Viral Video

পৃথিবী স্থির! কিশোর পড়ুয়াকে ‘বিজ্ঞানের পাঠ’ দিলেন পাকিস্তানের ধর্মগুরু, মানতে বাধ্য করলেন তাঁর যুক্তিও! ভাইরাল ভিডিয়োয় বিতর্ক

ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানের এক জন কিশোর ছাত্র অন্যদের সামনে দাঁড়িয়ে তার বিজ্ঞান মডেলটি দেখাচ্ছে। তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি সূর্যগ্রহণ এবং চন্দ্রগ্রহণের একটি মডেল তৈরি করেছি।”

Advertisement

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ২৭ এপ্রিল ২০২৬ ১৫:০১
Share:

পড়ুয়াকে ‘বিজ্ঞানের পাঠ’ দিচ্ছেন ধর্মগুরু। ছবি: এক্স থেকে নেওয়া।

পৃথিবী স্থির। সূর্যের চারদিকে প্রদক্ষিণ করে না আমাদের গ্রহ! পাকিস্তানে এক শিক্ষার্থীকে ধর্মগুরুর দেওয়া ‘বিজ্ঞান পাঠ’ দেখে হতবাক নেটপাড়া। সেই ঘটনার একটি ভিডিয়ো ইতিমধ্যেই প্রকাশ্যে এসেছে। ভাইরাল হয়েছে ভিডিয়োটি। যদিও সেই ভিডিয়োর সত্যতা যাচাই করেনি আনন্দবাজার ডট কম

Advertisement

সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক ছাত্র সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ ব্যাখ্যা করে একটি মডেল উপস্থাপন করার পর শ্রেণিকক্ষে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। এই ঘটনাগুলোর সময় পৃথিবী কী ভাবে নিজের এবং সূর্যের চারদিকে ঘোরে তা দেখানোর চেষ্টা করার সময় আপত্তি তোলেন এক জন ধর্মগুরু। নিজস্ব যুক্তি দেন তিনি। জানান, পৃথিবী স্থির। শিক্ষার্থীকেও তাঁর যুক্তি মেনে নিতে বাধ্য করেন। আর এর পরেই বিজ্ঞান এবং ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে বিতর্কের জন্ম হয়েছে। তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন নেটাগরিকেরা।

ভাইরাল ভিডিয়োয় দেখা গিয়েছে, পাকিস্তানের এক জন কিশোর ছাত্র অন্যদের সামনে দাঁড়িয়ে তার মডেলটি দেখাচ্ছে। তাকে বলতে শোনা যায়, “আমি সূর্যগ্রহণ এবং চন্দ্রগ্রহণের একটি মডেল তৈরি করেছি।” এর পর সে সূর্যগ্রহণ ও চন্দ্রগ্রহণ কী ভাবে ঘটে তা ব্যাখ্যা করতে শুরু করে। মডেল ব্যবহার করে সে দেখায়, পৃথিবী কী ভাবে আবর্তিত হয় এবং কী ভাবে ছায়া তৈরি হয়। মডেলের বিভিন্ন অংশে নির্দেশ করে এবং প্রতিটি ধাপ স্পষ্ট ভাবে ব্যাখ্যা করে বিষয়টিকে সহজবোধ্য করার চেষ্টা করে। কিন্তু সে যখন মডেল বোঝাচ্ছিল, তখন সেখানে উপস্থিত এক ধর্মগুরু তাকে বাধা দেন। মডেলটির দিকে তাকিয়ে পৃথিবীর আবর্তিত হওয়ার ধারণা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি। সন্দেহের সুরে প্রশ্ন করেন, “পৃথিবী কি এ ভাবে ঘোরে?” এর পর ওই ধর্মগুরু বিষয়টি নিয়ে তাঁর নিজের মতামত তুলে ধরেন। বলেন, “পবিত্র ধর্মগ্রন্থে সৃষ্টিকর্তা বলেছেন যে পৃথিবী স্থির। ধর্ম এক কথা বলে অথচ বিজ্ঞান বলে অন্য কথা। এখন, এই নির্দিষ্ট বিষয়টি নিয়ে তুমি কী বলবে?” এর পর ওই পড়ুয়াকে আরও চাপ দিতে থাকেন তিনি। সরাসরি জিজ্ঞাসা করেন, “পবিত্র ধর্মগ্রন্থে যা কিছু লেখা আছে, তা সম্পূর্ণ সঠিক।” এর পর ছাত্রটি সহজ ভাবে ‘হ্যাঁ’ বলে উত্তর দেয়। এর কিছু ক্ষণ পরেই তার আশেপাশের অন্য ছাত্রেরা প্রতিক্রিয়া দেখাতে শুরু করে। তাদের মধ্যে কেউ কেউ উল্লাস করে। সেই ভিডিয়োই প্রকাশ্যে এসেছে। ভিডিয়োয় দাবি, ঘটনাটি পাকিস্তানের।

Advertisement

ভাইরাল ভিডিয়োটি পোস্ট করা হয়েছে ‘ইনকগনিটো’ নামের একটি এক্স হ্যান্ডল থেকে। ইতিমধ্যেই বহু মানুষ দেখেছেন সেই ভিডিয়ো। লাইক এবং কমেন্টের বন্যা বয়ে গিয়েছে। ভিডিয়োটি দেখার পর নেটাগরিকদের অনেকে যেমন ব্যঙ্গ করেছেন, তেমনই আবার বিস্ময় প্রকাশ করেছেন অনেকে। পাকিস্তানের শিক্ষা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশও করেছেন নেটাগরিকদের একাংশ। এক নেটাগরিক ভিডিয়োটি দেখার পর লিখেছেন, ‘‘বাহ, চমৎকার! কারও চিন্তাভাবনাকে অসম্মান করা উচিত নয়। তবে এমন লোকেদের জন্য আলাদা স্কুল থাকা উচিত।” অন্য এক জন মজা করে বলেছেন, “ধর্মগুরু নিশ্চয়ই তাঁর নতুন আবিষ্কার এবং বিশ্বকে নতুন সৌরজগতের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য স্পেসএক্সে চাকরি পেয়েছেন।” তৃতীয় এক জন আবার লিখেছেন, ‘‘ছেলেটির কোনও উপায় ছিল না। ধর্মগুরু যা বলেছেন তা তাঁকে মানতেই হত। না হলে অবমাননার নামে পড়ুয়াকে পিটুনি খেতে হত। পাকিস্তানে মস্তিষ্ক থাকা নিশ্চয়ই অপরাধ।”

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement