সম্পাদক সমীপেষু

এ বছর মোট চার হাজার দুশো টাকা নগদ নিয়ে কেজি ক্লাসের বাচ্চাদের তাঁরা মোট তেইশখানি বই (গড়ে বইগুলির দাম দেড়শো, দুশো টাকা) ও স্কুলের নাম ছাপা সতেরোটি খাতা দিয়েছেন।

Advertisement
শেষ আপডেট: ০৭ অক্টোবর ২০১৭ ০০:০০
Share:

বয়স পাঁচ, ওজন পাঁচ

Advertisement

দুর্গাপুরের (শিল্পনগরী) একটি নামী পুরনো ইংলিশ মিডিয়াম স্কুলের বইয়ের বহর সম্পর্কে কিছু তথ্য। এ বছর মোট চার হাজার দুশো টাকা নগদ নিয়ে কেজি ক্লাসের বাচ্চাদের তাঁরা মোট তেইশখানি বই (গড়ে বইগুলির দাম দেড়শো, দুশো টাকা) ও স্কুলের নাম ছাপা সতেরোটি খাতা দিয়েছেন। বেশির ভাগ বই-ই ক্লাসে পড়ানো হয় না। যে দু’একখানি বই শ্রেণিশিক্ষিকার কাছে রাখা হয়, তাও মাঝে মাঝে হারায়। অভিভাবককে আবার কিনে দিতে হয়। সোম, বুধ, শুক্রবার বইয়ের ব্যাগের ওজন থাকে প্রায় চার-পাঁচ কিলো। অন্য দিন একটু কম। তথ্যটি যে সত্য, তা কেজি ক্লাসের যে কোনও অভিভাবকের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই জানা যাবে। পাঁচ-সাড়ে পাঁচ বছরের শিশুদের অনেকেরই ঘাড় ব্যথা, অসুস্থতা চলছে। কেউ দেখার নেই। অভিভাবকরা ভয়ে কিছু বলতে পারেন না, পাছে তাঁরা স্কুলের কু-নজরে পড়েন।

তরুণকান্তি গৌতম স্টিল পার্ক, দুর্গাপুর

Advertisement

ডিজে জ্বালাতন

ডিজে-র উপদ্রবে অতিষ্ঠ সাধারণ মানুষ— স্বাধীনতা দিবস, নববর্ষ উদ‌্‌যাপন থেকে পুজো-পার্বণ, ইদ, মহরম, যে কোনও আচার-অনুষ্ঠানে ডিজে বাজানো এখন রীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। সারা ক্ষণ কানফাটানো আওয়াজ আর সঙ্গে উদ্দাম নৃত্য এখন নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। এত জোরে গান-বাজনার ফলে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে বয়স্ক, রোগী এবং শিশুরা খুবই সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। হার্টের রোগীদের ক্ষেত্রে তো সমস্যা আরও প্রকট। এ রকম আওয়াজ তাঁদের মৃত্যু পর্যন্ত ডেকে আনতে পারে।

Advertisement

গান শুনতে কম-বেশি সকলেই ভালবাসেন। কিন্তু সেই গানের সঙ্গে ডিজে জুড়ে শ্রুতিমধুর গানের যে বারোটা বাজানো হচ্ছে, তা যত কম বলা যায় ততই ভাল। এর প্রভাব যাতে কমানো যায় আর সাধারণ মানুষকে সুস্থ পরিবেশ ফিরিয়ে দেওয়া যায়, সে জন্য প্রশাসন থেকে শুরু করে সবাইকেই একযোগে এগিয়ে আসতে হবে।

মুন্সী মণিরুল হাসান রায়না, পূর্ব বর্ধমান

‘স্বাস্থ্যসাথী’ কেন

রাজ্যের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পটি মূলত বিভিন্ন সরকারি দফতরের অসংগঠিত শ্রমিক-কর্মচারীদের জন্য প্রবর্তন করা হয়েছিল। অর্থাৎ— ১) যাঁদের বেতন ক্রমের পরিবর্তে মাসিক ভাতা বা সাম্মানিক ভাতা প্রদান করা হয়ে থাকে; ২) যাঁদের পদটি অস্থায়ী বা চুক্তিভিত্তিক; ৩) যাঁদের মাসিক ভাতা বা সাম্মানিকের সঙ্গে কোনও প্রকার চিকিৎসা ভাতা দেওয়া হয় না। অপর দিকে, স্থায়ীপদে কর্মরত বা অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মচারীদের জন্য চালু আছে ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’। গত ৭ জানুয়ারি নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামের শিক্ষা সম্মেলনে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী এই স্বাস্থ্য প্রকল্পে কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদেরও অন্তর্ভুক্ত করার কথা ঘোষণা করলেন। আদেশনামা No. 848-Edn(CS)/1M-01/2017 Date: 08/01/2017 অনুযায়ী কলেজ শিক্ষকগণ এই প্রকল্পে যুক্ত হলেন।

আর, গত ৫ সেপ্টেম্বর নজরুল মঞ্চে শিক্ষক দিবসের অনুষ্ঠানে মাননীয় মুখ্যমন্ত্রী রাজ্যের স্থায়ীপদে কর্মরত স্কুল শিক্ষকদের ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পে যুক্ত করার কথা বললেন। অথচ, নীতিগত ভাবে স্থায়ীপদে কর্মরত স্কুল শিক্ষকদের ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’-এর আওতায় আনা উচিত ছিল। যে সুবিধা এখন সরকারি কর্মচারী ও কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকরা পাচ্ছেন।

দফতরওয়ারি ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পের উপভোক্তা তালিকাটি পর্যবেক্ষণ করলে দেখা যাচ্ছে, শুধুমাত্র স্কুল শিক্ষকগণই (প্রাথমিক ও মাধ্যমিক) একমাত্র ব্যতিক্রম, যাঁরা স্থায়ীপদে নির্দিষ্ট বেতনক্রমে কর্মরত হলেও তাঁদের অসংগঠিত ক্ষেত্রের জন্য নির্ধারিত ‘স্বাস্থ্যসাথী’ প্রকল্পে যুক্ত করা হয়েছে। Memo No.5594-F(P) Dated.06/09/2017

রাজ্যের স্থায়ীপদে কর্মরত স্কুল শিক্ষকদের, কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের ন্যায় ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল হেলথ স্কিম’-এর আওতায় আনা যায় কি না, সুবিবেচনার জন্য মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

সাবির চাঁদ শিক্ষক, রামপাড়া মাঙ্গনপাড়া হাইস্কুল(উ.মা), রেজিনগর, মুর্শিদাবাদ

ঠিকই তো করছে

জহর সরকারের লেখা পড়ে মনে হচ্ছে মায়ানমারের রোহিঙ্গাদের নিয়ে ভারত সরকারের বর্তমান অবস্থান ভারতবর্ষকে বিশ্বের দরবারে শুধু হেয় করেনি, ভারত যেন অগাধ জলে পড়ে গিয়েছে (‘ভারত অন্তত যা করতে পারত’, ২৭-৯)। এর থেকে মুক্ত হতে সমস্ত রোহিঙ্গা অনুপ্রবেশকারীদের ভারতের নাগরিকত্ব দিয়ে ভারতের মুখ উজ্জ্বল করা উচিত— এমন ইঙ্গিতই যেন লেখাটির শেষ অংশ থেকে পরিস্ফুট হয়েছে। এমন সরলীকরণ ব্যাখ্যা দিয়ে সাধারণ মানুষকে মোদী-বিরোধী করে তোলার একটা অপচেষ্টা যে আজকাল দেশ জুড়ে চলছে, তা বলাই বাহুল্য।

জহরবাবু লিখেছেন ‘মোদী সরকার যে ভাবে রোহিঙ্গা সমস্যার মোকাবিলা করছে, তাতে কেবল বিশ্বের গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষরাই হতাশ হননি, জনসংখ্যায় বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশ ভারতের গণতন্ত্রপ্রিয় নাগরিকরাও যারপরনাই হতাশ’। যাঁরা এমন হতাশা বোধ করছেন, তাঁরাই কেবল ভারতবর্ষের একমাত্র গণতন্ত্রপ্রিয় মানুষ, আর বাকি কোটি কোটি মানুষ, যাঁরা হতাশ হওয়ার মতো কোনও যুক্তি খুঁজে পাচ্ছেন না, তাঁরা সবাই অগণতান্ত্রিক? এই তথ্য কোথা থেকে মিলল? ভারতবর্ষের তথাকথিত কিছু মানবাধিকারের পূজারী, যাঁরা দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেন না, দেশকে বাজি রেখে যাঁরা ক্ষুদ্র রাজনীতির পরিসর বাড়াতে আগ্রহী, দেশে জঙ্গি নিধন হলে যাঁদের মানবাধিকার উথলে উঠে, অথচ সেই জঙ্গিদের হাতেই দেশের বীর সৈনিকরা নিহত হলে যাঁদের মানবাধিকার কর্পূরের মতো উবে যায়— তাঁরাই কেবল রোহিঙ্গা বিষয়ে মোদী সরকারের সমালোচনা করছেন। বিশ্বের আর কোনও দেশ রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে ভারতের সমালোচনা করেছেন বলে জানা যায়নি। প্রতিবেশী দেশ ভুটান, নেপাল, শ্রীলংকা, এমনকী বাংলাদেশও না।

কিছু দিন আগে বাংলাদেশের এক মন্ত্রী ভারতে এসে বাংলাদেশে রোহিঙ্গাদের জন্য পাঠানো ত্রাণসামগ্রী নিয়ে ভারতের প্রশংসা করেন এবং অনুরোধ জানান মায়ানমারের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে, যাতে রোহিঙ্গারা সে দেশে ফিরে যেতে পারে। এটা ঠিক যে, একটা সম্প্রদায়ের সকলে জঙ্গি নয়। তবে একশো জন সন্ত্রাসী এক লক্ষ না হলেও দশ হাজার জনকে ধর্মীয় আবেগ দিয়ে সন্ত্রাসী করে তুলতে পারে। কাশ্মীরে জঙ্গি কার্যকলাপ বা বিশ্ব জুড়ে আইসিস বা ইসলামিক জেহাদি গোষ্ঠীর গণহত্যা কি সেই কথা প্রমাণ করছে না? মানবাধিকার কি সেখানে মাথা তুলতে পারে?

নিশ্চয়ই রোহিঙ্গা সমস্যার একটা মানবিক সমাধান হওয়া উচিত এবং সেটা রাষ্ট্রপুঞ্জকে করতে হবে। ভারত তাতে সহযোগিতা করতে পারে মাত্র। তার নিজস্ব সামাজিক, অর্থনৈতিক ও বেকারত্বের সমস্যা রয়েছে। এই সমস্ত সমস্যার সুষ্ঠু সমাধান এখনও হয়নি। তার ওপর ভারতে এখনও হাজার হাজার অনুপ্রবেশকে জায়গা করে দেওয়া হচ্ছে শুধুমাত্র রাজনৈতিক কারণে। অসমের বহু অঞ্চলের নাগরিকরা অনুপ্রবেশকারীদের তুলনায় আজ সংখ্যালঘু হয়ে পড়েছেন। এর পর রোহিঙ্গাদের জায়গা দিলে তাঁরাও যে এক দিন ভারতের সংরক্ষণ ব্যবস্থার দাবিদার হয়ে উঠবেন না বা দাবি আদায়ে জঙ্গি কার্যকলাপে হাত পাকাবেন না, তা কে বলতে পারে!

ভারতের বিশ্বের দরবারে নতুন করে প্রমাণ করার কিছু নেই। ভারত বহু বছর আগে যা বলেছে, ‘পাকিস্তান একটি সন্ত্রাসবাদী রাষ্ট্র’, আজ সমস্ত বিশ্ব তা বলছে। রোহিঙ্গারা হিন্দু হলে মানবতাবাদীদের রোহিঙ্গাপ্রীতি এমন ভাবে উপচে পড়ত কি?

মিহির কানুনগো কলকাতা-৮১

চিঠিপত্র পাঠানোর ঠিকানা

সম্পাদক সমীপেষু,

৬ প্রফুল্ল সরকার স্ট্রিট, কলকাতা-৭০০০০১।

ই-মেল: letters@abp.in

যোগাযোগের নম্বর থাকলে ভাল হয়

আনন্দবাজার অনলাইন এখন

হোয়াট্‌সঅ্যাপেও

ফলো করুন
অন্য মাধ্যমগুলি:
আরও পড়ুন
Advertisement