পাইকারি বাজারে দাম কমার প্রবণতা অব্যাহত। এই নিয়ে একটানা ১২ মাস ধরে দাম সরাসরি কমছে। অক্টোবরে তা কমেছে ৩.৮১ শতাংশ হারে। তবে কেন্দ্রীয় সরকারের উদ্বেগ বাড়িয়ে রফতানি এখনও তলানিতে। অক্টোবরে আরও ১৭.৫ শতাংশ কমে তা দাঁড়িয়েছে ২১৩৫ কোটি ডলার। গত ১১ মাস ধরেই পড়ছে রফতানি, যার জন্য দায়ী বিশ্ব বাজারে চাহিদায় টান।
তবে আমদানিও অক্টোবরে ২১.১৫ শতাংশ কমায় বৈদেশিক বাণিজ্যে ঘাটতি নেমে এসেছে ৯৭৬ কোটি ডলারে।
মূলত খাদ্যসামগ্রীর কম দামের হাত ধরেই নামছে পাইকারি বাজার দর। তবে অক্টোবরে বেড়েছে ডাল ও পেঁয়াজের দাম। ফলে সার্বিক ভাবে দর কমলেও সেপ্টেম্বরের তুলনায় তা নেমেছে কম হারে। প্রসঙ্গত, সেপ্টেম্বরে পাইকারি দর কমেছিল ৪.৫৪% হারে। অন্য ভাবে বলতে গেলে মূল্যবৃদ্ধি এক বছর ধরেই রয়েছে শূন্যের নীচে। অক্টোবরে তা (-)৩.৮১%, সেপ্টেম্বরের হার (-)৪.৫৪%। গত বছরের অক্টোবরে মূল্যবৃদ্ধি ছিল ১.৬৬%। তার পর থেকেই দর সরাসরি কমতে শুরু করেছে।
অক্টোবরে অবশ্য ডালের দাম বেড়েছে প্রায় ৫৩%, পেঁয়াজ প্রায় ৮৬ %। শাক-সব্জির দামও বেড়েছে ২.৫৬ % হারে, গম ৪.৬৮%, দুধ ১.৭৫%। মানুষকে স্বস্তি দিয়ে অবশ্য আলুর দাম সরাসরি কমেছে প্রায় ৫৯%।
অন্য দিকে, জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম কমেছে ১৬.৩২%, কল-কারখানায় তৈরি পণ্য ১.৬৭ শতাংশ।
তবে আগামী ১ ডিসেম্বর রিজার্ভ ব্যাঙ্ক তার ঋণনীতি ফিরে দেখতে গিয়ে সম্ভবত সুদ কমানোর রাস্তায় হাঁটবে না বলেই মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। কারণ, শীর্ষ ব্যাঙ্ক মূলত খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধিকেই সুদ কমানোর জন্য গুরুত্ব দেয়। মানুষের অস্বস্তি বাড়িয়ে খুচরো বাজারের মূল্যবৃদ্ধি যে আবার বাড়ার মুখ নিচ্ছে, বৃহস্পতিবার তা জানিয়েছে সরকারি পরিসংখ্যান। খুচরো বাজারে মূল্যবৃদ্ধি অক্টোবরে ছুঁয়েছে ৫ শতাংশ, যা গত চার মাসে সর্বোচ্চ। সেপ্টেম্বরের হার ছিল ৪.৪১ শতাংশ, গত বছরের অক্টোবরে ৪.৬২ শতাংশ। এর মধ্যে খাদ্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি আরও বেশি, ৫.২৫ শতাংশ।
শিল্পমহলের আশঙ্কা, আগামী মাসগুলিতে পাইকারি বাজারের মূল্যবৃদ্ধির হারেও বাড়ার প্রবণতা লক্ষ করা যাবে। কারণ, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ার প্রভাব পড়বে
শিল্পের উপর। পেট্রোল-ডিজেলে উৎপাদন শুল্ক বৃদ্ধি এবং পরিষেবা ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ভারত সেস বসার জেরে ঊর্ধ্বমুখী হতে পারে এই মূল্যবৃদ্ধি। তবে আন্তর্জাতিক বাজারে যেহেতু পণ্যমূল্য এখনও কমের দিকে, তাই পাইকারি মূল্যবৃদ্ধি এক জায়গায় থমকে থাকবে বলেই আশাবাদী বণিকসভা সিআইআই। পাশাপাশি, অ্যাসোচ্যাম মনে করছে, মার্কিন শীর্ষ ব্যাঙ্ক ফেডারেল রিজার্ভ সুদ বাড়ানো নিয়ে কী সিদ্ধান্ত নেয়, তা বিবেচনা করেই সিদ্ধান্ত নেবে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক।