বেসরকারি লগ্নিতে রাজ্যের প্রথম জুট পার্ক শক্তিগড়ে

সরকার হাত গুটিয়ে নিলেও বেসরকারি উদ্যোগে রাজ্যে তৈরি হচ্ছে জুট পার্ক। দক্ষিণ বর্ধমানের শক্তিগড়ে আগামী ১৯ জানুয়ারি রাজ্যের প্রথম জুট পার্কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

প্রজ্ঞানন্দ চৌধুরী

শেষ আপডেট: ১৫ জানুয়ারি ২০১৬ ০২:৫০
Share:

সরকার হাত গুটিয়ে নিলেও বেসরকারি উদ্যোগে রাজ্যে তৈরি হচ্ছে জুট পার্ক। দক্ষিণ বর্ধমানের শক্তিগড়ে আগামী ১৯ জানুয়ারি রাজ্যের প্রথম জুট পার্কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করতে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

Advertisement

২৫ একর জমির উপর এই প্রকল্পে মোট বিনিয়োগ ১২৫ কোটি টাকা। লগ্নিকারীদের দাবি, এখানে ৩ হাজারেরও বেশি কর্মসংস্থান হবে, যার সিংহভাগই মহিলা-কর্মী। ব্যবসা টিকিয়ে রাখার জন্য বস্তা ব্যবহারে কেন্দ্রীয় সরকারের পাট নীতির উপর নির্ভরতা কমাতেই তাঁরা জুট পার্কটি গড়ছেন বলে জানান প্রকল্পের প্রধান উদ্যোক্তা এবং ইন্ডিয়ান জুট মিলস অ্যাসোসিয়েশনের প্রাক্তন চেয়ারম্যান সঞ্জয় কাজারিয়া। জুট পার্কের প্রধান কারখানা বারসুল টেক্সটাইল সঞ্জয়বাবুরাই গড়ে তুলেছেন।

পার্কটির ব্যাপারে কেন্দ্রীয় পাট কমিশনার সুব্রত গুপ্ত বলেন, ‘‘কেন্দ্রীয় সরকার চায়, শুধু বস্তা তৈরির উপর নির্ভর না-করে বিভিন্ন ধরনের পাটজাত পণ্য তৈরিতে এই শিল্পকে উৎসাহ দেওয়া। পড়শি বাংলাদেশের পাট শিল্প এ ক্ষেত্রে ইতিমধ্যেই উল্লেখযোগ্য সাফল্য পেয়েছে। ভারতেও একই উদ্দেশ্যে কেন্দ্রীয় বস্ত্র মন্ত্রক জুট টেকনোলজি মিশনের অঙ্গ হিসাবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় পার্ক গড়ার পরিকল্পনা করেছে। প্রতিটি পার্কে পরিকাঠামো গড়ে তোলার জন্য ৭.৫০ কোটি টাকা করে কেন্দ্রীয় অনুদানের সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়েছে।’’

Advertisement

সুব্রতবাবু প্রসঙ্গত জানান, ‘‘রাজ্যে শক্তিগড় ছাড়াও কোচবিহার এবং মুর্শিদাবাদেও একটি করে জুট পার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে মুর্শিদাবাদের পার্কটি বেসরকারি সংস্থার সঙ্গে যৌথ উদ্যোগে গড়ে তোলার কথা ছিল রাজ্য সরকারের। কিন্তু রাজ্য শেষ পর্যন্ত সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়েছে। কোচবিহারের জুট পার্কটিও বেসরকারি উদ্যোগে গড়ে তোলা হবে বলে ঠিক হয়েছে।’’

বর্তমানে দেশের চটকলগুলিতে শুধু বস্তা তৈরি হয়। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতি অনুযায়ী প্রধানত খাদ্যশস্য এবং চিনি প্যাকেজিং-এর জন্য চটের বস্তা ব্যবহার করতে বলেছে কেন্দ্রীয় সরকার। খাদ্যশস্য প্যাকেজিং-এর ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রে চটের বস্তা ব্যবহার বাধ্যতামূলক, চিনির জন্য তা ২০ শতাংশ। কিন্তু এই নীতি নিয়ে বিভিন্ন মহলে বিতর্ক রয়েছে, যার জেরে কয়েকবার নীতি সংশোধন করে চটের বস্তার ব্যবহার কমাতে হয়েছে কেন্দ্রকে। এর বিরুদ্ধে অনেক সময়েই সোচ্চার হয়েছেন চটকল মালিকরা। পাট শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে প্রতি বছর ৫ হাজার কোটি টাকার বস্তাও কেন্দ্রীয় সরকারকে কিনতে হয়।

সঞ্জয় কাজারিয়া বলেন, ‘‘কেন্দ্রের নীতির উপর নির্ভরতা কমাতে বস্তা ছাড়াও নানা ধরনের পাটজাত পণ্য তৈরির উপর জোর দেওয়া হবে। আর শক্তিগড় জুট পার্ক গড়ে তোলা হল ওই লক্ষ্য পূরণের প্রথম ধাপ।’’ তিনি জানান, তাঁদের এই পার্কে যে-পরিকাঠামো গড়া হয়েছে, তাতে পাটজাত পণ্য তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকবে।

শক্তিগড়ে কী ধরনের পণ্য তৈরি হবে? সঞ্জয়বাবু জানান, ‘‘জুট পার্কে মোট ৫টি কারখানা তৈরি হবে। বাজার করার জন্য শৌখিন ব্যাগ, পর্দা, বালিশের কুশন, গাড়ির প্যানেলে ব্যবহৃত পাটজাত পণ্য ইত্যাদি সেখানে তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।’’

এখানে কারখানা গড়ছেন মহিলা উদ্যোগপতি অমৃতা কাজারিয়াও। তাঁর কারখানার নাম বায়োজুট ব্যাগ। অমৃতাদেবী বলেন, ‘‘পাট পরিবেশ-বান্ধব। বিদেশে শৌখিন পাটজাত পণ্যের ভাল চাহিদা রয়েছে। আমাদের কারখানায় যে-সমস্ত পণ্য তৈরি হবে, তার সিংহভাগই রফতানি করার পরিকল্পনা রয়েছে।’’

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement