সম্পাদক সমীপেষু

তাঁর মা-বাবার পাঁচটি সন্তানের মধ্যে মারি সব থেকে ছোট ছিলেন। তাঁর তিন দিদি ও এক দাদা ছিলেন। ১৮৯১ সালে প্যারিস যাওয়ার পর মেজদির বাড়ি সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেশ দূরে হওয়ায় এবং যাতায়াত খরচসাপেক্ষ হওয়ায় মারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গরিবদের বসবাসের জায়গা ল্যাটিন কোয়ার্টার্সের ছ’তলার একটি ছোট ঘরে থাকতে শুরু করেন।

Advertisement
শেষ আপডেট: ১২ ডিসেম্বর ২০১৬ ০০:২৭
Share:

মাদাম কুরি বিষয়ে কিছু তথ্য

Advertisement

বিজ্ঞানী মাদাম কুরিকে নিয়ে পথিক গুহ-র ‘তেজস্বিনী’ প্রবন্ধে (রবিবাসরীয় ২০-১১) কিছু বিভ্রান্তিকর তথ্য-সমাবেশ ঘটেছে, আর কিছু বিশেষ তথ্য বাদ গেছে।

১) তাঁর মা-বাবার পাঁচটি সন্তানের মধ্যে মারি সব থেকে ছোট ছিলেন। তাঁর তিন দিদি ও এক দাদা ছিলেন। ১৮৯১ সালে প্যারিস যাওয়ার পর মেজদির বাড়ি সরবোন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বেশ দূরে হওয়ায় এবং যাতায়াত খরচসাপেক্ষ হওয়ায় মারি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে গরিবদের বসবাসের জায়গা ল্যাটিন কোয়ার্টার্সের ছ’তলার একটি ছোট ঘরে থাকতে শুরু করেন।

Advertisement

২) মারি কুরি ১৮৯৩ সালে ফিজিক্সে প্রথম আর পরের বছর গণিতে দ্বিতীয় (প্রথম নয়) হন।

৩) পিয়ের কুরি-র সঙ্গে কাজ করে পিচব্লেন্ডে নতুন তেজস্ক্রিয় মৌলের উপস্থিতি ঘোষণা করেন ১৮৯৮-এর এপ্রিলে। পরে পিচব্লেন্ড থেকে রেডিয়াম পেতে সমর্থ হন ১৯০২ সালের প্রথমে।

Advertisement

যে বিষয় লেখায় উল্লেখ করা হয়নি, তা হল, রেডিয়াম পাওয়ার পরে দেখা গেল, কোনও কোনও ক্যানসারের চিকিৎসায় তা ফলপ্রদ। লোভনীয় প্রস্তাব সত্ত্বেও মারি ও পিয়ের মানবিকতার স্বার্থে নিষ্কাশন পদ্ধতির পেটেন্ট নেননি। পেটেন্ট নিলে তাঁরা বিশাল অর্থের মালিক হতেন। এক সময় গবেষণার জন্য মারির কাছে রেডিয়াম প্রায় ছিলই না। আমেরিকার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট ওয়ারেন হার্ডিং সর্বসাধারণের সংগৃহীত টাকায় বিশেষ আধারে সংরক্ষিত অত্যন্ত দামি এক গ্রাম রেডিয়াম মারিকে তাঁর আমেরিকা ভ্রমণের সময় (২০-৫-১৯২১) উপহার দেন।

উৎপল সান্যাল। কলকাতা-৩০

পথিক গুহ-র সংযোজন: ত্রুটি সংশোধনের জন্য পত্রলেখক ধন্যবাদার্হ। তবে, তাঁর সব দাবি ঠিক নয়। যেমন, সরবোন থেকে দূরে বলেই মারি কুরি দিদি-জামাইবাবুর বাড়ি ছেড়ে কষ্ট করে আলাদা ডেরায় থাকেননি। ওঁদের আশ্রয়ে থাকার প্রধান অন্তরায় হয়ে উঠেছিল ওঁদের বাড়িতে হইহট্টগোলের পরিবেশ, যা আমি উল্লেখ করেছি। দাদাকে লেখা মারির চিঠি কিংবা শ্বশুরকে লেখা জামাইবাবুর চিঠি তার প্রমাণ। (মারি কুরি: আ লাইফ, সুজান কুইন, পৃ: ৮৭-৮৮)। পিচব্লেন্ডে পোলোনিয়াম এবং রেডিয়ামের উপস্থিতি ধরে ফেলতে কুরি দম্পতির চার বছর সময় লাগেনি, লেগেছিল কয়েক মাস-ই। ১৮৯৮ সালের জুলাই থেকে ডিসেম্বর। (দ্রষ্টব্য: মারি অ্যান্ড পিয়ের কুরি অ্যান্ড দি ডিসকভারি অব পোলোনিয়াম অ্যান্ড রেডিয়াম, ন্যানি ফোরম্যান, নোবেল প্রাইজ সাইট; অবসেসিভ জিনিয়াস: দি ইনার ওয়ার্ল্ড অব মারি কুরি, বারবারা গোল্ডস্মিথ, পৃ: ৮৭-৮৮)।

ব্যক্তিস্বার্থে পেটেন্ট না নেওয়ার মতো মারির জীবনের আরও কিছু দিক আমি স্থানাভাবে উল্লেখ করতে পারিনি। যেমন, ১৯১১ সালে তাঁর বাসনা সত্ত্বেও ফরাসি বিজ্ঞান আকাদেমির সদস্যা তিনি হতে পারেননি স্রেফ রাজনীতির কারণে। আর আমেরিকা ভ্রমণকালে এক গ্রাম রেডিয়াম উপহার? সে ব্যাপারে নেপথ্য নায়িকা আমেরিকায় মহিলা ম্যাগাজিন ‘দি ডেলিনিয়েটর’-এর সম্পাদিকা মেরি মেলোনি (দ্রষ্টব্য: গ্রেট ফিজিসিস্টস: দি লাইফ অ্যান্ড টাইমস অব লিভিং ফিজিসিস্টস ফ্রম গ্যালিলেও টু হকিং, উইলিয়াম এইচ ক্রপার, পৃ: ৩০৭; ‘কিওরিং দি কুরি কমপ্লেক্স’, টুসনা কমিসারিয়াট, ফিজিক্স ওয়ার্ল্ড, অগস্ট ২০১৫, পৃ: ২৫-২৮)। মারিকে সহায়সম্বলহীন মহান গবেষিকা হিসেবে আমেরিকায় প্রচার করে তিনিই অর্থ সংগ্রহ অভিযানে নামেন।

হাওড়া স্টেশনে

ভোর থেকেই হাওড়া স্টেশন যাত্রীতে গিজগিজ করে। অফিস টাইমে রথের ভিড়। হাঁটার রাস্তা থাকে না। এর মধ্যে দূরের যাত্রীরা লোটাকম্বল নিয়ে শুয়ে পড়েন ও বিশ্রাম নেন বেরোবার পুরো চত্বর জুড়ে। পুরনো কমপ্লেক্সের বিশ্রামাগার উপরে। বাতের ব্যথা আর লাগেজের ভারে অনেকে উঠতে চান না। তা ছাড়া সবার স্থানও হয় না সেখানে। গ্রাউন্ড ফ্লোরে বিকল্প একটি বিশ্রামাগার হলে স্টেশন চত্বরে চলাফেরা নির্বিঘ্নে সম্ভব হত।

সুদর্শন নন্দী। রাঙামাটি, মেদিনীপুর

ডাকিছে উদার বায়ু

হাওড়া-দিঘা দুরন্তে এই হেমন্তে আমরা ক’জন বৃদ্ধা বেড়াতে বেরিয়েছিলাম। বাতানুকূল (প্রবল ঠান্ডায় প্রতিকূল) কামরার অস্বচ্ছ কাচে চোখ রেখে যাত্রাপথ কেটে গেল নীল আকাশ, সাদা মেঘ, বকের সারি, ভরা নদী, পথের দুপাশে কচি ধানের সবুজ খেতে মেতে বেড়ানো বাতাস— এ সমস্ত দেখা ও অনুভব করার ব্যর্থ চেষ্টায়। কামরায় বুড়িরা চাদর মুড়ে ও ছোটরা সোয়েটার পরে খাওয়া, মোবাইল গেম ও ল্যাপটপে ব্যস্ত ছিল। দুপুরের প্রবল রোদে তপ্ত দিঘায় নামার পর বদ্ধ কামরার প্রবল শীত থেকে নিস্তার মিলল।

ট্রেনে, গাড়িতে, সভাঘরে, হলে, স্কুল কলেজ মলে শীতকালেও অকারণ এসি চালিয়ে গর্ববোধ করি। উন্নত ধনী দেশে অচিরাচরিত শক্তির প্রাচুর্য থাকা সত্ত্বেও এ রকম অনিয়ন্ত্রিত এসি-র অপব্যয় দেখা যায় না। এই কার্তিক অঘ্রান পৌষে হেমন্ত শীতে সূর্যের দক্ষিণায়নে একটু রোদ্দুর খোলামেলা আলো হাওয়া প্রকৃতির ছোঁয়া কি পেতে পারি না? নতুন প্রজন্ম কী শিখছে?

অর্চনা বন্দ্যোপাধ্যায়। শান্তিনিকেতন

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement