিকারীদের কী করা উচিত? ওই সব লগ্নিকারীর প্রতি খান্ডেলওয়ালের পরামর্শ, “দীর্ঘকালীন ভিত্তিতে ভাল শেয়ারে বিনিয়োগ করতে পারেন। আমার মতে, সাধারণ লগ্নিকারীরা পরিকাঠামো শিল্পের শেয়ারে লগ্নির কথা ভেবে দেখতে পারেন।” একই সঙ্গে তিনি অবশ্য শেয়ার বাছার বিষয়ে লগ্নিকারীদের সতর্ক করে দিয়েছেন। খান্ডেলওয়াল বলেন, “হালে দেখছি বেশ কিছু ছোট শেয়ার মূলধনের (স্মল ক্যাপ) সংস্থার দর বাড়ছে বাজারে। ওই সব শেয়ারের দিকে ক্ষুদ্র লগ্নিকারীদের না-তাকানোই ভাল। কারণ, ওই ধরনের শেয়ারে ফাটকার সম্ভাবনা বেশি থাকে। তাই তাতে লগ্নি করলে হাত পোড়ার আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না” প্রসঙ্গত, বুধবার লার্সেন অ্যান্ড টুব্রোর মতো পরিকাঠামো সংস্থার শেয়ারের পাশাপাশি বাড়তে দেখা গিয়েছে ইয়েস ব্যাঙ্ক-সহ বেশ কিছু ব্যাঙ্কিং শেয়ার দরকেও।