—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
চৈনিক জীবনযাত্রার অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ চা ব্রিটিশের ষড়যন্ত্রে সওয়ার হয়ে এল ঔপনিবেশিক ভারতে। দার্জিলিঙের চা জগৎ জুড়ে বিখ্যাত হল। এর মধ্যে মকাইবাড়ি চা বিশেষ সমাদৃত। রাজনীতির পালাবদল, গোর্খাল্যান্ড সমস্যা ইত্যাদি ঘটনাপ্রবাহের প্রেক্ষিতে সেই টি-এস্টেটের দীর্ঘ যাত্রা লিখেছেন লেখক। পারিবারিক উত্তরাধিকারসূত্রে প্রাপ্ত সম্পত্তি কী ভাবে হয়ে উঠল দেশের সম্পদ: ভারতের প্রথম জৈব চা-বাগান ও পরে বিশ্বের প্রথম বায়োডায়নামিক চা-বাগান— স্মৃতিচারণের সঙ্গে রয়েছে চা-চাষিদের সহায়তায় রিমপোচা সূচনার কাহিনি।
মিথ্যা, ডাহা মিথ্যা, পরিসংখ্যান: এ ভাবেই নাকি ধাপে ধাপে সাজানো যায় অসত্য। এমন কথার মধ্যে বাহাদুরির প্রকাশ আছে, দায়িত্বজ্ঞানের পরিচয় নেই, মনে করান অচিন চক্রবর্তী। দায়িত্বজ্ঞান হল নিয়ত সজাগ থাকা, যাতে রাষ্ট্র তার ক্ষমতাপ্রয়োগে অপ্রিয় পরিসংখ্যান চেপে দিতে না পারে, রাজনৈতিক বিশ্বাস বা স্বার্থ চাপাতে না পারে সত্যের উপর। সুস্থ সমাজে পরিসংখ্যান কেন জরুরি, যত্ন-সহ বুঝিয়েছেন লেখক। ‘ভাবার বিষয়’ পুস্তিকামালার দ্বিতীয় বইটিও বেরিয়েছে এ বছর, শিশু অপুষ্টি নিয়ে লিখেছেন সীমন্তিনী মুখোপাধ্যায়। সমাজমাধ্যম-যুগে সবাই যখন ‘নিজের মত’ দিতে ব্যস্ত, তখন কিসের ভিত্তিতে তৈরি হবে সেই মত, তার পথসন্ধান।
যাঁদের সামনে থেকে এঁকেছেন আর যাঁদের ছবি দেখে এঁকেছেন, সেই খ্যাতনামাদের দুই পর্বে বিন্যস্ত করেছেন দেবাশীষ দেব। তাঁর আঁকা ও সঙ্গের লেখাগুলিতে পাঠক-দর্শক আসক্ত তো হবেনই, আরও মজা পাবেন যখন ক্যারিকেচার দেখে মানুষটাকে চিনে ফেলা যাবে, বোঝা যাবে আঁকার মধ্যে দিয়ে শিল্পী কী ভাবে তার চরিত্র বা ব্যক্তিত্বের একটি দিক ফুটিয়ে তুলছেন। তাঁর ক্যারিকেচার মানুষের কোনও একটি মুডকে ধরার চেষ্টা। কোন অনুসন্ধিৎসু দৃষ্টি থেকে এক জন ক্যারিকেচার-শিল্পী প্রায় গোয়েন্দা হয়ে ওঠেন তা নিয়ে লিখেছেন, ‘প্রসঙ্গ ক্যারিকেচার’ পর্বে। সাদা-কালো ও রঙিন ছবিতে যেন রূপকথার সম্ভার।
“সাত তারিখে রণবীর ফিরিবে আসিবে। সাত তারিখে রণবীর আসিবে।” দেওয়ালে পেনসিলে কাঁপা-কাঁপা অক্ষরে লিখেছিলেন কৃষ্ণা। স্মৃতিভ্রংশ রোগ তখন শুরু হয়েছে, ফোনে যত বারই স্বামীর ফেরার দিন জেনে নেন, ফোন রাখার পর মনে রাখতে পারেন না। “পরের তিন-চার দিন ধরে আমি ওই দেওয়াল-লিখনের ধাক্কা সামলাতে ব্যস্ত ছিলাম,” লিখছেন রণবীর সমাদ্দার। জীবনসঙ্গিনীর অ্যালঝাইমার’সে আক্রান্ত হওয়া থেকে মৃত্যু পর্যন্ত দিনগুলি, তার পরেও স্মৃতি নিয়ে বাঁচার বিবরণ লিখেছেন এ বইয়ে: বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে রোগটি বোঝার চেষ্টা, কাছের মানুষটিকে স্মৃতি হারিয়ে ফেলতে দেখার অনুভব। আশপাশের মানুষের ব্যবহারের কথাও লিখেছেন: যাঁরা অর্থসাহায্যে এগিয়ে আসেননি, তাঁদেরই যেন বেশি কৌতূহল হাসপাতালে বিলের অঙ্ক নিয়ে।
২০১০-এর ১৭ ডিসেম্বর টিউনিজ়িয়ার এক ছোট শহরে এক ফলওয়ালা খদ্দেরের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল। কাগজ না থাকায় পুলিশ সেদিন তার মালপত্র কেড়ে নিল, বাজেয়াপ্ত করল দাঁড়িপাল্লা। ছেলেটি নিজের গায়ে গ্যাসোলিন ঢেলে জ্বালিয়ে দেয় আগুন। উপার্জনের উপায়হীন, পুলিশের হাতে নিত্য-পীড়িত হাজারো তরুণ-তরুণী পথে নামল, সরে যেতে হল প্রেসিডেন্ট বেন আলিকে। আরব বসন্তের সে-ই শুরু। পরে কায়রো, লিসবন, মাদ্রিদ-সহ নানা শহর ও দেশে ছড়ায় বিক্ষোভ। বিশ্বের নজর কাড়ে ‘অকুপাই ওয়াল স্ট্রিট’ আন্দোলন। এ সব বিক্ষোভের উদ্যোক্তারা উচ্চশিক্ষিত, ডিজিটাল মাধ্যম ও গণমাধ্যম ব্যবহারে দক্ষ। অধিকাংশই তরুণ, অনেকেই মহিলা। কেন বিপুল সাড়া জাগিয়েও প্রায়ই মিলিয়ে গিয়েছে এ সব আন্দোলন? মধ্যবিত্তের সন্তানের কর্মহীনতা, রাজনীতিতে কণ্ঠহীনতাই কি মূল কারণ? উত্তর খোঁজা হয়েছে বইয়ে।
লেখক বামপন্থী রাজনীতির মানুষ নন, মুখবন্ধে মনে করিয়ে দিয়েছেন অনির্বাণ চট্টোপাধ্যায়। সে কারণে শ্রমজীবী মানুষের, বিশেষত শ্রমজীবী মেয়েদের নানা সঙ্কট নিয়ে বামপন্থী রাজনীতির সঙ্গে তাঁর এই ধারাবাহিক সংলাপ অতি গুরুত্বপূর্ণ। বাম রাজনীতির অভ্যন্তরে জমাট বেঁধে থাকা কিছু ধারণা যাচাই করে, প্রয়োজনে ঘষেমেজে নিতে হবে বাস্তবের কষ্টিপাথরে: স্বাতী এ কাজের রসদ জোগাচ্ছেন। বিভিন্ন অঞ্চলের ও বয়সের মানুষের অভিজ্ঞতা থেকে উঠে আসে মৌলিক সূত্র: মানুষ সরকারি সাহায্যের মুখাপেক্ষী থাকতে চান না, শ্রমের বিনিময়ে উপার্জন করতে চান; শ্রমের বাজারে রাষ্ট্রের নিয়মকানুন যথেষ্ট দুর্বল, বহু ক্ষেত্রেই সেটুকুও পালিত হয় না; এই বাজারেও নারীরা তাঁদের লিঙ্গ-পরিচিতির কারণে বাড়তি বঞ্চনার শিকার। কাজ করে দখলের রাজনীতিও। শ্রমজীবী মানুষের কাছে লড়াই কোনও শৌখিন রাজনৈতিক প্রকল্প নয়, প্রাত্যহিক জীবনযাত্রা। অর্থনীতি সমাজ রাজনীতি, সবেরই সীমান্তে দাঁড়িয়ে তাঁরা, নিরন্তর চেষ্টা করছেন পায়ের নীচে মাটি পাওয়ার।
