পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান। ছবি: সংগৃহীত।
সিঁদুর অভিযানের সময় পাকিস্তানকে সাহায্য করেছিল তারা, এই প্রথম স্বীকার করল চিন। এমনটাই প্রকাশিত হয়েছে সাউথ চিন মর্নিং পোস্টের একটি প্রতিবেদনে। সেখানে বলা হয়েছে, পাকিস্তানে গিয়ে যুদ্ধবিমান মেরামত, প্রযুক্তিগত রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করেছেন চিনের ইঞ্জিনিয়ারেরা। এর আগে সিঁদুর অভিযানে পাকিস্তানকে সহায়তা দেওয়া নিয়ে চিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেও তারা কোনও মন্তব্য করেনি। এই প্রথম সেই স্বীকারোক্তি এল চিনের তরফে।
বৃহস্পতিবার চিনের সরকারি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দিয়েছিলেন অ্যাভিয়েশন ইন্ডাস্ট্রি কর্পোরেশন অফ চিন (এভিআইসি)-র কয়েক জন ইঞ্জিনিয়ার। সেই সাক্ষাৎকারই প্রকাশিত হয়েছে সাউথ চিন মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে। প্রতিবেদন অনুসারে, পাকিস্তানে গিয়ে যুদ্ধবিমান রক্ষণাবেক্ষণে সাহায্য করেছিলেন ঝাং হেং। তিনি এভিআইসি-র চেংদু এয়ারক্রাফট ডিজাইন অ্যান্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ইঞ্জিনিয়ার। চিনের যুদ্ধবিমান তৈরি করে ওই প্রতিষ্ঠান।
সেই হেংকে উদ্ধৃত করে সাউথ চিন মর্নিং পোস্ট বলে, ‘‘সাপোর্ট বেসে আমরা যুদ্ধবিমানের ওড়ার শব্দ শুনতাম। আকাশে সাইরেনের শব্দ শুনতাম। বেলা বাড়লে তাপমাত্রা হত ৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস। আমাদের জন্য খুব চাপের পরিস্থিতি ছিল। মানসিক এবং শারীরিক ভাবে।’’
চিনের তৈরি জে-১০সিই যুদ্ধবিমান ব্যবহার করে পাকিস্তান। চিন ছাড়া একমাত্র তারাই ওই আধুনিক ব্যবহার করে। সূত্রের খবর, ২০২০ সালে চিনের থেকে ৩৬টি যুদ্ধবিমান অর্ডার করেছিল পাকিস্তান। হেং জানিয়েছেন, তিনি এবং তাঁর দল ‘অন-সাইটে’ গিয়ে পাকিস্তানকে প্রযুক্তিগত সহায়তা দিতে চেয়েছিলেন। পাশাপাশি, পাকিস্তানের যুদ্ধবিমান যাতে ভাল ভাবে কাজ করতে পারে, তা নিশ্চিত করতে চেয়েছিলেন। ওই প্রতিষ্ঠানের আর এক কর্মী জু দা জে-১০সিই যুদ্ধবিমানকে নিজেদের ‘সন্তান’ বলে বর্ণনা করেছেন। তাঁর কথায়, ‘‘আমরা তৈরি করেছি, যত্ন করেছি, তার পরে ব্যবহারকারদীরে হাতে তুলে দিয়েছি (যুদ্ধবিমান)। তা পরীক্ষার মুখে পড়েছিল। জে-১০সিই সফল হয়েছে। আমরা যদিও হতবাক হইনি। এটা হওয়ারই ছিল। সফল হওয়ার জন্য সুযোগ খুঁজছিল ওই যুদ্ধবিমান।’’
২০২৫ সালের ২২ এপ্রিল পহেলগাঁওয়ে জঙ্গি হামলা যায়। প্রাণ যান ২৬ জন ভারতীয়ের। নাম জড়ায় পাকিস্তানের জঙ্গিগোষ্ঠীর। এর পরে পাকিস্তান এবং পাক অধিকৃত কাশ্মীরে অভিযান চালিয়ে জঙ্গিঘাঁটি ধ্বংস করে ভারতীয় সেনাবাহিনী।