ই-কমার্স দুনিয়ার লক্ষ্য এ বার মুনাফা

নেটে বিক্রিতে বিপুল ছাড় বন্ধের ইঙ্গিত

ছাড় দেওয়ার প্রতিযোগিতায় এ বার রাশ টানতে চাইছে ই-কমার্স দুনিয়া। ছাড় দিয়ে ক্রেতা টানার রীতি নতুন নয়। শপিং মল থেকে ছোট দোকান— ছাড়ের পালে ভর দিয়ে ব্যবসা দ্বিগুণ করে নেওয়ার কৌশল কাজে লাগায় সকলেই।

Advertisement

গার্গী গুহঠাকুরতা

শেষ আপডেট: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০১৫ ০১:৪৮
Share:

ছাড় দেওয়ার প্রতিযোগিতায় এ বার রাশ টানতে চাইছে ই-কমার্স দুনিয়া।

Advertisement

ছাড় দিয়ে ক্রেতা টানার রীতি নতুন নয়। শপিং মল থেকে ছোট দোকান— ছাড়ের পালে ভর দিয়ে ব্যবসা দ্বিগুণ করে নেওয়ার কৌশল কাজে লাগায় সকলেই। উৎসবের মরসুমে এই প্রবণতা আরও বাড়ে। গত দু’তিন বছর ধরে সাধারণ দোকানের এই বিপণন কৌশল আপন করে নিয়েছে অনলাইন কেনাকাটার জগৎও। আর অনলাইন দুনিয়ার সেই লাগামছাড়া ছাড়ে বিপদ-ঘণ্টি শুনেছে ‘অফলাইন’ বা চোখে দেখে কেনাকাটা সারার দোকানপাট।

তবে ক্রেতা টানতে ছাড়ের অঙ্ক লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়াতে গিয়ে লাভের মুখ দেখা কঠিন হয়ে পড়ছে অনলাইন ব্যবসারও। ১৮০০ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকা) ব্যবসা করা সংস্থা ই-বে কর্তৃপক্ষের দাবি, মাত্রাতিরিক্ত ছাড় দিয়ে ক্রেতা টানার কৌশল কাজে লাগাতে নারাজ তারা। ভারতে সংস্থার অন্যতম কর্তা নবীন মিস্ত্রি জানান, ছাড় দিয়ে ক্রেতা টানা যায় ঠিকই। কিন্তু অতিরিক্ত ছাড় দিলে কোনও সংস্থা ব্র্যান্ড পরিচিতি তৈরি করতে পারে না। তিনি বলেন, ‘‘ ই-বে সংস্থার মঞ্চে যাঁরা বিক্রেতা, তাঁরাই নিজেদের জিনিসের দাম ঠিক করেন। আমরা ছাড়ের বদলে সেই বিক্রেতার ব্র্যান্ড পরিচিতি বাড়ানোর জন্য বিজ্ঞাপনে জোর দিয়ে থাকি।’’

Advertisement

রিটেলার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (আরএআই) দাবি, অধিকাংশ অনলাইন সংস্থা লোকসানে চলছে। তারা যে-পরিমাণ ছাড় দিচ্ছে, ব্যবসার পরিমাণের সঙ্গে তার কোনও সঙ্গতি নেই। আরএআই-এর প্রধান কুমার রাজাগোপালন জানান, বিদেশি পুঁজির দৌলতে দেশি অনলাইন বাজারে ছাড়ের রমরমা চলছে। তিনি বলেন, ‘‘ফ্লিপকার্ট বা স্ন্যাপডিলের মতো দেশি সংস্থার দেদার ছাড় দিতে অসুবিধা হয় না। কারণ বিদেশি উদ্যোগ পুঁজি হাতে আসার জন্য তাদের ব্যবসা করতে টাকার অভাব নেই।’’ সে সুবিধা সাধারণ বিপণির নেই। কারণ ‘রিটেল’ বা খুচরো ব্যবসায় বিদেশি বিনিয়োগ পাওয়ার সুযোগ নেই, তা অনলাইন দুনিয়াতেই সহজলভ্য।

অন্য দিকে, অ্যামাজনের মতো বিদেশি সংস্থা প্রাথমিক পরিকল্পনায় লাভ-ক্ষতির হিসেব কষছে না। ভারতের বাজার ধরাটাই মূল লক্ষ্য তাদের। ফলে ছাড় দিয়ে ক্রেতা টানতে বা বাজার বাড়াতে ঘরের পুঁজি ঢালতে পিছপা নয় তারা। ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়ে লোকসানের অঙ্ক মেনে নেওয়ার ছক কষেই এগোচ্ছে তারা।

তবে এই চেনা ছবিটা বদলাতে শুরু করছে বলে দাবি বিশেষজ্ঞদের। কারণ ছাড় দেওয়ার প্রতিযোগিতায় মার খাচ্ছে ছোট-মাঝারি অনলাইন সংস্থা। জাবং-এর মতো পরিচিত ব্র্যান্ডও বছর বছর লোকসান করে এখন বিক্রি হয়ে যাওয়ার মুখে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের খবর, এ বার লাভের মুখ দেখার চাপে ফ্লিপকার্ট, স্ন্যাপডিলের মতো সংস্থাও অ্যাপল, সোনি, স্যামসাং ও পুমার মতো ব্র্যান্ডকে জানিয়েছে, এই উৎসবের মরসুমে দাম কমানোর কৌশল নেবে না তারা। ফ্লিপকার্টের প্রধান অঙ্কিত নাগোরি অবশ্য ছাড় নিয়ে মুখ খোলেননি। তাঁর দাবি, উৎসবের সময়ে বর্ধিত বিক্রির কথা মাথায় রেখে সংস্থার প্রযুক্তিগত পরিকাঠামো জোরদার করার দিকেই জোর দিচ্ছে তাঁর সংস্থা।

সংশ্লিষ্ট মহলের মতে, ছাড়ের প্রতিযোগিতায় নেমে বিপুল পরিমাণে টাকা খরচ করার বদলে বিজ্ঞাপন বাবদ মুক্তহস্তে খরচ করতে বরং এ বার রাজি অনলাইন বাজার। পুমা ইন্ডিয়ার প্রধান অভিষেক গঙ্গোপাধ্যায় জানান, বিপণনে শোরগোল তুলতে অনলাইন বাজার এখনও আগ্রহী। তবে ছাড়ের অঙ্ক কম রেখে বিজ্ঞাপনে খরচ করার দিকেই ঝুঁকবে তারা। প্রায় একই সুরে প্যানাসনিক ইন্ডিয়ার প্রধান মণীশ শর্মা জানান, বাজার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্রেতাদের হাতে সঠিক সময়ে সঠিক জিনিস পৌঁছে দেওয়ার দিকেও নজর দিতে বাধ্য অনলাইন বাজার।

বিজ্ঞাপন দুনিয়ার দাবি, গত বছর উৎসবের সময়ে প্রায় ১,৩০০ কোটি টাকা শুধুমাত্র বিজ্ঞাপনে খরচ করেছিল অনলাইন বাজার। এ বার তা ২,০০০ কোটি টাকা ছুঁয়ে ফেলবে বলে মনে করছে তারা।

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement