জেসিবির সামনে দাঁড়িয়ে হাতি। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।
ঘর ‘ভাঙতে’ এসেছিল শক্তিশালী জেসিবি মেশিন। মাথা-শুঁড় দিয়ে আটকিয়ে লড়াই চালাল বিশাল গজরাজ! চাঞ্চল্যকর তেমনই একটি ঘটনার ভিডিয়ো সম্প্রতি প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম। ঘটনাটি কবে এবং কোথায় ক্যামেরাবন্দি করা হয়েছে, তা-ও ওই ভিডিয়ো থেকে স্পষ্ট নয়।
ভাইরাল সেই ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, একটি জঙ্গলের মধ্যে দাঁড়িয়ে বিশাল একটি জেসিবি মেশিন। আর তার সামনে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়ে অতিকায় একটি হাতি। একা হাতিটি মাটি কাটার ওই যন্ত্রের সামনে অটল হয়ে দাঁড়িয়ে। মনে হচ্ছে যেন যন্ত্রটিকে তার বনভূমি, তার বাসস্থান ধ্বংস করতে দিতে নারাজ গজরাজ। কিছুটা দূরেই দাঁড়িয়েছিলেন পুলিশ, বনকর্মী এবং সাধারণ মানুষ। কিন্তু হাতিটির ধারেকাছেও যাওয়ার সাহস করেননি তাঁরা। অন্য দিকে, হাতিটিকে বার বার জেসিবির দিকে এগিয়ে যেতে দেখা গিয়েছে। মাথা-শুঁড় দিয়ে আটকাতে দেখা গিয়েছে যন্ত্রটিকে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে।
ভাইরাল ভিডিয়োটি শেয়ার করা হয়েছে ‘ডি’ নামের এক্স হ্যান্ডল থেকে। পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “উন্নয়ন এবং বন্যপ্রাণীর মধ্যেকার সংঘাতের এক হৃদয়বিদারক দৃশ্য। একটি হাতি তার নিজের বাসস্থান জঙ্গলের ধ্বংসযজ্ঞ থামাতে জেসিবি মেশিনের সামনে দৃঢ় ভাবে দাঁড়িয়ে রয়েছে। অথচ ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান এবং সরকার অবশিষ্ট সমস্ত বনভূমি ধ্বংস করার জন্য উন্মত্ত হয়ে উঠেছে।” ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই আবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। আবার ভিডিয়োটি কবে এবং কোথায় হয়েছে, তার উল্লেখ না থাকায় ঘটনার সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। নেটাগরিকদের অনেকে আবার দুঃখ, ক্ষোভ এবং পদক্ষেপ করার আহ্বানে মন্তব্য বিভাগ ভরিয়ে দিয়েছেন। জেসিবিচালকের মেশিনটি না থামিয়ে চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েও বেশ কয়েকটি মন্তব্যে প্রশ্ন তোলা হয়েছে, যা প্রাণীটি এবং দর্শক উভয়ের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। অনেকেই এই দৃশ্যকে ‘অপরাধমূলক অবহেলা’ আখ্যা দিয়েছেন। এক নেটাগরিক লিখেছেন, “নিজের বাসস্থান রক্ষা করার জন্য মরিয়া গজরাজ। সরকারের চেয়ে হাতিটি উন্নয়ন ভাল বোঝে।’’ অন্য এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘জেসিবিচালক কী ভাবছিলেন? তাঁর উচিত ছিল শুধু মেশিনটা বন্ধ করে দেওয়া। হাতিটা আহত হতে পারত।”