—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।
অনুষ্টুপ, গ্রীষ্ম সংখ্যা
সম্পা: অনিল আচার্য
৬০০.০০
পশ্চিমে ‘ফান্ডামেন্টালিজ়ম’ মাথাচাড়া দেয় উনিশ শতকের শেষ দশকে, ডারউইনের বিবর্তন তত্ত্বের প্রতিক্রিয়ায়। কিন্তু বাংলায় সাবেক আচার-বিচার, বেশভূষা আঁকড়ে ধরার প্রবণতা শুরু উনিশ শতকের বিশ-ত্রিশের দশকে, ঔপনিবেশিক শাসনের অভিঘাতে। রবীন্দ্রনাথ ‘মৌলবাদ’ শব্দটি কখনও ব্যবহার করেননি, তাঁর জীবদ্দশায় কোনও অভিধানে আজকের অর্থে শব্দটির উল্লেখ নেই। তিনি লিখেছেন ‘ঈশ্বরদ্রোহী পাশবিকতা’ ‘গোঁড়ামি’ ‘ধর্মের বেশে মোহ’ ‘সাম্প্রদায়িক ঈর্ষাদ্বেষ’ প্রভৃতি। বাংলায় মৌলবাদ ও রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে মলয় রক্ষিতের প্রবন্ধটি সময়ের জরুরি পাঠ। স্বাধীনতা-পূর্ব বর্ধমানে খনিশ্রমিকদের লড়াই তুলে ধরেছেন কাকলি মুখোপাধ্যায়, আজকের শ্রম আন্দোলনের নিরিখে প্রাসঙ্গিক। কলকাতার কাবুলিওয়ালাদের জীবনচর্যার ইতিহাস নিয়ে লিখেছেন আনিসুল হক। সাতটি ক্রোড়পত্রের মধ্যে উল্লেখ্য ‘নাগা সমাজ ও নারী’ এবং ‘সুফি সাহিত্য’।
আবহমান, জানুয়ারি ২০২৬
সম্পা: হিন্দোল ভট্টাচার্য
৫০০.০০
যে পত্রিকা তার সম্পাদকীয়তে বাঁধাধরা কাঠামো ভেঙে একখানি কবিতা উপহার দেয়, তার সূচিপত্রও যে চিত্তাকর্ষক হবে, বলার অপেক্ষা রাখে না। পত্রিকার এই বইমেলা সংখ্যাটি তারই উদাহরণ। রয়েছে বেশ কিছু অনুবাদ: আজগার ওয়াজাহাতের ‘শাহ আলম শরণার্থী শিবিরের প্রেতাত্মারা’, অনুবাদ করেছেন অমর মিত্র; কে সচ্চিদানন্দের একগুচ্ছ কবিতার অনুবাদ করেছেন শাশ্বত গঙ্গোপাধ্যায়। এই ভারতীয় কবিকে নিয়ে ছোট একখানি ভূমিকাও লিখেছেন তিনি। রয়েছে প্রবন্ধ নাটক অণুনাটক ছড়া কবিতা দীর্ঘ কবিতাও। গল্প লিখেছেন অভিজিৎ তরফদার অরুণাভ ঘোষ শুভংকর গুহ সন্মাত্রানন্দ তৃষ্ণা বসাক বেবী সাউ প্রমুখ।
অক্ষরেখা, ঋত্বিক ঘটক শতবর্ষ সংখ্যা
সম্পা: নীলকমল সরকার
৮০০.০০
অগ্রন্থিত সাতটি সাক্ষাৎকার এই সংখ্যার আকর্ষণ: সত্যজিৎ রায় ও অভিনয় দর্পণ পত্রিকার প্রধান সম্পাদক ঋত্বিক ঘটকের লিখিত প্রশ্নোত্তর-পর্ব, এ ছাড়াও সাম্প্রতিক কালে পবিত্র সরকার শমীক বন্দ্যোপাধ্যায় সঞ্জয় মুখোপাধ্যায় মৈনাক বিশ্বাস ও হাবিবুর রহমান খান প্রমুখের সাক্ষাৎকার। ঋত্বিক ঘটকের সান্নিধ্য পেয়েছেন এমন বিশিষ্টজনের স্মৃতিকথন; চলচ্চিত্র নিয়েও লিখেছেন অনেকে, রয়েছে নবারুণ ভট্টাচার্যের লেখা। গান নিয়েও আলোচনা: সুধীর চক্রবর্তীর ‘তিতাসের গান’ লেখাটি পড়ে এই বাংলাদেশকে দেখার আকুলতা জাগে। রয়েছে ঋত্বিকের দুর্লভ ছবি, তাঁকে নিয়ে পৃথিবীর নানা প্রান্তে প্রকাশিত বই-পত্রপত্রিকার খোঁজ; শিল্পী-পরিচালকের নিজের লেখা বইপত্রের প্রচ্ছদের ছবি।
প্রান্তদেশ, আত্মপ্রকাশ সংখ্যা
সম্পা: নারায়ণ বিশ্বাস
১৫০.০০
“একটি সংবিধান কার্যক্ষেত্রে কেমন হয়ে দাঁড়াবে, তা সংবিধানের প্রকৃতির ওপরেই শুধু নির্ভর করে না।... দেশের মানুষের এবং রাজনৈতিক দলগুলির কার্যকলাপের প্রতি উদাসীন থেকে সংবিধানের প্রকৃতিবিচার করা নিরর্থক বলেই মনে হয়।”— সংবিধান সভায় বি আর আম্বেডকর প্রদত্ত শেষ ভাষণ এটি। ভাষণের পঁচাত্তর বছর পূর্তি এবং বর্তমান প্রাসঙ্গিকতা মনে রেখে লেখাটির পুনর্মুদ্রণ করা হয়েছে। দেশের শাসক দলের হাতে সংবিধান প্রদত্ত অধিকারগুলি যখন বিপন্নপ্রায়, দেশ যখন জাত-ধর্মের ভিত্তিতে খণ্ডিত হতে বসেছে, তখন এই ভাষণকে ফিরে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে পত্রিকায় স্থান পেয়েছে ‘জরুরি অবস্থা ও আরএসএস’ শীর্ষক রচনা, পহেলগামের ভয়াবহ সন্ত্রাস, দলিত সাহিত্যের উদ্ভব, জলবায়ু পরিবর্তন ও জল ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত ভিন্ন স্বাদের একগুচ্ছ প্রবন্ধ। রয়েছে গল্প নাটক কবিতাও।
বহুরূপী, কুমার রায় জন্মশতবর্ষ
সম্পা: তীর্থঙ্কর চন্দ
৪০০.০০
প্রচ্ছদ পরিকল্পনাই করেননি শুধু, কুমার রায়ের শিল্পসন্ধানী মনটাকেও চেনানোর চেষ্টা করেছেন ইন্দ্রপ্রমিত রায়, “চারপাশেই যে ছবিরা লুকিয়ে আছে তাদের খুঁজে বের করতে হয়,” বাবার কাছেই তা শেখা। ফোটোগ্রাফিতে উৎসাহী কুমারবাবু যেমন নিরীক্ষা করতেন ক্যামেরা নিয়ে, তেমনই ছবি আঁকতেন, আসক্ত ছিলেন ক্যালিগ্রাফি ডিজ়াইনিং-এ, এ-সমস্ত কিছুকেই নাট্যনির্মাণে দৃশ্যকলা সৃষ্টির কাজে লাগাতেন। ‘কুমার রায়ের রবীন্দ্রনাথ’ শিরোনামে দু’টি রচনা, একটিতে তাঁর রবীন্দ্রনাট্যচর্চার আলোচনায় অভ্র ঘোষ, অন্যটিতে অভিনেয় চরিত্র রূপসজ্জা ইত্যাদির ভিতর দিয়ে কুমারবাবু রবীন্দ্রনাটককে মঞ্চযোগ্য করে তোলার পাশাপাশি তাতে কী ভাবে এনে ফেলতেন সমকাল বা ইতিহাসের অভিঘাত, লিখেছেন সৌমিত্র বসু। পবিত্র সরকার ভবেশ দাশ শেখর সমাদ্দার, আরও অনেক গুণিজনের রচনায় ঋদ্ধ সংখ্যাটি।
হরফচর্চা ৯
সম্পা: সুস্নাত চৌধুরী
৬৫.০০
দ্য ড্রাম পত্রিকার ১৯৭৬-এর নববর্ষ সংখ্যায় বরুণ চন্দকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সত্যজিৎ রায় জানান, বাংলা ভাষায় তাঁর কবিতা উপন্যাস ছোটদের গল্পের জন্য আলাদা আলাদা টাইপ তৈরি করার ইচ্ছের কথা। সেই সাক্ষাৎকার, ‘ইন সার্চ অব রে রোমান’-এর বাংলা অনুবাদ এই সংখ্যায়। কলাভবনের ছাত্র থাকাকালীন ক্যালিগ্রাফি চর্চার প্রভাব পরবর্তী কালে ভিজুয়াল ডিজ়াইনার সত্যজিতের টাইপোগ্রাফি নিয়ে পরীক্ষানিরীক্ষায় কতটা ছিল? তাঁর তৈরি বিজ়ার টাইপফেসে ভারতীয় ক্যালিগ্রাফির ছায়া, আবার হলিডে স্ক্রিপ্টের হালকা চাল ড্যাফনিস, রে রোমানের অনুশাসনের থেকে আলাদা। কাপুরুষ ও মহাপুরুষ-এর সময় যে তিনি টাইপ নিয়ে চিন্তাভাবনা করছিলেন তা জানা যায় ছবির খসড়া খাতা থেকে, এ সব নিয়ে পিনাকী দে-র প্রবন্ধ। এ ছাড়াও ষাটের দশকের বামপন্থী রাজনৈতিক হরফশিল্পী এবং দেওয়াল-চিত্রকর সমরেন্দ্রনাথ দাসকে নিয়ে নিবন্ধ।
সূত্রপাত, বইমেলা সংখ্যা
সম্পা: অরূপ গঙ্গোপাধ্যায়
৩০০.০০
লিটল ম্যাগাজ়িন কখনওই সমসাময়িক ঘটনা থেকে মুখ ফিরিয়ে থাকতে পারে না। তারই প্রতিফলন এই সংখ্যায়, কবি প্রসূন ভৌমিক লিখেছেন: ‘বাবুর ভাষায় লেবার, পরিযায়ী/ পুলিশ পেটায় বাংলাদেশি বলে/ বাবুরা সব দেখেও না-দেখার/ ভান করে যায় নানা ছলেবলে’। বিভিন্ন বিষয়ের উপর আলোকপাত: ২০২৫-এ সাহিত্যে নোবেলজয়ী হাঙ্গেরীয় লেখক লাসলো ক্রাসনাহোরকাই-এর লেখার সঙ্গে নির্মিত চলচ্চিত্রের মেলবন্ধনের প্রয়াস— তাঁর ভাষা ও উপন্যাসের কাঠামো নিয়ে গভীর আলোচনা। পণ্ডিত অজয় চক্রবর্তীর অন্তরঙ্গ সাক্ষাৎকার; সন্মাত্রানন্দ ও হিন্দোল ভট্টাচার্যের আলোচনায় পাঠচর্চা, মননের ইতিবৃত্ত, লিখনশৈলীর মতো নানা জরুরি বিষয়। রয়েছে নিয়মিত বিভাগ: ছোটগল্প, গুচ্ছ কবিতা, অনুবাদ, নিবন্ধ, ব্যক্তিগত গদ্য।
চান্দ্রমাস, বইমেলা ২০২৬
সম্পা: গৌরশংকর বন্দ্যোপাধ্যায়
২৫০.০০
কলকাতায় এসে কলেজ স্ট্রিটের রাস্তায় হাঁটতে-হাঁটতে শামসুর রাহমান মৃদুল দাশগুপ্তকে বলেছিলেন: “আমরাই পৃথিবীর প্রকৃত সংখ্যালঘু, আমরা কবিতার মর্ম বুঝি।” মৃদুলের গদ্যটির শিরোনাম ‘শুরু’, পত্রিকার ক্রোড়পত্র ‘আমাদের সত্তর’-এর লক্ষণীয় রচনা। কমল চক্রবর্তী লিখেছেন, “একটা মায়াভুবন, সৃষ্টির কারিগর, মূলত কবিরা।” অমিতাভ গুপ্তের মতে, “এই দশকেই আমরা কবিতা লিখে সাংস্কৃতিক সাম্রাজ্যবাদ অগ্রাহ্য করেছি।” সে-দশকে কবিতা তার স্বর বদলে হয়ে উঠেছিল স্বপ্নচারী, সৃষ্টিশীল সেই কবিদের বহুবিধ ভাবনা আজ এতদিন পরে প্রকাশ পেল তাঁদের গদ্যাদিতে, স্মৃতি-বিস্মৃতির চলন নিয়েই। রাজনৈতিক বাতাবরণ, বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপ বা বোহেমিয়ানিজ়ম সত্ত্বেও ‘এক নতুন কবিভাষা’ উন্মেষের কথা বলেছেন সম্পাদক।
যাপনচিত্র, আন্তর্জাতিক কবিতা
সম্পা: প্রবাল কুমার বসু
৬০০.০০
ধর্মান্ধ, যুদ্ধবাজ সমাজে যখন ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য ও প্রান্তিক স্বর আক্রান্ত, আশঙ্কা ও বিচ্ছিন্নতা জন্ম দিচ্ছে খণ্ডিত পরিচয়ের, তখন কবিতা হয়তো শুধু আয়না নয়, হয়ে উঠতে পারে প্রতিবাদের স্বর, বেড়ে চলা দগদগে ঘায়ের পথ্যও। এই বিশেষ সংখ্যায় বাংলার পাশাপাশি সাঁওতালি, কন্নড়, তেলুগু, হিন্দি ও অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষার কবিতা, সঙ্গে ইরাক, আফগানিস্তান, মিশর, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশের এই সময়ের কবিতাগুচ্ছ, সঙ্গে প্রবন্ধ, সাক্ষাৎকার, সবই ইংরেজি অনুবাদে। আফগানিস্তানের করিমা শবরং যখন তাঁর দেখা কাবুলের বাস্তবতা বোঝাতে গিয়ে গলায় আটকে থাকা এক দলা যন্ত্রণার সঙ্গে তুলনা করেন, তখন সে দেশের গণ্ডি পেরিয়ে কোথাও হয়তো সেই আর্তনাদ একই বিন্দুতে এনে দেয় আজকের অসহায় পৃথিবীকে।
জ্যা, কবিতা সিংহ স্মরণ সংখ্যা
অতিথি সম্পা: সমরেন্দ্র দাস
৫০০.০০
৪২৪ পৃষ্ঠার পত্রিকার ৩১৩ পৃষ্ঠা জুড়ে তাঁরই ‘অগ্রন্থিত’ রচনা: একটি উপন্যাস, দু’টি কিশোর উপন্যাস, বারোটি ছোটগল্প, এ ছাড়াও গদ্য, নাটক, ভ্রমণকাহিনি, এমনকি রিপোর্টাজও। গঙ্গাজলে গঙ্গাপুজোর মতোই, কবিতা সিংহের লেখা দু’মলাটে গেঁথেই তাঁকে স্মরণ করেছে এই সংখ্যাটি: লেখাগুলি পুরনো পত্রপত্রিকার পাতা থেকে উদ্ধার করা হয়েছে অসম্ভব আয়াসে। কবিতা সিংহের জীবনপঞ্জি, কালানুক্রমিক গ্রন্থপঞ্জি, বেশ কিছু মুদ্রিত আলোকচিত্রের পাশাপাশি শুরুতেই ছ’টি নিবন্ধে তাঁর কবিতা, গদ্য ও উপন্যাস ইত্যাদির মূল্যায়ন একালের কলমে, এবং ওঁর কাছের মানুষের আন্তরিক স্মৃতিচারণাধর্মী ব্যক্তিগত গদ্যও বেশ কিছু। পূর্ণাঙ্গপ্রতিম এই কাজটি কবিতা সিংহের জীবন, ভাবনা ও কলমকেও বুঝতে খুবই কাজে দেবে।
অন্যলেখ, দেবারতি মিত্র নবনীতা দেব সেন অলোকরঞ্জন দাশগুপ্ত
সম্পা: দেবাশিস রায়
২৫০.০০
এই বিশেষ সংখ্যায় এখনকার চিন্তক প্রাবন্ধিক ও কবিদের কলমে দেবারতি মিত্র নবনীতা দেব সেন ও অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের সাহিত্যের উপর আলোকপাত, শ্রদ্ধার্ঘ্যও। নিজের সময়ের কবিতার ধারা, রাজনৈতিক প্রভাবের বাইরে গিয়ে দেবারতি স্বাক্ষর রেখেছিলেন অন্য সুরের, তাঁর কবিতা যেন নীরবে নিজের সঙ্গে কথা বলা— কবির জীবন ও সাহিত্যের জানা-অজানা আঙ্গিক, তাঁর নিজের লেখায় ফিরে দেখা ভাস্কর চক্রবর্তীর কবিতা। ‘মহিলা কবি’র খাঁচা থেকে ঔপন্যাসিক হয়ে ওঠার যাত্রাপথে কবিতা নিয়ে নবনীতা দেবসেনের উপলব্ধি, ভাবনা; তাঁর কবিতা, গল্প, রম্যরচনা নিয়ে অন্যদের লেখা, আমি অনুপম ও বামাবোধিনী উপন্যাসের কাটাছেঁড়া। অলোকরঞ্জন দাশগুপ্তের সেরা ছড়া, কবিতায় উপমার প্রয়োগ, অনুবাদ, কবির সাক্ষাৎকার ও একগুচ্ছ নিবন্ধ। তিনটি ক্রোড়পত্রেই গ্রন্থপঞ্জি ছাড়াও নিয়মিত বিভাগে রয়েছে বক্তৃতামালা নিয়ে লেখা, গ্রন্থ-আলোচনাও।
জিজ্ঞাসা, সার্ধশতজন্মবর্ষে শরৎচন্দ্র
সম্পা: সন্দীপ পাল
২৫০.০০
দিশাহারা, দিশান্বেষণ ও দিশান্ত, তিনটি শব্দে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সাহিত্যজীবনের তিনটি পর্বকে বিশেষায়িত করেছেন সম্পাদক— নজর কাড়ে। ভোগবাদী বিশ্বায়ন-উত্তর জীবনে, যেখানে নৈতিকতা সহনশীলতা ও মূল্যবোধের অভাব ঘটছে, ধর্মভিত্তিক বিন্যাস ক্রমাগত জন্ম দিচ্ছে বিভেদের, সেই পটভূমিতে দেড়শো বছরে শরৎ-সাহিত্যের মূল্যায়ন উদ্দেশ্য সংখ্যাটির। কয়েকটি জরুরি পুনর্মুদ্রণ স্থান পেয়েছে, শরৎচন্দ্রের নিজের তিনটি প্রবন্ধ ছাড়াও রবীন্দ্রনাথ সুভাষচন্দ্র দীনেশ সেন হয়ে রমেশচন্দ্র মজুমদার বিনয় সরকার শঙ্খ ঘোষ আবুল ফজলের লেখাও। যথার্থ সঙ্গত করেছে এই সময়ও: শ্রীকান্ত পথের দাবী দেবদাস প্রসঙ্গে নিবন্ধ, তাঁর গদ্যে উপন্যাসে নানা বিষয় ও অভিমুখের এষণা করেছেন প্রাবন্ধিকরা। বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে ‘সাময়িকপত্রে শরৎ-চর্চা’।
বাংলার আভাষ, সুকান্ত সংখ্যা
সম্পা: আশিস পান্ডে
২৫০.০০
ক্লাসে প্রবন্ধ লিখেছে ছাত্রেরা, পিছনের বেঞ্চির, রোগা শ্যামল চেহারার ছেলেটির লেখা দেখে চমকিত শিক্ষক: কী সুন্দর তার ভাব, ভাষা; হাতের লেখাটিও চমৎকার! শিক্ষকদের ঘরে এসে সানন্দে ঘোষণা করলেন সেই মাস্টারমশাই, “আমি একটি ছেলে আবিষ্কার করেছি! বিশ্ববিখ্যাত লেখক হবে সে!” সেই কিশোর কবি, সুকান্ত ভট্টাচার্য সম্পর্কে তাঁর শিক্ষক নবদ্বীপচন্দ্র দেবনাথের মধুর স্মৃতিকথা ‘আমার ছাত্র সুকান্ত’ নামে ফিরে পড়া যাবে এ-সংখ্যায়; সুকান্তের বন্ধু শৈলেন সরকার, অগ্রজ মনোমোহন ভট্টাচার্য, বৌদি সরযূ দেবীর স্মৃতিলেখও। সুকান্ত-সুহৃদ কবি অরুণাচল বসুর সৃষ্টিবিশ্ব নিয়ে লিখেছেন সুমিতা চক্রবর্তী; একগুচ্ছ গদ্যে-নিবন্ধে ধরার চেষ্টা হয়েছে সুকান্তের জীবন ও ভাবনার নানান দিক। লেখাগুলির বিন্যাস খুব গোছানো নয়— সম্পাদকের শ্রম ও মনোযোগ দাবি করে আরও।
এবং মুশায়েরা, জিল দ্যলোজ সংখ্যা
সম্পা: সুবল সামন্ত
৬০০.০০
শুধু দার্শনিক বললেই সব বলা হয় না জিল দ্যলোজ সম্পর্কে। বিরুদ্ধ-যুক্তবাদী দর্শনের সীমানা পেরিয়ে, সাহিত্য বিজ্ঞান সিনেমার পরিসরেও প্রবিষ্ট হয়েছে এই উত্তর-আধুনিক চিন্তকের ভাবনা; মিশেল ফুকো থেকে জঁ-লুক গদার, সকলেই তাঁর মননমুগ্ধ। কান্ট হেগেল মার্ক্সই হোক বা সাইকোঅ্যানালিসিস তত্ত্ব, দ্যলোজে আছে এই সব কিছুরই যৌক্তিক সমালোচনা। তাঁর জন্মশতবর্ষ (জন্ম ১৯২৫) স্মরণে এই সংখ্যাটি দ্যলোজ-উৎসাহীদের আগ্রহ বাড়াবে, বাংলায় তাঁকে পরিচিত করাতে দ্যলোজের নির্বাচিত লেখালিখি: চিঠি সাক্ষাৎকার কবিতাও, বাংলা অনুবাদে পড়তে পারবেন পাঠকেরা। দ্যলোজের ভাবনা ও কাজের বিস্তৃত পরিসর ছুঁয়েছে কিছু নিবন্ধও। রয়েছে ওঁর ড্রয়িং, গ্রন্থপঞ্জি।
অর্থনীতি সম্প্রতি
সম্পা: অনিন্দ্য ভুক্ত
৩০০.০০
সরকারি হিসাবে কর্মসংস্থান বেড়েছে, কিন্তু গবেষণা দেখাচ্ছে যে, নতুন তৈরি হওয়া কাজের বড় অংশ পারিবারিক ক্ষেত্রে অবৈতনিক কাজ। সরকারি বয়ান ও বাস্তবের এই অসঙ্গতি নিয়ে লিখেছেন মৈত্রীশ ঘটক। সৌমেন্দ্র সিকদারের লেখায় আলোচিত হয়েছে উন্নয়নতত্ত্বে পুঁজি ও বিনিয়োগের ধারণার বিবর্তন। পুনর্জিৎ রায়চৌধুরী বাংলা সাহিত্যের ভান্ডার খুঁজে নির্মাণ করেছেন ক্ষুধা ও দুর্ভিক্ষের অর্থনৈতিক আখ্যান। শোভিক মুখোপাধ্যায় আলোচনা করেছেন গিগ অর্থনীতি নিয়ে; ভারতে বিদেশি পর্যটনের হালহকিকত সন্ধান করেছেন সুদক্ষিণা গুপ্ত। কৌস্তুভ দালালের বিবাহের অর্থনীতি সংক্রান্ত লেখাটি বিশেষ উল্লেখ দাবি করে। বাংলা ভাষায় অর্থনীতি চর্চার এই নতুন পরিসরে বিষয়বৈচিত্র বজায় রাখতে সম্পাদক অনিন্দ্য ভুক্ত সফল।
প্রতিদিন ২০০’রও বেশি এমন প্রিমিয়াম খবর
সঙ্গে আনন্দবাজার পত্রিকার ই -পেপার পড়ার সুযোগ
সময়মতো পড়ুন, ‘সেভ আর্টিকল-এ ক্লিক করে