সময় বাঁচাতে নেতাদের ভরসা দিল্লি মেট্রো
দিল্লি মেট্রো পেল নতুন এক ভিভিআইপি যাত্রী। নাম চন্দ্রবাবু নায়ডু। বিরোধী জোটের সূত্রধর হিসেবে তিনি নিজের রাজ্য অন্ধ্রপ্রদেশ থেকে দিল্লিতে আসছেন প্রায়ই। বিমানবন্দর থেকে অন্ধ্র ভবন, রাস্তা নেহাত কম নয়। দিল্লির যানজট কাটিয়ে যাতে যথাসময়ে গন্তব্যে পৌঁছতে পারেন, তাই দিল্লি মেট্রোর এয়ারপোর্ট এক্সপ্রেস লাইন ব্যবহার করা শুরু করেছেন তিনি। এনএসজি-র নিরাপত্তা পান চন্দ্রবাবু। তাই তাঁর দায়িত্বে থাকা কম্যান্ডোদের কাজও বেড়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অনেক বারই দিল্লি মেট্রোতে সওয়ার হয়েছেন। রাহুল গাঁধী থেকে শুরু করে অন্য রাজনৈতিক নেতারাও ব্যবহার করেছেন দিল্লি মেট্রো। তৃণমূলের ডেরেক ও’ব্রায়েন, সিপিএম-এর মহম্মদ সেলিমের মতো অনেক সাংসদও ইদানীং বিমানবন্দর যেতে হলে মেট্রোই ব্যবহার করেন!
আরোহী: চন্দ্রবাবু নায়ডু। (ইনসেটে) ডান দিকে, দিল্লি মেট্রো
মরাঠি পকোড়া
দিদি আসবেন অথচ চা তেলেভাজা সহযোগে আড্ডা হবে না, এমন কি হয়! হলও না। সম্প্রতি দিল্লির প্রেস ক্লাবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসা উপলক্ষে তৈরি হয়েছিল বিশেষ ‘মরাঠি পকোড়া’। দেখতে অনেকটা বাঙালি ফুলুরির মতো। বাংলার মুখ্যমন্ত্রী চা খেলেন আড্ডা দিতে দিতে, আর পকোড়া প্যাক করে দিতে বললেন। সাংবাদিকদের অনুরোধে লাইফ মেম্বারও হয়ে গেলেন দিল্লি প্রেস ক্লাবের। আর একটি অনুরোধে সাড়া দিয়ে জানালেন, তাঁর একটি বইয়ের হিন্দি অনুবাদ প্রকাশ করা হবে দিল্লি প্রেস ক্লাব থেকেই। একুশে ফেব্রুয়ারি বইটি প্রকাশিত হওয়ার কথা ছিল কলকাতায়। পাশে বসা ইন্দ্রনীল সেনকে দিয়ে কলকাতার ওই অনুষ্ঠান বন্ধ করালেন দিদি।
একলা চলো
যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে, তবে একলা চলো রে... সরোদে সুর তুলছেন এক বাঙালি। তাঁর সঙ্গে তবলায় সঙ্গত করছেন আর এক বাঙালি সন্তান। সৌদি আরবের যুবরাজ মহম্মদ বিন সলমনের সম্মানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মধ্যাহ্নভোজনে দুই বাঙালি শোনালেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের সুর। সরোদে উস্তাদ আশিস খানের ছাত্র দেবাঞ্জন ভট্টাচার্য এবং তবলায় রোহেন বসু, পণ্ডিত দেবজ্যোতি বসুর পুত্র। ‘বৈষ্ণব জন তো’ দিয়ে শুরু করে ‘চুপকে চুপকে রাত দিন’ হয়ে দু’জনে শেষ করলেন ‘লাগ জা গলে’-তে। এরই মাঝখানে বাজল রবীন্দ্র-সুর।
ত্রিমূর্তি
‘তিন ইয়ারি কথা’ বললে ভুল হবে না কোনও। একই সঙ্গে চাকরিতে ঢুকেছিলেন তিন বন্ধু। আমলার চাকরির প্রশিক্ষণও শুরু করেছিলেন একসঙ্গে। দু’জন ছিলেন আইএএস। তৃতীয় জন ঢোকেন আইআরএস বা ইন্ডিয়ান রেভেনিউ সার্ভিসের চাকরিতে। প্রায় চার দশক পরে ফের তিন বন্ধু এক হয়েছেন। এ বার তাঁরা নির্বাচন কমিশনে। নতুন নির্বাচন কমিশনার হিসেবে যোগ দিয়েছেন সুশীল চন্দ্র। আয়কর পর্ষদের প্রাক্তন চেয়ারম্যান ১৯৮০-র ব্যাচের আইআরএস। মুখ্য নির্বাচন কমিশনার সুনীল অরোরা ও অন্য নির্বাচন কমিশনার অশোক লাভাসাও একই ব্যাচের আইএএস। তিন বন্ধুর কাঁধেই এ বার ২০১৯-এর লোকসভা ভোটের ভার।
আমন্ত্রিত
সর্দার বল্লভভাই পটেলকে নিয়ে বিজেপির মাতামাতি নতুন নয়। এ বার সর্দার পটেলের পরিবারের এগারো জন সদস্য রাষ্ট্রপতি ভবনে এক দিনের জন্য ঘুরে গেলেন। গত বছর রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ গুজরাতে ‘স্ট্যাচু অব ইউনিটি’ দেখতে গিয়েছিলেন। সে সময়েই তাঁর সঙ্গে পটেলের উত্তরসূরিদের আলাপ হয়। রাষ্ট্রপতি ভবনে তাঁদের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন তিনি। পটেলের পরিবারের লোকেরা মুঘল গার্ডেন, সংগ্রহশালা দেখলেন, রাষ্ট্রপতির সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজনও করলেন।
পূর্বসূরি: সর্দার পটেলের মূর্তি
সেলফি
২৪ আকবর রোড, কংগ্রেসের সদর দফতরের লনে দুটো বড় হোর্ডিংয়ে ইন্দিরা ও রাজীব গাঁধীর ছবি। দিল্লির বাইরের কংগ্রেস কর্মীরা এলে তার সামনে সেলফি তুলতেন। রাহুল গাঁধী কংগ্রেস সভাপতি হওয়ার পর চল হল তাঁর ঘরের দরজার সামনে, পিছনে রাহুলের নেমপ্লেট রেখে সেলফির। এখন নতুন ‘সেলফি পয়েন্ট’ প্রিয়ঙ্কা গাঁধী বঢরা এবং জ্যোতিরাদিত্য সিন্ধিয়ার জন্য বরাদ্দ ঘরটি। দরজার এক দিকে প্রিয়ঙ্কা, অন্য দিকে জ্যোতিরাদিত্যের নাম। প্রিয়ঙ্কার সঙ্গে সেলফি তোলার ভাগ্য সকলের হচ্ছে না। অগত্যা নেমপ্লেটের সঙ্গেই সেলফি তুলে ঘরে ফেরা।
প্রেমাংশু চৌধুরী, অগ্নি রায়