ছবি: এআই সহায়তায় প্রণীত।
১০ বছরেরও বেশি অভিজ্ঞতা রয়েছে তাঁর। অথচ কর্মক্ষেত্রে ঘটে যাওয়া একটি আকস্মিক মুহূর্ত নাড়িয়ে দিল সেই ম্যানেজারকে। একটি সাধারণ কাজ করতে গিয়ে তিনি এমন পরিস্থিতির সম্মুখীন হয়েছিলেন, যা তাঁর হওয়ার কথা ছিল না বলে দাবি উচ্চপদস্থ ওই মহিলাকর্মীর। কিন্তু কী সেই পরিস্থিতি? সমাজমাধ্যম রেডিটে একটি পোস্ট করে বিষয়টি নিজেই জানিয়েছেন ম্যানেজার। তাঁর ওই পোস্টটিকে কেন্দ্র করে হইচই পড়েছে। যদিও সেই পোস্টের সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম।
একটি সংস্থার ওই ম্যানেজার সমাজমাধ্যমে জানিয়েছেন, তিনি সম্প্রতি কিছু মেসেজ পড়ে জানতে পেরেছেন যে তাঁর ‘টিম’ আসলে তাঁকে নিয়ে কী ভাবে। আর তা জানতে পেরেই তাঁর চোখ খুলে গিয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি। নিজের পোস্টে গোটা ঘটনাটি ব্যাখ্যা করে ওই ম্যানেজার লিখেছেন, “আমি আমার টিমের গোপন গ্রুপ চ্যাট খুঁজে পাই এবং আমার সম্পর্কে লেখাগুলো পড়ি।” ম্যানেজার জানান, তিনি একজন প্রাক্তন কর্মীর ল্যাপটপ ব্যবহার করে একটি হারানো ফাইল খুঁজছিলেন। সেই সময়ই তাঁর টিমের সদস্যদের তৈরি করা একটি ব্যক্তিগত চ্যাট গ্রুপ খুঁজে পান তিনি।
মহিলা লিখেছেন, “এক জন প্রাক্তন কর্মী পদত্যাগ করেছিলেন এবং আমি তাঁর ল্যাপটপ ব্যবহার করে আমাদের শেয়ার্ড ড্রাইভে আপলোড না হওয়া একটি ফাইল খুঁজছিলাম। সেই ফাইল খুঁজে পাওয়ার পাশাপাশি আমি এমন একটি গ্রুপ চ্যাটও আবিষ্কার করি, যেখানে আমি বাদে আমার টিমের সকলেই ছিল। গোপন ওই গ্রুপ চ্যাটে সব বিষয় নিয়ে, বিশেষ করে কাজ নিয়ে কথা হচ্ছিল এবং ক্ষোভ প্রকাশ করা হচ্ছিল।” ম্যানেজার জানিয়েছেন, কৌতূহলবশত মেসেজগুলি পড়ার পরেই মর্মাহত হয়ে পড়েছেন তিনি। তাঁকে নাড়িয়ে দিয়েছে ওই সব মেসেজ।
উচ্চপদস্থ ওই মহিলা কর্মী লিখেছেন, ‘‘সাধারণত আমি এ সব পাত্তা দিই না। কর্মীরা তাঁদের ম্যানেজারদের নিয়ে সব সময়ই কথা বলবে। আর আমি এক দশকেরও বেশি সময় ধরে ম্যানেজার হিসাবে কাজ করছি। তাই এই বাস্তবতা আমি অনেক আগেই মেনে নিয়েছি। কিন্তু কৌতূহলবশত ওঁরা কী নিয়ে কথা বলছিল তা আমি দেখেছিলাম। এক কথায় বলতে গেলে, ওটা পড়ার জন্য আমি অনুতপ্ত।’’ তিনি আরও যোগ করেছেন, ‘‘আমার টিমের সদস্যেরা ব্যক্তিগত ভাবে ভদ্র আচরণ করেন। শ্রদ্ধাশীল এবং কর্মক্ষেত্রে একটি ভাল সম্পর্ক বজায় রাখেন। কিন্তু এর আড়ালে তাঁদের অসংযত চিন্তাভাবনা আমার মধ্যে মানসিক দ্বন্দ্ব তৈরি করেছিল।” ম্যানেজার জানিয়েছেন, মেসেজগুলি পড়ার পর তিনি নিজের উপরেই সন্দেহ প্রকাশ করতে শুরু করেন। তাঁর কথায়, “অন্তত আমি আশা করেছিলাম যে তাঁরা তাঁদের অনুভূতিগুলি সরাসরি বলার মতো সৎ হবেন। এটা বেদনাদায়ক। অন্য ম্যানেজারেরা কী ভাবেন, আমাকে জানাবেন?” তিনি জিজ্ঞাসা করলেন।
রেডিটে ‘এলিআফটারআওয়ার্স’ নামের অ্যাকাউন্ট থেকে করা ওই পোস্ট ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। পোস্টটি দেখার পর মিশ্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা। পোস্টটি দেখে নেটাগরিকদের অনেকে যেমন বিস্ময় প্রকাশ করেছেন, তেমনই অনকে আবার বিষয়টি ব্যক্তিগত ভাবে না নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। কর্মক্ষেত্রে ম্যানেজারকে নিয়ে এই ধরনের আলোচনা খুব সাধারণ বলেও মন্তব্য করেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। এক নেটাগরিক লিখেছেন, ‘‘আপনার জগৎ আর ওদের জগৎ সম্পূর্ণ আলাদা। ওরা শুধু মনের কথা বলছে। কারণ ওদের নিরাপত্তাহীনতায় এবং অনিশ্চয়তায় ভোগার অনেক জায়গা রয়েছে। এটা নিয়ে বেশি ভাববেন না।” অন্য এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘কর্মীরা মুখের সামনে ভাল কথা বললেও ধরেই নেবেন যে পিছনে সকলে সমালোচনা করবে। মিষ্টি খাওয়ালেও করবে। কয়েক জন কর্মী ব্যতিক্রম হন, বাকি সকলে একই কাজ করেন। ওঁরাও যখন ম্যানেজার হবেন, ওঁদেরও একই পরিস্থিতির শিকার হতে হবে। তাই বিষয়টি ব্যক্তিগত ভাবে নেবেন না। মনখারাপও করবেন না।”