রাজ্যে এ বার পুরোপুরি ঝাঁপ বন্ধের মুখে টায়ার কর্পোরেশন।
১৯০ কোটি টাকা সম্পদের এই কেন্দ্রীয় সরকারি সংস্থাকে পাওনাদারদের ৮ কোটি টাকা না-মেটানোর দায়ে সম্প্রতি গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কলকাতা হাইকোর্ট। এই পরিস্থিতিতে সংস্থাটিকে বাঁচাতে অবিলম্বে কেন্দ্রের হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন সংস্থার কর্মী ও অফিসারেরা। দায় মেটানোর পরে সংস্থাটি বিলগ্নিকরণের প্রস্তাবও দিয়েছেন তাঁরা।
টায়ার তৈরির রুগ্ণ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা টায়ার কর্পোরেশনকে ২০০৭ সালে বিলগ্নিকরণের সিদ্ধান্ত নেয় তৎকালীন ইউপিএ সরকার। কিন্তু গড়িমসির কারণে সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি। পাওনাদারদের অভিযোগক্রমেই গত ডিসেম্বরে কলকাতা হাইকোর্ট টায়ার কর্পোরেশন গুটিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেয়। কর্মী-অফিসারদের বক্তব্য, পাওনাদারেরা মাত্র ৮ কোটি টাকার মতো পাবেন। আর, কেন্দ্রের মূল্যায়ন অনুযায়ীই সংস্থাটির সম্পদের মোট মূল্য ১৯০ কোটি টাকা।
এ দিকে সংস্থার মোট ১১২ জন কর্মী ও অফিসার গত দেড় বছর ধরে বেতন পাচ্ছেন না। যাঁরা অবসর নিয়েছেন, তাঁদের অনেকেই পাওনা-গণ্ডা হাতে পাননি। বকেয়া মিটিয়ে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রের নতুন সরকারের কাছে আর্জি জানিয়েছেন সংস্থার কর্মী ও অফিসারেরা।
টায়ার কর্পোরেশন অফিসার্স অ্যাসোসিশনের কার্যকরী সভাপতি এবং তৃণমূল ট্রেড ইউনিয়ন কংগ্রেসের নেতা প্রমথেশ সেন বলেন, “আগের সরকার গড়িমসি করে সংস্থাটির সমস্যা মেটাতে কোনও ব্যবস্থা নেয়নি। কর্মীরা স্বেচ্ছাবসর নিতেও রাজি। কিন্তু তা নিয়েও সিদ্ধান্ত হয়নি। দেড় বছরের বকেয়া বেতন ও অবসরকালীন পাওনা-গণ্ডা মেটাতে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে আর্জি জানিয়ে আমরা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর কাছে চিঠি দিয়েছি।” সকলের প্রাপ্য মিটিয়ে সংস্থাটিকে বিলগ্নিকরণের দাবিও জানিয়েছে ইউনিয়ন।
অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক অনুপ হোমরায়ের অভিযোগ, “টায়ার কর্পোরেশন জাতীয় সম্পদ। কেন্দ্রের কাছে আমাদের দাবি, কর্মী-অফিসার ও পাওনাদারদের টাকা মিটিয়ে এর বিলগ্নিকরণের ব্যবস্থা করা হোক।”