রান্নাবান্না ও জীবনযাপনের স্মৃতিসন্দর্ভ ভাবলেই অবধারিত ভাবে আসে বাঙাল বাড়ির কথা। ঘটিবাড়ির কি নেই এমন গল্পকথা, ইতিহাস? তারই সন্ধান করেছেন লেখিকা। বাজার থেকে বড় দাদামশাইয়ের আনা মাছ কোন তরিবতে বাড়ির বড় মেজো সেজো ছোট বৌয়েরা মিলে দুপুরবেলায় রূপ দিতেন মাছের চপে, ভবানীপুরের বাড়িতে ঠাকুরদার মা ‘মানা’ কুচো নিমকিকে কী ভাবে করে তুলেছিলেন বেতাজ বাদশা, তার বয়ান। বড়মার হাতের চিংড়ির কাটলেট, ঘটিবাড়ির মোচার ঘণ্ট, ভালোমা-র নিরামিষ ঘুগনি, শিহড়ের মুখোপাধ্যায়-বাড়ির পিঁয়াজ পোস্ত, চক্রবেড়িয়ার বাড়ির লাউপোড়া-ভর্তা, ফুলঠাম্মার আলুর চপের ঝাল, ইনামা-র মৌরলার টক থেকে দিদুনের গোকুলপিঠে: ফেলে আসা সময়ের রসনা-ইতিবৃত্ত।
ইংরেজি না জানলে চাকরি পাওয়া অসম্ভব— ধারণাটি শুধু একালের নয়। উনিশ শতকের বাংলায় পাশ্চাত্য শিক্ষাকে সাগ্রহে গ্রহণ করেছিল বাঙালি মধ্যবিত্ত, মূলত তাদের আগ্রহে গোড়াপত্তন ঘটে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের। তাদের মধ্যে তিনটি পরে জ্ঞানচর্চার পীঠস্থান হয়ে ওঠে: ১৮১৬-তে দেশীয় প্রচেষ্টায় স্থাপিত হিন্দু কলেজ, যার অংশ হিসাবে গড়ে ওঠা পাঠশালাটি ১৮৫৪-তে হিন্দু স্কুল হয়ে ওঠে; ১৮১৮-তে স্থাপিত ক্যালকাটা স্কুল সোসাইটি, যার বিদ্যালয়টিই পরে হেয়ার স্কুল, এবং তৃতীয়টি ১৮৪৯-এ বেথুনের উদ্যোগে প্রতিষ্ঠিত হিন্দু ফিমেল স্কুল, পরে যা বেথুন স্কুল। তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের গড়ে ওঠার ইতিহাস বর্ণিত এখানে, একই সঙ্গে উনিশ শতকের কলকাতার আর্থ-সামাজিক পরিস্থিতিও ব্যাখ্যাত।
১৯৫২-য় প্রকাশিত হয় আর্নেস্ট হেমিংওয়ের দি ওল্ড ম্যান অ্যান্ড দ্য সি, পুলিৎজ়ার ও পরে নোবেল এনে দেয় তাঁকে। বিশ্বসাহিত্যের যুগান্তকারী সাহিত্যকৃতিগুলির মধ্যে এই লেখার নাম উচ্চারিত হয় বার বার: মাঝসমুদ্রে চুরাশি দিন নৌকায় ভেসে, হাঙরের সঙ্গে যুঝে শেষ পর্যন্ত একটা বড় মার্লিন মাছকে ডাঙায় নিয়ে তোলার যে আখ্যানে মিশে আছে মানুষের অদম্য জেদ আর বিশ্বাসে লড়ে যাওয়ার চিরায়ত সংগ্রাম। বাংলায় এই বই আগেও অনূদিত হয়েছে, এই কাজটি তবু গুরুত্বপূর্ণ— হেমিংওয়ের নির্ভার অথচ ব্যঞ্জনাময় গদ্যের রূপ-রস বাংলা ভাষাতেও পাবেন পাঠকেরা। বিশেষত ছোটদের হাতে তুলে দেওয়ার যোগ্য।
আধুনিক কালে শাসকের হাতিয়ার হিসেবে গুরুত্ব বুঝেই কি গুন্ডার নির্মাণ? লেখক দেখিয়েছেন, ঔপনিবেশিক কালে গোড়ায় তারাও ছিল রাজনীতির বোড়ে, ক্রমে হয়ে উঠল সামাজিক নিয়ন্ত্রণের প্রতীক: ব্রিটিশ শাসকের হাতে নগর নিয়ন্ত্রণের অস্ত্র, ধর্মীয় বিভাজন থেকে লিঙ্গ ও শ্রেণি-রাজনীতির চালিকাশক্তি— আজ যে রূপটি চেনা। কলকাতার সাহেব গুন্ডা, দেশি গুন্ডা, পুরনো চিনেপাড়ার গুন্ডা, কাশীর গুন্ডাদের নিয়ে চমৎকার তথ্য ও গল্পকথা পরিবেশন করেছেন লেখক, আলাদা একটি অধ্যায়ে সেকালের অপরাধজগতের মেয়েদের কথা: ত্রৈলোক্যতারিণী দেবী থেকে ওয়াসিফান্নিসা বিবি। কলকাতার সাম্প্রদায়িক হিংসার গোড়ার যুগে গুন্ডাদের ভূমিকাও আলোচিত; সেই সঙ্গে গুন্ডা দমন আইনের পরিপ্রেক্ষিত, তার সীমাবদ্ধতাও।
“আমরা... জীবনের গান শোনাতে এসেছিলাম, আমাদের শিরায় শিরায় শ্বেতাঙ্গ-শিকারের ছিল উত্তেজনা। বনের দুর্দান্ত হিংস্র বাঘ মেরে শিকারি এত সুখ ও মদ্য পানেরও অধিক এমন নেশার আনন্দ কখনও পায় না,” লিখেছেন বিপ্লবী বারীন্দ্রকুমার ঘোষ। স্মৃতিকথাটি এক সাপ্তাহিক পত্রিকায় ধারাবাহিক ভাবে বেরোয় ‘অগ্নিযুগের স্মৃতিকথা’ শিরোনামে, রচনাকাল ১৯৫৮-র মার্চ থেকে সেপ্টেম্বর। মহাফেজখানা থেকে আহৃত সেই লেখা এ বার দু’মলাটে। বাঙালি বিপ্লবীর আদর্শ কী ছিল, অগ্রজ অরবিন্দকে ‘যুগগুরু’ আখ্যায় তাঁর নেতৃত্বের বিবরণ দিয়েছেন বারীন্দ্র; বুড়িবালাম ও জালালাবাদের যুদ্ধ, নেতাজি সুভাষচন্দ্রের বিপ্লববাদ ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ায় তাঁর কর্মকাণ্ড নিয়েও লিখেছেন। প্রতিটি অধ্যায় শেষে রয়েছে প্রাসঙ্গিক টীকা ও তথ্য।
১৯৫৫-৮৩ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগে অধ্যাপনা, এক দশক বিভাগীয় প্রধানেরও দায়িত্বে ছিলেন অধ্যাপক সন্তোষকুমার ভট্টাচার্য। ১৯৮৩-র শেষে হন কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য। ‘চার বছর এক অভূতপূর্ব সংকীর্ণ রাজনৈতিক নৈরাজ্যের মধ্যে দায়িত্ব পালন করেন’, লিখেছেন সম্পাদকেরা। সন্তোষ ভট্টাচার্য মানেই জেদ, সাহস, লোভহীনতার প্রতিমূর্তি, তাঁর রেড হ্যামার ওভার ক্যালকাটা ইউনিভার্সিটি ১৯৮৪-৮৭ পড়লে আজও অভিভূত হতে হয়, উচ্চশিক্ষাক্ষেত্রকে সরকারি স্বার্থান্ধ হস্তক্ষেপ থেকে বাঁচাতে কী না করেছিলেন তিনি! এই শিক্ষাবিদ সারস্বতের জন্মশতবর্ষের শ্রদ্ধার্ঘ্য এই বইটি: স্মৃতিকথা, ব্যক্তিগত গদ্য ও বিশ্লেষণাত্মক প্রবন্ধের মিশেলে। তাঁর নিজের কয়েকটি লেখাও মুদ্রিত হয়েছে: তাঁর অর্থনৈতিক, সমাজ-রাজনৈতিক ও শিক্ষা-বিষয়ক ভাবনা।
শহরের ইতিউতি এখনও ছড়িয়ে রয়েছে প্রাচীন কলকাতা, অতীতগৌরবের চিহ্নমাত্র হয়ে। মলিন ফলকে, অধিবাসীদের ঝুলিতে, বৃদ্ধ প্রতিবেশী ও উত্তরসূরিদের স্মৃতিতে, পুরনো নানা বইয়ের পাতায় লিপিবদ্ধ তাদের অতীতগরিমার কাহিনি। ডিরোজ়িয়োর বাড়ি, বাগবাজারের বসুবাড়ি, ধূমকেতু পত্রিকার বাড়ি, রাস্তায় কোণে দমকল ডাকার যন্ত্র, পার্সিদের বন্ধ হয়ে যাওয়া মন্দির, গুমঘর লেনের রহস্যময় বাড়ি, ঝোপজঙ্গলে ভরা গোবর গোহ-র কুস্তির আখড়া, বটকৃষ্ণ পালের বাড়ি ও উত্তরাধিকারেরখোঁজ নিয়েছেন লেখক। সঙ্গে রেখেছেন এ শহর থেকে একেবারে হারিয়ে যাওয়া চিড়িয়া মোড়ের চিড়িয়াখানা, গান্ধীজির স্মৃতিবিজড়িত কলম কারখানার কথাও। কিছু দীর্ঘ প্রবন্ধকে উপশিরোনাম দিয়ে সুবিন্যস্ত করলে, ছবিগুলি আরও যত্নে উপস্থাপিত করলে পাঠ-সুখ নিশ্চিত ভাবেই বাড়ত আরও।
আজ অগণিত মানুষ ‘রিফিউজি’ তকমা নিয়ে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে বসবাস করছেন। দেশহীন, আশ্রয়প্রার্থী সেই সব মানুষ প্রবল প্রতিকূলতাতেও চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন স্রেফ বেঁচে থাকার। অথচ আর্থ-সামাজিক পরিপ্রেক্ষিত ও তার রাজনীতি এতই জটিল যে তা অভিবাসনের অনিশ্চয়তা ক্রমশই বাড়িয়ে তুলছে। লেখিকা ডাচ সেন্ট্রাল এজেন্সি ফর দ্য রিসেপশন অব অ্যাসাইলাম সিকারস-এর অধীনে একটি ডাচ আশ্রয়প্রার্থী কেন্দ্রের সূত্রে অসংখ্য আশ্রয়প্রার্থীর সঙ্গে কথা বলে, তাঁদের নিরাপত্তাহীন যাপিত জীবনের ও পুনর্বাসনের তথ্যনিষ্ঠ বয়ান লিপিবদ্ধ করেছেন এ বইয়ে। কিন্তু সে প্রামাণ্যচিত্র নীরস প্রবন্ধাকারে নয়, প্রকাশ করেছেন আখ্যানের আদলে। ফলে নিরাশ্রয় মানুষগুলির ভয়, আবার সঙ্গে অজানা ভবিষ্যৎ নিয়ে তাঁদের স্বপ্নও ছুঁয়ে যাবে পাঠককে।
পুরী আর বাংলা সাহিত্য, এই দুই মনে পড়ায় শ্রীচৈতন্যকে নিয়ে লেখা বাঙালির নানা সাহিত্যকর্ম, সত্যজিতের হত্যাপুরী-ও। অপরাজিতা ও ঋক— মা-ছেলে জুটি— সেই ধারায় যোগ করলেন নতুন এই রহস্যোপন্যাস। ধ্রুপদী রহস্যকাহিনির ছকে সেখানে কাহিনির শুরু স্মার্ট ‘প্রোলগ’-এ চৈতন পাগলার মতো চরিত্র সামনে এনে। অতঃপর একে একে হাজির অন্য চরিত্ররা: কর্নেল ধ্রুবনারায়ণ চৌধুরী, পুরীতে শুটিংয়ে আসা দলের সঙ্গী অয়ন, অধ্যাপক চিন্তন ইসলাম, গোয়েন্দা গোপেনবাবু, আরও নানা জন। সমুদ্রতট আর কাছেই রহস্যময় চৌধুরীবাড়ি জোগায় রহস্যগল্পের আদর্শ প্রেক্ষাপট, ঘটে যায় এক আকস্মিক মৃত্যুও। দুর্ঘটনা নাকি হত্যা, বন্ধুতা না শত্রুতা, মুখ না মুখোশ— সব কিছুর উন্মোচন।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে